• চ্যাম্পিয়নস লিগ
  • " />
    X
    GO11IPL2020

     

    গোলরক্ষকদের ম্যাচে মেসি-পিকের গোলে জিতল বার্সা

    ফুলটাইম
    বার্সেলোনা ২-১ ডিনামো কিয়েভ


    বার্সেলোনার সঙ্গে ডিনামো কিয়েভের শক্তির তুলনা হয় না। ম্যাচটাও বার্সার ঘরের মাঠে। তারওপর ম্যাচের আগে ৫ জন খেলোয়াড় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর সেরা স্কোয়াড নিয়েই ন্যু ক্যাম্পে আসতে পারেনি কিয়েভ। অনুমিতভাবে বার্সাই কিয়েভের ওপর দাপট দেখিয়েছে পুরো ম্যাচে। কিন্তু ম্যাচটা জমিয়ে তুলেছিলেন কিয়েভের ১৮ বছর বয়সী গোলরক্ষক রুসলান নেসচেরেত। দুই অর্ধে লিওনেল মেসি আর জেরার্ড পিকের দুই গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর কিয়েভ এক গোল শোধ করে তাই ম্যাচ জমিয়ে তুলেছিল। নড়বড়ে রক্ষণ নিয়েও শেষ পর্যন্ত অবশ্য বার্সা হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছে। দলে ফেরা গোলরক্ষক মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগানেরও কৃতিত্ব আছে তাতে।
     


    ন্যু ক্যাম্পে ম্যাচ শুরুর দশ মিনিটের ভেতর ৩-০ গোলের লিড নিতে পারত বার্সা। ম্যাচের পঞ্চম মিনিটে মেসি আরও একবার পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। আর পেদ্রির শট গোলবার হয়ে গোললাইন থেকে ফেরত আসার পর আন্টোয়ান গ্রিযমান গোলের সামনে থেকে অদ্ভুত এক মিস করে হতাশা বাড়ান- তিন গোলের বদলে শুরুর দশ মিনিটে তাই বার্সা পায় মাত্র এক গোল। পেনাল্টিটাও মেসিই আদায় করেছিলেন। ১৮ বছর বয়সী নেসচেরেত পুরো ম্যাচে মেসির কাছে হেরেছেন ওই একবারই। গোলরক্ষককে কোনো সুযোগ না দিয়েই ৪.৫৩ সেকেন্ডে মৌসুমের চতুর্থ পেনাল্টি থেকে চতুর্থ গোল পেয়ে যান মেসি। এতো দ্রুততম সময়ে এর আগে ক্যারিয়ারে কখনই পেনাল্টি থেকে গোল করেননি আর্জেন্টাইন।

     

    এরপর থেকে দুর্গ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন নেসচেরেত। আনসু ফাতিকে কাছের পোস্টে ফেরানোর পর মেসির আড়াআড়ি শটও ঠেকিয়ে দেন তিনি। আসল খেলা অবশ্য তিনি জমিয়ে রেখেছিলেন দ্বিতীয়ার্ধের জন্য।

    কিয়েভের বিপক্ষে ডাবল পিভোটের ভূমিকায় মৌসুমে প্রথমবারের মত সার্জিও বুসকেটস ও মিরালেম পিয়ানিচকে মাঠে নামিয়েছিলেন রোনাল্ড কোমান। জেরার্ড পিকের সঙ্গে সেন্টারব্যাক পজিশনে শুরু করেছিলেন ফ্র্যাঙ্কি ডি ইয়ং। আর চোট থেকে ফিরে এই মৌসুমে প্রথমবারের মতো দলে দলে ফিরেছিলেন মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগান। বার্সার হাইলাইন ফাঁকি দিয়ে পুরো ম্যাচে যে কয়বার কিয়েভ আক্রমণে উঠেছে স্টেগানকে সে কয় দফায় শক্ত হাতে প্রতিরোধ গড়তে হয়েছে। ভ্লাদিস্লাভ সুপরিয়াগা একটি হেড এক হাতে ঠেকিয়ে প্রথমার্ধে নিজের কাজটাও করে রেখেছিলেন স্টেগান।

    বিরতির পর নেসচেরেত হয়ে ওঠেন অতিমানবীয়, তাই ওপেন প্লে থেকে গোলখরা এদিনও আর কাটানো হয়নি মেসির। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে বাম পায়ে নেওয়া মেসির ফ্রি কিক নিশ্চিত গোলের দিকেই যাচ্ছিল। নেসচেরেত তখন পুরো শরীর প্রসারিত করে এক হাতের দুর্দান্ত এক সেভে মেসিকে গোলবঞ্চিত করেন। এরপর সার্জি রবার্তোকেও ক্লোজ রেঞ্জ থেকে ঠেকিয়ে দেন তিনি। 

    নেসচেরেতের দুর্দান্ত ফর্ম পুঁজি করে অন্যপ্রান্তে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালিয়ে যায় কিয়েভ। বার্সার হাইলাইন টপকে যাওয়াই ছিল তাদের একমাত্র সূত্র। টের স্টেগান ওয়ান অন ওয়ানে একবার ভিক্টর সিয়ানকভকে ঠেকিয়েও দেন। কিন্তু ৭৫ মিনিটে সেই সিয়ানকভই গোল করে দলে ম্যাচে ফেরান। বাম প্রান্ত থেকে আসা ক্রসে প্রথমে টাচ করেছিলেন বেঞ্জামিন ভার্বিচ। তখন স্টেগান ঠেকিয়ে দিলেও গোলের সামনে থাকা সিয়ানকভ রিবাউন্ডে বল ঢুকিয়ে দেন বার্সার জালে। কিয়েভ যেভাবে খেলছিল তাতে ওই গোলটা তাদের প্রাপ্যই ছিল।

    কিয়েভ ম্যাচে ফেরায় শেষ ১৫ মিনিট তাই জমে উঠেছিল পুরোদমে। জয় নিশ্চিত করতে বার্সার প্রয়োজন ছিলে একটি গোল। বদলি উসমান ডেম্বেলে সেই কাজটা প্রায় করেও ফেলেছিলেন বক্সের বাইরে থেকে গোলে শট করে। কিন্তু এবারও টপ কর্নারের পথে দারুণ গতিতে ছুটতে থাকা বল আঙুলের ছোঁয়ায় ঠেকিয়ে দিয়ে বার্সাকে হতাশ করেন নেসচেরেত। শেষ পর্যন্ত বার্সাকে তাই ঘাম ঝরিয়েই জিততে হয়েছে ঘরের মাঠে। 

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন