• চ্যাম্পিয়নস লিগ
  • " />

     

    ফ্লিকের ওভারট্রাম্প, নয়্যারের শেষ রাতের মার, ফুলব্যাকদের লড়াইঃ ফাইনালের ব্যবধান গড়ে দেওয়া পাঁচ কৌশল

    ট্যাকটিক্যাল একটা মাস্টারক্লাস দেখা গেল লিসবনে। একদিকে টমাস টুখলের পিএসজি, অন্যদিকে হানসি ফ্লিকের বায়ার্ন। দুই দলেই বিশ্বের সেরা সব টাকটিক্যাল খেলোয়াড়। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা বায়ার্ন ১-০ গোলে জিতল, তবে ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিয়েছে শুধু একটা গোল নয়, আরও ছোট ছোট কিছু ঘটনাও।

     

    ১) টুখলের ট্রাম্পের ওপর ফ্লিকের ওভারট্রাম্প 

    প্রথমার্ধে গোল না পেলেও যা যা করতে চান, তার সম্ভাব্য সবকিছুই করতে পেরেছেন টুখল। বায়ার্নের হাই লাইন ডিফেন্সকে চাপে রেখেছিলেন, নেইমার-এমবাপ্পে সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে এগিয়ে যেতে পারত পিএসজি অনায়াসেই। ফ্লিক প্রথমার্ধে ট্যাকটিকস ঠিকমতো ধরতে পারেননি। তবে প্রেস করতে করতে পিএসজির দুই ফুলব্যাক যখন কিছুটা ক্লান্ত, এরপরেই ফ্লিকের দল ঘুরে দাঁড়াল দারুণভাবে। পেরিসিচের জায়গায় একাদশে কোমানকে নামিয়ে দিনের সবচেয়ে বড় জুয়াটাও জিতে নিলেন ফ্লিক। দারুণ দ্বিতীয়ার্ধে শেষ পর্যন্ত পিএসজি আর কিছুই করতে পারেনি।.


     

    ২)  নয়্যার দেখালেন কেন তিনি সেরা 

    ক্যাসিয়াস-বুফনের সঙ্গে অনেক সময় এক ব্র্যাকেটে নেওয়া হয় না নয়্যারের নাম। এই মৌসুমের আগে বলা হচ্ছিল সেরা সময়টা হয়তো পেছনে ফেলে এসেছেন। তবে চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্যায়ে এসে নয়্যার দেখালেন কেন তিনি এখনো বিশ্বসেরাই শুধু নন, সর্বকালের সেরাদের ছোট্ট তালিকায়ও থাকতে পারেন। সুইপার কিপার হিসেবে নিচ থেকে খেলা গড়েছেন, নস্যাত করেছেন প্রতিপক্ষের আক্রমণ। আর একের পর এক দুর্দান্ত সেভ তো করেছেনই। বলতে গেলে একাই ঠেকিয়ে রেখেছেন নেইমার- এমবাপ্পেকে। খুব সম্ভবত আজকের ফাইনালের ম্যাচ সেরার পুরস্কারও তার প্রাপ্য।.

     

    ৩) থিয়াগো মধ্যমাঠ দাপটে বায়ার্নের ভরসা 

    প্রথমার্ধে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিতেই পারেনি বায়ার্ন। পারেদেস-হেরেরা আর মারকিনিয়স মিলে তেমনভাবে আক্রমণ গড়তে দেননি বায়ার্নকে। তবে এর মধ্যেও থিয়াগো আলকান্তারা বল নিজের দখলে রেখেছিলেন। দ্বিতীয়ার্ধে আরো দুর্দান্ত হয়ে ওঠেন, পরে অবশ্য নামিয়ে দেওয়া হয় তাকে। নয়্যার যদি বায়ার্নের সেরা হয়, তাহলে থিয়াগোকে দ্বিতীয় সেরা বলাই যায়।

     

    ৪) পেপেকে মনে করিয়ে দেওয়া মার্কিনিয়স

    ২০১১ সালে ক্লাসিকোতে পেপের সেই ভূমিকার কথা মনে আছে? ডিফেন্সিভ মিডে খেলে বার্সার মধ্যমাঠকে নিষ্ক্রিয় করে রেখেছিলেন অনেকটা। মার্কিনিয়সও ডিফেন্সিভ মিডের ভূমিকায় আজ ছিলেন দুর্দান্ত। বায়ার্নের মুলারকে একদম পকেটে ভরে রেখেছিলেন, লেভানডফস্কিকেও সেভাবে গোলের সুযোগ দেননি। দল না পারলেও এই ব্রাজিলিয়ান সম্ভবত ছিলেন পিএসজির ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়।

    ৫)  ফুলব্যাকদের লড়াইয়ে শেষ হাসি কিমিখের 

    আজকের ম্যাচটা আলাদা করে মনে থাকবে ফুলব্যাকদের লড়াইয়ের জন্য। প্রথমার্ধে পিএসজির দুই ফুলব্যাক কেহরার আর বার্নাত চমকে দিয়েছিলেন বায়ার্নকে। আলফন্সো ডেভিসকে প্রেস করে ভুল করতেও বাধ্য করেছেন কেহরার, বার্নাতও ছিলেন দুর্দান্ত। ওদিকে ডেভিস আর কিমিখ বরং সেভাবে কিছু করতে পারেননি। দ্বিতীয়ার্ধে সেই কিমিখই শেষ পর্যন্ত ডান দিক থেকে ক্রস করে গোল করালেন। এরপর পিএসজির দুই ফুলব্যাক সেখানে আর কিছু করতে পারেননি। 

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন