• চ্যাম্পিয়নস লিগ
  • " />
    X
    GO11IPL2020

     

    শেষ মুহুর্তের গোলে জার্মানিতে হার এড়াল রিয়াল

    ফুল টাইম

    মনশেনগ্লাডবাখ ২ - ২ রিয়াল মাদ্রিদ


    গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে হারের পর আরও একটি হার চোখ রাঙাচ্ছিল রিয়াল মাদ্রিদকে। ৮৬ মিনিট পর্যন্তও ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা ম্যাচে পরে কোনোমতে হার এড়িয়েছে রিয়াল। করিম বেনজেমা ৮৭ মিনিটে গোল করেছিলেন, পরে যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে কাসেমিরো গোল করে দলকে উদ্ধার করেছেন।

    লা লিগায় কাদিজ আর চ্যাম্পিয়নস লিগে শাখতারের বিপক্ষে হেরে কয়েকদিন আগেও ধুঁকছিল রিয়াল। তবে ন্যু ক্যাম্পে গিয়ে দাপটের সঙ্গে এল ক্লাসিকো জিতে হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছিল তারা। তবে মনশেনগ্লাডবাখের আবারও সেই নড়বড়ে রিয়ালের দেখা মিলল। শেষ দিকের দুই গোলে এক পয়েন্ট পেলেও এই পয়েন্ট মোটেও সন্তুষ্ট করবে না জিদানকে।


    বল দখলের লড়াইয়ে এবং আক্রমণের দিক দিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ শুরু থেকে এগিয়ে থাকলেও প্রথমে কাজের কাজটি আগে করে দেখিয়েছে মনশেনগ্লাডবাখ। ৩৩ মিনিটে দারুণ একটি প্রতি আক্রমণ থেকে মাদ্রিদের গোলে নিজেদের প্রথম শটেই সাফল্য পায় জার্মান ক্লাবটি। নিজেদের অর্ধে বাজে হেডারে রাফায়েল ভারান পজেশন হারানোর পর আক্রমণ শুরু করে মনশেনগ্লাডবাখ। আলাসানে প্লিয়া ডান দারুণ এক ক্রস করেন থুরামের উদ্দেশ্যে, দর্শনীয় এক ফার্স্ট টাইম শটে মাদ্রিদের টপ কর্নার কাঁপিয়ে দিয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।

    ম্যাচের শুরু থেকেই মাদ্রিদ অনেকগুলো সেটপিস পেয়েছে, একটিও কাজে লাগাতে পারেনি। প্রতিপক্ষের বক্সে তাদের আনাগোনা ছিল বেশ, তবে সেখানে পাসিংয়ে ঘাটতি ছিল তাদের। এল ক্লাসিকো জয়ের ফলে পাওয়া আত্মবিশ্বাস মাদ্রিদের খেলোয়াড়দের মাঝে শুরুর দিকে দেখা গিয়েছিল, তবে যতটা সময় গড়িয়েছে ততই সেটা ফিকে হয়ে এসেছে। প্রথম ২০-২৫ মিনিট অনেক চেষ্টা করেও মনশেনগ্লাডবাখের রক্ষণ ভেদ করতে না পারার পর সেই শাখতার এবং কাদিজের বিপক্ষে হারের স্মৃতি হয়তো উঁকি দিচ্ছিল তাদের মনে।

    আর সেই ভয়ই শেষ পর্যন্ত কাল হয়েছে। মনশেনগ্লাডবাখের এক মুহূর্তের জাদুতে ম্যাচে পিছিয়ে গেছে মাদ্রিদ। গোলের পর মাদ্রিদের অবস্থান আরও নড়বড়ে হয়েছে, আর এত সহজে মাদ্রিদের রক্ষণ গুঁড়িয়ে দিতে পারার বিষয়টি আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে মনশেনগ্লাডবাখের। পিছিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করেছে মাদ্রিদ। 

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিল রিয়াল। আসেনসিওর শট বারে লেগে ফিরে আসে। তবে সেখানেই শেষ রিয়ালের গল্প। এরপর স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নদের পুরোপুরি চেপে ধরেছে মনশেনগ্লাডবাখ। আর তার সুবাদেই ৫৮ মিনিটে ব্যবধান বাড়াতে পেরেছে তারা। বক্সের সামনে থেকে প্লিয়ার শট কোর্তোয়া ঠেকিয়ে দিলেও বল গিয়ে পড়ে ছয় ইয়ার্ড বক্সের মাঝে থাকা থুরামের পায়ে। সোজা ট্যাপ ফিনিশে ম্যাচে নিজের এবং দলের দ্বিতীয় গোল করেন ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা লিলিয়ান থুরামের ছেলে মার্কাস থুরাম।

    ৬১ এবং ৬৫ মিনিটে প্লিয়া ও স্টিনডল ম্যাচে রিয়ালকে ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে একটুর জন্য গোল মিস করেছেন দুজনই। ৭০ মিনিটে ভিনিসিয়াসের বদলি হিসেবে সদ্য চোট থেকে ফেরা ইডেন হ্যাজার্ডকে এবং ক্রুসের বদলি হিসেবে লুকা মডরিচকে মাঠে নামান জিদান।

    অবশেষে ৮৭ মিনিটে ম্যাচে প্রথমবারের মতো সফলভাবে মনশেনগ্লাডবাখের গোল খুঁজে পায় রিয়াল মাদ্রিদ। ডান প্রান্ত থেকে ফেদে ভালভার্দের ক্রসটি যখন মনে হচ্ছিল বাইলাইন পার হয়ে যাচ্ছে, তখনই দুর্দান্তভাবে হেডে বেনজেমার উদ্দেশ্যে কাটব্যাক করেন কাসেমিরো। গোলের একেবারে সামনে থেকে বুদ্ধিদীপ্ত ফিনিশে ব্যবধান কমান বেনজেমা। আর অতিরিক্ত সময়েও প্রায় একই কায়দায় আরেকটি গোল তুলে নেয় রিয়াল। মডরিচের ডান প্রান্ত থেকে করা ক্রসে সার্জিও রামোস হেডে বল ফেলেন গোলের সামনে। সিক্স ইয়ার্ড বক্স থেকে কাসেমিরো বল জালে পাঠিয়ে মাদ্রিদকে চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা দুই হারের হাত থেকে বাঁচান দলকে। 

    মনশেনগ্লাডবাখ একাদশ

    সোমার, লাইনার, জিন্টার, এলভেদি, বেনসেবাইনি, ক্রেমার, নেউহাস, হফমান, স্টিনডল, থুরাম, প্লিয়া

    রিয়াল মাদ্রিদ একাদশ

    কোর্তোয়া, মেন্ডি, রামোস, ভারান, ভাজকেজ, ক্রুস, কাসেমিরো, ভালভার্দে, ভিনিসিয়াস, বেনজেমা, আসেনসিও

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন