• চ্যাম্পিয়নস লিগ
  • " />
    X
    GO11IPL2020

     

    শুরুতে এগিয়ে গিয়েও লাইপজিগের কাছে হারল ৯ জনের পিএসজি

    ফুলটাইম
    লাইপজিগ ২-১ পিএসজি


    নেইমার আগে থেকেই ছিলেন না, কিলিয়ান এমবাপেকেও ম্যাচের আগে চোটের কারণে হারিয়ে ফেলেছিল পিএসজি। দলের মূল দুই ভরসা ছাড়া জার্মানিতে নাজেহাল হয়ে আরও একবার হার সঙ্গী হয়েছে গতবারের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালিস্টদের। শুরুতে এগিয়ে গিয়েও উলিয়ান নাগেলসমানের লাইপজিগের কাছে হেরেছে থমাস তুখলের পিএসজি। লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছেন ইদ্রিসা গায়া ও প্রেসনেল কিমপেম্বে, তাই পিএসজি ম্যাচ শেষ করেছে ৯ জন নিয়ে। 

    গ্রুপ পর্বের তৃতীয় ম্যাচে দ্বিতীয় হারের পর এখন নক আউট পর্বে ওঠাই শঙ্কার মুখে পড়ে গেছে পিএসজির। এর আগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ইস্তাম্বুল বাসেকসেহেরিরের কাছে ২-১ গোলে হেরেছে। এখন গ্রুপের শীর্ষে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ইউনাইটেডই আছে, সমান পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে লাইপজিগ। আর তিন পয়েন্ট নিয়ে যথাক্রমে তিন ও চারে পিএসজি ও বাসেকসেহির।


    আগস্টে এই দুইদল মুখোমুখি হয়েছিল চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে। তখন আনহেল ডি মারিয়া ছিলেন পিএসজির জয়ের নায়ক। সেই ডি মারিয়াই শুরুতেই দলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন। ময়েসে কিনের থ্রু পাস ধরে ক্লোজ রেঞ্জ থেকে চমৎকার ওয়ান টাচ ফিনিশে ম্যাচের ৬ মিনিটেই দলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই ধারাবাহিকতা আর ধরে রাখতে পারেননি।

    জার্মানিতে ম্যাচের শুরুটা দারুণ করেছিল দুইদল। কেইলর নাভাস দুর্দান্ত ডাবল সেভে আটকে দিয়েছিলেন লাইপজিগকে। কিন্তু এরপরই রক্ষণের দুর্বলতা ফুটিয়ে তুলে হারিয়ে যায় লাইপজিগ। ১৬ মিনিটে কিনের একটি শট গিয়ে লাগে দায়োত উপামেকানোর হাতে। পেনাল্টি পেয়ে যায় পিএসজিও। কিন্তু ডি মারিয়া তখন ব্যবধান দ্বিগুণ করতে ব্যর্থ হন। আর্জেন্টাইনের আনাড়ি কিক ঠেকিয়ে দেন পিটার গুলাশি। প্রথমার্ধ এরপর লাইপজিগের রক্ষণের ভুলের সুযোগ নিয়ে আরও কিছু আক্রমণ সাজিয়েছিল পিএসজি। এর ভেতর দুইবার জালে বল জড়িয়েও অফসাইডের কারণে গোলবঞ্চিত হয়েছে ডি মারিয়া ও কিন।

    লাইপজিগ ম্যাচে ফেরে ৪১ মিনিটে। সাবেক পিএসজি ফরোয়ার্ড ক্রিস্টোফার এনকনকু বক্সের বাইরে থেকে নিচু শটে গোল করে দলকে ফিরিয়ে আনেন ম্যাচে। বিরতির আগে ওই গোলে প্রেরণা খুঁজে পায় লাইপজিগও। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই দারুণ খেলছিল তারা। এমিল ফর্সবার্গ দারুণ এক আক্রমণ সাজিয়ে ভীতি চড়িয়ে দিয়েছিলেন পিএসজির রক্ষণে। কিন্তু সব ঠিকঠাক করেও তখন তিনি বল মেরেছেন ওপর দিয়ে।

    পরে ফর্সবার্গই পেনাল্টি থেকে দলকে এগিয়ে দেন ৫৭ মিনিটে। উড়ে আসা বল বক্সের ভেতর হাতে লেগেছিল কিমপেম্বের। এর আগেই হলুদ কার্ড দেখলেও সে যাত্রায় হ্যান্ডবল করেও বেঁচে যান তিনি। ম্যাচের শেষদিকে লাইপজিগের তৃতীয় গোল আটকাতে গিয়ে ভয়ঙ্কর ট্যাকেল করে অবশ্য দ্বিতীয় হলুর্ডই জোটে তার কপালে। তবে এর আগে ৬৯ মিনিটেই কাজটা আরও কঠিন হয়ে গিয়েছিল পিএসজির জন্য। ইদ্রিসা গায়া তখন দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে পিএসজিকে ১০ জনের দলে পরিণত করে মাঠ ছেড়েছিলেন।

    পিএসজির আরও একটি হারের পরও অবশ্য আশাহত হচ্ছেন না থমাস তুখল। নাগেলসমান তার ভাবশিষ্য, কোচিং-এ তার যাত্রাটাও শুরু হয়েছিল তুখলের হাত ধরে। তার লাইপজিগের কাছে হারটা বড় ক্ষতই তৈরি করার কথা তুখলের মনে। তবে তুখল বলছেন অন্য কথা, ফিরতি লেগে লাইপজিগকে হারাতে পারলেই পাশার দান বদলে যাবে বলে বিশ্বাস তার, "না, আমরা মোটেই ঝুঁকিতে নেই। আমরা এমন দলের বিপক্ষে খেললাম যারা এক সপ্তাহ আগেও বুন্দেসলিগায় শীর্ষে ছিল। ওরা খুবই শক্তিশালী, তবে আমরাও ম্যাচে ২-০ তে এগিয়ে যেতে পারতাম।"

    "প্যারিসের কোচ হওয়াটাই এমন কঠিন। আমার মনে হয় প্রেস এবং আশেপাশের পরিবেশ আমাদের পক্ষে থাকে না। তবে তাতে আমার কাজের ধরন তো আর বদলায় না। আমরা আবার চেষ্টা করব। প্রাক ডি প্রিন্সেসে জিতে গেলে পুরো পরিস্থিতি আবার পালটে যাবে।"
     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন