• এফ এ কাপ
  • " />

     

    ল্যাম্পার্ডের দুর্ভাগ্যের দিনে আরতেতার ইতিহাস

             ফুলটাইম 

    আর্সেনাল ২:  ১ চেলসি


    দিশেহারা একটা দলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন মৌসুমের মাঝপথে। নিজেরও হাল ধরার খুব একটা অভিজ্ঞতা ছিল না, তারপরও আর্সেনালের প্রথম মৌসুমটা স্মরণীয়ই হয়ে থাকল মিকায়েল আরতেতার জন্য। পিয়েরে এমেরিক অবামেয়াংয়ের জোড়া গোলে এফএ কাপ জিতে মৌসুম শেষ করতে পেরেছেন, পেয়েছেন ম্যানেজেরিয়াল ক্যারিয়ারের প্রথম শিরোপা। চেলসিকে ২-১ গোলে হারিয়ে ১৪তম এফএ কাপ পেয়েছে আর্সেনাল, আর সেই সঙ্গে নিশ্চিত হয়েছে ইউরোপা লিগ খেলাও। আর আর্সেনালের খেলোয়াড়-ম্যানেজার হিসেবে প্রথম এফএ কাপ জিতলেন আরতেতা।

    ফ্রাংক ল্যাম্পার্ড অবশ্য নিজেকে কিছুটা দুর্ভাগা ভাবতে পারেন। চোটের জন্য ম্যাচের আয়ু অর্ধেক গড়ানোর পরেই দুই নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়কে হারিয়েছেন। রেফারির কিছু সিদ্ধান্ত বিপক্ষে গেছে তাদের, ‘সফট’ দুইটি কার্ড খেয়ে মাঠের বাইরে চলে গেছেন মাতেও কোভাচিচ। প্রথম এফএ কাপের শিরোপা তাই অধরাই থেকে গেছে তাদের। একের পর এক চোটে ম্যাচের শেষটাও হয়েছে ভুলে যাওয়ার মতো।


    জমজমাট প্রথমার্ধে প্রথম তিন মিনিটের মধ্যে দুইটি সুযোগ পেয়ে যায় দুই দল। অমাবেয়াং তার হেড পোস্টে রাখতে পারেননি, মিনিটখানেক পর ম্যাসন মাউন্টের শট বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে ফিরিয়ে দেন আর্সেনাল গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।

    তবে গোলের জন্য খুব বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি চেলসিকে। ৫ মিনিটেই দারুণ একটা আক্রমণ থেকে বাঁদিকে বল পেয়ে যান মাউন্ট। সেটা জিরুর ব্যাকহিল হয়ে এসে পড়ে পুলিসিচের পায়ে। বক্সের ভেতর একজনকে কাটিয়ে বলটা জালে ঠেলে দেন আমেরিকান ফরোয়ার্ড, চেলসি পেয়ে যায় ফাইনালের প্রথম গোল। এফএ কাপের ফাইনালে এর আগে কোনো আমেরিকান গোল করেননি।

    গোল খাওয়ার পর একটু একটু করে গুছিয়ে নিতে থাকে আর্সেনাল। ৩-৪-৩ ফর্মেশনে উইংব্যাক মাইটল্যান্ড-নিলস ওভারল্যাপ করছিলেন বার বার। নিকোলাস পেপে গোল করলেও অফসাইডের জন্য তা বাতিল হয়ে যায়। তবে ২৮ মিনিটে সমতা ফেরায় আর্সেনাল। বাতাসে ভেসে আসা লম্বা বলটা ধরে ফেলেছিলেন পিয়েরে এমেরিক অবামেয়াং। পেছন থেকে কাঁধে হাত দিয়ে বাধা দিয়েছিলেন চেলসির সেজার আজপিলিকুয়েতা, পড়ে যান অবামেয়াং। পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। ভিএআর বার বার দেখছিল তিনটি ব্যাপার। এটি ফাউল ছিল কি না, পেনাল্টি বক্সের ভিতরে ছিল কি না আর হলুদ কার্ডটা লাল কার্ড হতে পারত কি না। শেষ পর্যন্ত রেফারির সিদ্ধান্তই বহাল থাকে সবগুলো। পেনাল্টি থেকে ঠাণ্ডা মাথায় গোল করে সমতা ফেরান অবামেয়াং। ৩১ বছর বয়সে গোল করে ১৯৩২ সালের পর এফএ কাপ ফাইনালে আর্সেনালের সবচেয়ে বয়স্ক গোলদাতাও হলেন এই স্ট্রাইকার। প্রথমার্ধে চেলসির সমস্যাটা এরপর বারও বেড়েছে, চোট পেয়ে উঠে গেছেন আজপিলিকুয়েতা। লাকাজেতের ফ্রিকিক চলে গেছে পোস্টের পাশ দিয়ে, প্রথমার্ধে মানসিকভাবে একটু এগিয়ে থেকেই শেষ করেছে আর্সেনাল।

    ৪৮ মিনিতে বড় আরেকটা ধাক্কা খায় চেলসি। একটা আক্রমণ থেকে দৌড়ের সময় হ্যামস্ট্রিংয়ে টান পড়ে পুলিসিচের, ওই অবস্থায় যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে শট করলেও পোস্টে রাখতে পারেননি। কিন্তু মাঠের বাইরে চলে যেতে হয়েছে ঠিকই। তার জায়গায় মাঠে নেমেছেন পেদ্রো।

    ৬৮ মিনিটে শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় গোলটা পেয়ে যায় আর্সেনাল। এবার হেক্টর বেলেরিনের দুর্দান্ত একটা দৌড়ে চেলসির রক্ষণ তাল হারিয়ে ফেলে। ক্রিশ্চেনসন ট্যাকল করেছিলেন, কিন্তু বলটা গিয়ে পড়ে নিকোলাস পেপের কাছে। তার কাছ থেকে পাস পান অবামেয়াং। এরপর দেখালেন তার জাত। ডজ দিয়ে বোকা বানালেন রুডিগারকে, যেমন চ্যাম্পিয়নস লিগে মেসি বানিয়েছিলেন বোয়েটাংকে। এরপর বাঁ পায়ের ঠাণ্ডা মাথার দুর্দান্ত এক চিপে বল জড়িয়ে দেন জালে।

    চেলসির ম্যাচে ফেরার যেটুকু সম্ভাবনাও ছিল, তা শেষ হয়ে গেছে ৭৩ মিনিটে। দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছেন কোভাচিচ, যদিও বিতর্ক ছিল সিদ্ধান্তটি নিয়ে। মাথা নাড়তে নাড়তে নিজের অসন্তোষ জানিয়ে দিয়েছেন কোভাচিচ। ম্যাচের শেষদিকে ১০ জন নিয়েই লড়ছিল চেলসি, কিন্তু সমতা ফেরাতে আর পারেনি।

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন