• ক্রিকেটে ফেরা
  • " />

     

    'টেস্টের আবহে ব্যাটিংয়ের চেষ্টার' পর প্রস্তুতি ম্যাচে মুমিনুলের সেঞ্চুরি

    'টেস্টের আবহে ব্যাটিংয়ের চেষ্টার' পর প্রস্তুতি ম্যাচে মুমিনুলের সেঞ্চুরি    

    ওটিস গিবসন একাদশ ২৩০ অল-আউট (সাইফ ৬৪, সৌম্য ৫১, তাসকিন ৩/৪৫, তাইজুল ৩/৭০)
    রায়ান কুক একাদশ ২৪৮/৫ (মুমিনুল ১১৭, মিঠুন ৬২, এবাদত ২/৩৪, মাহমুদউল্লাহ ১/২১)
    ম্যাচ ড্র


    দুই নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু ও হাবিবুল বাশার সুমনের সঙ্গে দাঁড়িয়ে গেম অপারেশনস কমিটির নাইমুর রহমান দূর্জয় ও খালেদ মাহমুদ সুজন। শের-ই-বাংলার ভিআইপি গ্যালারিতে, বিসিবি কার্যালয়ের ঢোকার সামনের দিকে। বায়ো-সিকিউর বলয়ের বাইরে থেকে দেখছিলেন ওটিস গিবসন ও রায়ান কুক একাদশের দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ। 

    অন্য সময় হলে এ প্রস্তুতি ম্যাচ দল নির্বাচনের একটা মানদন্ড হতে পারতো। সেটি হয়তো এখনও আছে, তবে খুব শীঘ্রই আন্তর্জাতিক সিরিজ নেই বলে হয়তো এ ম্যাচ শুধু ক্রিকেটারদের এক ঝলক দেখার সুযোগই করে দিল নান্নুদের। আর সব কিছু ছাপিয়ে এ ম্যাচটা যে ক্রিকেটে ফেরার একটা উপলক্ষ্য। 

    সময়ের হিসেবে ১৯৯ দিন পর প্রতিদ্বন্দ্বীতামূলক ক্রিকেট খেলতে নেমেছিলেন শ্রীলঙ্কা সফরের জন্য ক্যাম্পে ডাকা প্রাথমিক স্কোয়াডের ক্রিকেটাররা। প্রথম দিন তাসকিন আহমেদ ছিলেন উজ্জ্বল, এদিন মুমিনুল হক। দ্বিতীয় দিন সেঞ্চুরি পেয়েছেন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক, ২৩০ রানে অল-আউট হওয়া গিবসন একাদশের জবাবে কুক একাদশ ৫ উইকেটে করেছে ২৪৮ রান। 

    দুদিনই বৃষ্টি বাধা পেরিয়ে দুই দলই খেলতে পেরেছে এক ইনিংস করেই। দ্বিতীয় দিন শুরুতেই সাদমান ইসলাম, ইয়াসির আলি রাব্বি ও মুশফিকুর রহিম ফিরেছিলেন তাড়াতাড়িই, এরপর মোহাম্মদ মিঠুনের সঙ্গে মুমিনুলের জুটিতে এসেছে ১৫৭ রান। ১১৯ বলে ৬২ রান করে ফিরেছেন মিঠুন, আর মুমিনুল নিয়েছেন অবসর। 

    তার আগে বাংলাদেশ অধিনায়ক ১১৭ রান করেছেন ২২০ বলে। ১৪টি চারের সঙ্গে মেরেছেন একটি ছয়। সেঞ্চুরি-টেঞ্চুরি ছাপিয়ে মুমিনুলকে স্বস্তি দিচ্ছে উইকেটে টিকে থাকার ব্যাপারটা, “খেলা শুরুর আগে একটু টেনশনে ছিলাম। মানুষ তো, টেনশন স্বাভাবিক। শেষ ৬-৭ মাস খেলি নাই, শুধু অনুশীলন করে গেছি। প্রথমে একটু নার্ভাস ছিলাম।
     

    মাহমুদউল্লাহর উইকেটের পর নুরুল হাসান সোহান ও তাইজুল ইসলামের সঙ্গে তাসকিন আহমেদের উদযাপন/বিসিবি


    “দেখেন আমরা যখন টেস্ট শুরু করব, নতুন করে শুরু করতে হবে। টেস্টের যেমন পরিবেশ থাকে, পরিস্থিতি থাকে, সেভাবে শুরু করার চেষ্টা করছিলাম। ব্যাটসম্যানরা যাতে সারাদিন ব্যাটিং করতে পারি, কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারি।” মুমিনুল অবশ্য সেটি করেছেনও। খারাপ বলের অপেক্ষায় থেকেছেন, টিকে থেকেছেন। 

    এসবের সঙ্গে তাকে স্বস্তি দিচ্ছে পেসারদের পারফরম্যান্সও। আগেরদিন ম্যাচের বিরতিতে জুম প্রেস কনফারেন্সে তাসকিন আহমেদকে নিয়ে নিজের মুগ্ধতার কথা জানিয়েছিলেন হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। তার ফিটনেস, ছন্দ দেখে বেশ খুশি ছিলেন তিনি। তাসকিন শেষ পর্যন্ত করেছিলেন ১৭ ওভার, ৪ মেইডেনসহ ৪৫ রানে নিয়েছিলেন ৩ উইকেট। এদিন সকালে তাসকিনকে অনুসরণ করলেন এবাদত, শেষ পর্যন্ত নিয়েছেন ২ উইকেট। আগেরদিন ৩ উইকেট নিয়েছেন তাইজুল, স্পিনে ২ উইকেট পেয়েছিলেন মিঠুনও। 

    গিবসন একাদশের হয়ে ফিফটি পেয়েছিলেন ওপেনার সাইফ হাসান, কদিন আগেই কোভিড-১৯ থেকে মুক্ত হয়ে তিনি করেছিলেন ৮৬ বলে ৬৪। আরেকটি ফিফটি করেছিলেন সৌম্য সরকার, ছয়ে নেমে ৭৪ বলে করেছিলেন ৫১ রান। টেস্টে ফেরার লড়াইয়ে থাকা মাহমুদউল্লাহ তাসকিনের বলে আউট হওয়ার করেছিলেন ৩৪। 

    “আমাদের অনুশীলন ভাল হয়েছে, বিশেষ করে পেসাররা, যারা রান পেয়েছে তাদের জন্য। আমি খুব উপভোগ করেছি, বিশেষ করে পেসাররা খুব ভাল বোলিং করেছে”, ম্যাচশেষে বলেছেন মুমিনুল। 

    এই ম্যাচের একাদশে ছিলেন না তামিম ইকবাল, চোটের কারণে বিশ্রামে ছিলেন তিনি। আর কোভিড-১৯ এ নেগেটিভ হলেও সতর্কতা হিসেবে খেলানো হয়নি পেসার আবু জায়েদ রাহিকে। সূত্রমতে, বায়ো-সিকিউর বলয় ছেড়ে সিলেটে নিজের বাসায় গেছেন তিনি। অন্যরা ঢাকায় হোটেলে থাকলেও রাহি বিসিবির একাডেমিতে ছিলেন আইসোলেশনে।  

    রবিবার বিশ্রামের পর সোমবার থেকে আরেকটি দুদিনের আন্তঃস্কোয়াড প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা আছে বাংলাদেশের।