• এফ এ কাপ
  • " />
    X
    GO11IPL2020

     

    ভুলে ভরা ইউনাইটেডকে বিদায় করে ফাইনালে চেলসি

    ফুলটাইম
    চেলসি ৩- ১ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড


    ওলে গানার সোলশারকে আরেকবার সুযোগ দেওয়া হলে এই ম্যাচের জন্য হয়ত ঢেলে নতুন করে পরিকল্পনা সাজাতেন। ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের সঙ্গে ডাগআউটের বুদ্ধিতে পেরে ওঠেননি তিনি, মাঠেও তার খেলোয়াড়রা ম্যাচটা বিলিয়েই দিয়ে এসেছেন চেলসিকে। তাতে মোটা দাগে ডেভিড ডি গিয়ার দুই ভুলের বড় দায় আছে। তৃতীয় গোলে দায় আছে অধিনায়ক হ্যারি ম্যাগুয়েরেরও। ৩ গোল খাওয়ার পর পেনাল্টি থেকে ব্রুনো ফার্নান্দেজ এক গোল শোধ দিয়েছিলেন। কিন্তু ততোক্ষণে দেরি হয়ে গেছে অনেক। এফএ কাপের সেমিফাইনাল জিতে তাই চেলসি উঠে গেছে ফাইনালে। আগস্টের ১ তারিখের ফাইনাল দেখবে লন্ডন ডার্বি। ওয়েম্বলিতে মুখো হবে আর্সেনাল ও চেলসি। 

    ম্যাচের আগে প্রতিপক্ষ দুই কোচের কথা উত্তাপ ছড়িয়েছিল ভালোই। সোলশারের অভিযোগ ছিল সেমিফাইনালের আগে চেলসির ৪৮ ঘন্টা বেশি বিশ্রাম পাওয়া নিয়ে। ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড তার জবাব দিয়েছিলেন অন্যভাবে। শেষ জবাবটা দিলেন মাঠে। মৌসুমে আগের ৩ দেখায় সোলশারের ইউনাইটেডের কাছে হারের পর শেষ হাসিটা হাসলেন ল্যাম্পার্ডই।


    ৩ জনের ব্যাকলাইন, পল পগবাবিহীন মিডফিল্ড, অ্যান্থনি মার্শিয়ালবিহীন আক্রমণভাগ নিয়ে একাদশ সাজিয়েছিলেন সোলশার। ইউনাইটেড পুরো ম্যাচেই সুবিধা করতে পারেনি। প্রথমার্ধ শেষের ঠিক আগে গিয়ে প্রথম ভুলটা করেন ডেভিড ডি গিয়া। ওর আগ পর্যন্ত ম্যাচে অবশ্য তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। চেলসির শরীরনির্ভর ফুটবলের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছিল না ইউনাটেড। তবে পজেশনে এগিয়ে থাকা চেলসিও আক্রমণে তেমন একটা ধারালো ছিল না। রিস জেমস দূরপাল্লার এক শট করেছিলেন গোলে, ডি গিয়া দারুণ সেভে তখন তাকে আটকে দিয়েছিলেন। অলিভিয়ের জিরুর প্রথম গোলের আগ পর্যন্ত ম্যাচের হাইলাইটস বলতে ছিল এটুকুই।

    সিজার আজপিলিকুয়েতার ডান প্রান্ত থেকে করা ক্রসে আউটসাউড অফ দ্য বুটের টোকায় বল ইউনাইটেডের জালে ঢুকিয়ে দেন জিরু। বলটা ডি গিয়া বরাবরই যাচ্ছিল, আরেকটু মনোযোগী হলে হয়ত ঠেকিয়েও দিতে পারতেন ইউনাইটেড গোলরক্ষক। এর কিছুক্ষণ আগে অবশ্য ইউনাইটডকে চোটের কারণেই পেছনে পড়তে হয়েছিল। বল দখলের লড়াইয়ে ম্যাগুয়ের আর এরিক বায়ির নিজেদের ভেতর সংঘর্ষের পর দুইজনই আঘাত পেয়েছিলেন। কিন্তু বায়ি আর মাঠে ফিরতে পারেননি। তার জায়গায় নামেন অ্যান্থনি মার্শিয়াল।

    প্রথম গোলে ডি গিয়ার পুরোপুরি দোষ দেওয়া যায় কি না সেটা নিয়ে আপনার সঙ্গে থাকতে পারে। কিন্তু দ্বিতীয় গোলে ডি গিয়া কিছুতেই দায় এড়াতে পারেননা। মেসন মাউন্ট বক্সের বাইরে থেকে নিচু শট নিয়েছিলেন। ডি গিয়ার হাত ফস্কে সেই বল খুঁজে নেয় ইউনাইটেডের জাল। ৪৬ মিনিটেই তখন ম্যাচ থেকেও ছিটকে যায় ইউনাইটেড।

    ডি গিয়া জাতীয় দলে যার কাছে জায়গা হারিয়েছেন সেই কেপা চেলসির একাদশে ছিলেন না। তার জায়গায় নেমেছিলেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক উইলফ্রেড ক্যাবেয়ারো। তার তেমন পরীক্ষাই নিতে পারেনি ইউনাইটেড।  উলটো দুই গোলে এগিয়ে থেকেও  প্রেসিং ঠিকঠাক করে ইউনাইটেডকে কখনই সেভাবে মাথা তুলে দাঁড়াতে দেয়নি চেলসি।

    ইউনাইটেডের সাড়ে সর্বনাশ হয়েছে ম্যাগুয়েরের আত্মঘাতী গোলে। ৭৪ মিনিটে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজের জালেই ঢুকে দিয়েছেন ইউনাইটেড ডিফেন্ডার। শেষে ৮৬ মিনিটে পেনাল্টি থেকে এক গোল করে ইউনাইটেডের তাই আর কোনো লাভই হয়নি।

    চেলসির কাছে হারের পর ইউনাইটেড নিশ্চিতভাবেই একটা সতর্কবার্তা পেয়ে গেছে। লিগে তাদের বাকি আর দুই ম্যাচ। প্রিমিয়ার লিগে অবশ্য টটেনহাম লেস্টার সিটিকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে দিয়ে চেলসি-ইউনাইটেডে দুই দলকেই লাভবান করেছে। শীর্ষ চারে থেকে পরের মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে অংশ নেওয়ার এখন দুই ক্লাবের হাতেই। পরের দুই ম্যাচ থেকে ৪ পয়েন্ট পেলে নিশ্চিত হবে ইউনাইটেডের চ্যাম্পিয়নস লিগ। সেক্ষেত্রে আর একটি ম্যাচ জিতলে ল্যাম্পার্ডের চেলসিও থেকে যাবে শীর্ষ চারে।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন