• চ্যাম্পিয়নস লিগ
  • " />
    X
    GO11IPL2020

     

    একগাদা সুযোগ হাতছাড়া করেও জুভেন্টাসকে সহজেই হারাল বার্সা

    ফুলটাইম
    জুভেন্টাস ০-২ বার্সেলোনা


    বক্সের ভেতর জুভেন্টাস গোলরক্ষককে একা পেয়ে গিয়েছিলেন আনসু ফাতি। নিজে শট করলেই গোল পাওয়ার   সুযোগ বাড়ত আরও। ফাতি শট না করে বক্সের ভেতর ডানপাশে বল বাড়ালেন মার্টিন ব্রাথওয়েটের জন্য। তিনি সে বলের নাগালও পেলেন না। তুরিনে বার্সেলোনা আর জুভেন্টাস ম্যাচের এই খন্ডচিত্র হয়ে থাকল পুরো ম্যাচের প্রতিচ্ছবি। জুভেন্টাসের গোলের সামনে বারবার হানা দিয়েও বার সিদ্ধান্তহীনতায় সুযোগ হাতছাড়া করেছে বার্সা। নইলে সহজেই জয়ের ব্যবধান বাড়াতে পারত বার্সা।

    উসমান দেম্বেলে ম্যাচের ১৪ মিনিটে এক ডিফলেকটেড শটে বক্সের বাইরে থেকে গোল করেছিলেন। ওই গোলের পর আন্দ্রেয়া পিরলোর জুভেন্টাস ম্যাচের বেশিরভাগটা সময়ই পার করেছে বার্সার আক্রমণ সামলাতে। এর ফাঁকে আলভারো মোরাতা অবশ্য তিনবার বার্সার জালে বল পাঠিয়ে তিনবারই হতাশ হয়েছেন। প্রতিবারই অফসাইডে ছিলেন জুভেন্টাস স্ট্রাইকার। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে লিওনেল মেসি নিশ্চিত করেছেন দলের জয়।


    কোভিড টেস্টে উতরাতে না পারায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো যে বার্সার বিপক্ষে খেলছেন না সেটা আগেই নিশ্চিত হয়ে ছিল। রোনালদো না থাকায় এই ম্যাচের আকর্ষণ কমেছিল বটে, তবে দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ শুরুর পর ম্যাচটা জমেও উঠেছিল। সাবেক জুভেন্টাস মিডফিল্ডার মিরালেম পিয়ানিচই শুরুটা করেছিলেন। বক্সের বাইরে থেকে করা তার শট প্রথমে ঠেকিয়ে দিয়েছেন সেজনি। ওই আক্রমণ থেকেই আন্টোয়ান গ্রিযমান বাম পায়ের জোরালো শটে কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন জুভেন্টাসের গোলবার। পরের মিনিটে অন্যপ্রান্তে পিয়ানিচের তুরিনে ফেরাটা দুঃস্বপ্নে পরিণত করতে পারতেন দেয়ান কুলুসেলভস্কি। কিন্তু তার ব্যাকপাস থেকে বক্সের ভেতর বল পেয়েও সেটা আর নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি জুভেন্টাসের তরুণ উইঙ্গার। এসব কিছুই তুরিনে ঘটেছে ম্যাচের ১০ মিনিটের ভেতর।

    ফিলিপ কৌতিনহোর অনুপস্থিতিতে আনসু ফাতিকে বেঞ্চে বসিয়ে রেখেছিলেন কোমান। বার্সা মাঠে নেমেছিল গ্রিযমান-মেসি আর দেম্বেলেকে নিয়ে, তাদের পেছনে ছিলেন পেদ্রি। ১৪ মিনিটে দেম্বেলের গোলে আক্রমণটা মেসিই শুরু করেছিলেন। বাম প্রান্ত থেকে নিখুঁত ডায়াগোনাল লং শটে বিপরীত প্রান্তে থাকা দেম্বেলেকে খুঁজে নেন মেসি। দ্রুতই বক্সের সামনে গিয়ে এরপর কোণাকুণি জায়গা থেকে গোলে শট মেরে দেন এরপর দেম্বেলে। সেটাই জুভেন্টাস ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে ঢুকে পড়ে জুভেন্টাসের জালে।

    মোরাতার মন্দ কপালের শুরু পরের মিনিট থেকে। নেতোকে একা পেয়ে বার্সার জালে বল পুরে উদযাপনে মাতার আগেই অফসাইডের বাঁশিতে হতাশ হয়েছেন তিনি। এরপর প্রথমার্ধে আরও একবার আশাহত হতে হয়েছে তাকে। এই দুই ঘটনার আগে পরে ম্যাচ দেখেছে বার্সার দাপট। ২৩ মিনিটে মেসি-গ্রিযমান ওয়ান-টু করে জুভেন্টাসের বক্সের ঢুকে পড়েছিলেন। মেসি তখন স্বভাববিরুদ্ধে এক শটে বল মেরেছেন বাইরে দিয়ে। কিছুক্ষণ পর দেম্বলে আর গ্রিযমান একই আক্রমণ থেকে অন্তত দুইবার করে গোলে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। জটলার ভেতর দুইজনের কেউই কাজের কাজটা করতে পারেননি।

    আগের ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় জেরার্ড পিকে ছিলেন না বার্সার রক্ষণে। তার জায়গায় নামা রোনাল্ডো আরাউহোও বিরতির পর আর মাঠে নামেননি চোট নিয়ে। ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং তখন চলে যান রক্ষণে। আর বদলি হিসেবে মাঠে নামেন সার্জিও বুসকেটস। বার্সার ওই রক্ষণের বিপরীতেও পাউলো দিবালারা হতাশ করেছেন। ৫৫ মিনিটে মোরাতা আরেকবার বল জালে জড়ান, এবার অবশ্য আগের দুইবারের মতো মাঠের রেফারির নির্দেশে গোল বাতিল হয়নি। ভিএআর তখন জানিয়ে দেয়, এবারও মোরাতার গোল পাওয়া হচ্ছে না।

    রক্ষণে দুর্বলতা ছিল জুভেন্টাসেরও। জর্জিও কিয়েলিনি, ম্যাথিয়াস ডি লিট- দুইজনের একজনও চোটের কারণে খেলতে পারেননি। লিওনার্দো বনুচ্চি বাম পাশে মারেহ ডেমিরাল, ডানপাশে দানিলোকে নিয়ে তিনজনের ব্যাকলাইনে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। তবে বার্সা যেভাবে ফাঁক-ফোকর খুঁজে জুভেন্টাসের বক্সে ঢুকে যাচ্ছিল তাতে মোটেই স্বস্তি মিলছিল না বনুচ্চিদের।

    মেসির বক্সের বাইরে থেকে করা শট ৬৫ মিনিটে বাইরে দিয়ে গেলে হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছে জুভেন্টাস। এরপর গ্রিযমান আরও একবার আড়াআড়ি শটে বল মারে বারপোস্টে, এবার তার শট বেরিয়ে যায় দূরের পোস্ট ঘেঁষে। শেষ পর্যন্ত গ্রিযমানেরও আর মৌসুমের প্রথম গোল পাওয়া হয়নি, মেসিও ওপেন প্লে- থেকে প্রথম গোলের অপেক্ষা বাড়িয়েছেন।

    ৮৫ মিনিটে ডেমিরাল দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার পর বার্সার কাজ সহজ হয়ে যায় আরও। গ্রিযমানের বদলি হিসেবে ম্যাচের শেষদিকে খেলতে নামা ফাতি আদায় করে নেন পেনাল্টি। সেজনিকে ভুল দিকে পাঠিয়ে মেসি কাঙ্ক্ষিত জয় নিশ্চিত করে ফেলেন তখন।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন