• বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ ২০২০
  • " />

     

    'ফেভারিট' সাকিব-মাহমুদউল্লাহ, তামিমের 'আউট অফ দ্য বক্স', মুশফিকের শিরোপাখরা বা মিঠুনের অন্য চ্যালেঞ্জ

    'ফেভারিট' সাকিব-মাহমুদউল্লাহ, তামিমের 'আউট অফ দ্য বক্স', মুশফিকের শিরোপাখরা বা মিঠুনের অন্য চ্যালেঞ্জ    

    ২৪ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে নতুন টুর্নামেন্ট বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ। সেখানে ৫ দলের অবস্থা কেমন? খাতা-কলমে জেমকন খুলনা বেশ শক্তিশালি। তামিম বলেছেন, 'আউট অফ দ্য বক্স' কিছু করে দেখাতে হবে ফরচুন বরিশালকে। সঙ্গে আছে মুশফিকের শিরোপাখরা, বেক্সিমকো ঢাকার হয়ে সেটি কাটবে তার? গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম ভরসা রেখেছে মোহাম্মদ মিঠুনের ওপর, নতুন চ্যালেঞ্জে কেমন করবেন তিনি? 'এ' গ্রেডে কেউ না থাকা মিনিস্টার রাজশাহী পারবে চমকে দিতে? বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের আগে প্যাভিলিয়ন কাঁটাছেঁড়া করার চেষ্টা করেছে দলগুলির...


    বেক্সিমকো ঢাকা
    শিরোপাখরা কাটবে মুশফিকের? 

    বিপিএলে মুশফিকুর রহিম ৭ মৌসুমে খেলেছেন ৭টি ভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজিতে। শেষ খুলনার হয়ে খেলে প্রথমবারের মতো গিয়েছিলেন ফাইনালে। লিগ বদলালেও মুশফিকের সেই ধারা বদলালো না, বাংলাদেশের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগে এবার প্রথমবারের মতো তিনি খেলবেন ঢাকার দলের হয়ে। প্লেয়ারস ড্রাফটে ‘ফার্স্ট কল’-এ তাকে নিয়েছিল বেক্সিমকো ঢাকা। 

    নাঈম শেখের সঙ্গে তানজিদ হাসান তামিম টপ অর্ডারে, অপশন হিসেবে আছেন পিনাক ঘোষ ও রবিউল ইসলাম রবি। রবির সঙ্গে মুক্তার আলিই ঢাকার দলে স্বীকৃতি অলরাউন্ডার। মিডল অর্ডারে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে আছেন সাব্বির রহমান, ইয়াসির আলি রাব্বি, আকবর আলি, শাহাদাত হোসেন দিপুরা। প্রেসিডেন্টস কাপে সাব্বির তেমন কিছু করতে পারেননি, রাব্বি করেছিলেন একটি ফিফটি। আকবর-দিপুদেরও টি-টোয়েন্টি পরীক্ষা বাকি এখনও। 

    পেসে রুবেল হোসেন ও মেহেদি হাসান রানা শেষ বিপিএলে ছিলেন বেশ সফল, সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির তালিকায় দুজন ছিলেন তিন ও ছয় নম্বরে যথাক্রমে, এদের সঙ্গে আছেন আবু হায়দার রনি। স্পিনে অফস্পিনার নাঈম হাসানের সঙ্গে বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ, রবি আরেকটি অপশন। তবে এদেরকে মুশফিক কীভাবে ব্যবহার করেন, সেটিই দেখার বিষয়। 

    যার ওপর চোখ: নাঈম শেখ

    জাতীয় দলে শুরুটা দারুণ ছিল নাঈমের। কোভিড-১৯ বিরতির পর বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপে ব্যর্থ হয়েছেন। তবে শুরুতে তার একটা ইনিংস বদলে দিতে পারে ইনিংসের গতিপথ। 

    সম্ভাব্য একাদশ 

    তানজিদ হাসান তামিম, নাঈম শেখ, মুশফিকুর রহিম (অ, উ), ইয়াসির আলি রাব্বি, আকবর আলি, সাব্বির রহমান, রবিউল ইসলাম রবি/মুক্তার আলি/নাসুম আহমেদ, রুবেল হোসেন, মেহেদি হাসান রানা, আবু হায়দার রনি, নাঈম হাসান

    জেমকন খুলনা
    ফেভারিট তকমা যাদের 

    প্রথম ডাকে সাকিব, এরপর মাহমুদউল্লাহকেও পেয়ে গেছে জেমকন খুলনা। সেই মাহমুদউল্লাহই তাদের অধিনায়ক। ফলে শুধু দুজন ‘এ’ গ্রেডের ক্রিকেটার নয়, খুলনা পেয়েছে দুজন অলরাউন্ডারও। সঙ্গে আরিফুল হক, শুভাগত হোম ও সালমান হোসেন-- খুলনা দলে অলরাউন্ডারের অভাব নেই। 

    ইমরুল কায়েস ও এনামুল হক বিজয় টপ অর্ডারে, সাকিব মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে এরপর আছেন শামিম হোসেন, জহুরুল ইসলাম পিনাক ঘোষ। আল-আমিন হোসেন, শফিউল ইসলামের সঙ্গে শহিদুল ইসলামের পেস আক্রমণ খুলনাকে এগিয়ে রাখবে, শেষ বিপিএলে শীর্ষ পাঁচে ছিলেন শহিদুল। আছেন তরুণ হাসান মাহমুদও। গতির আভাস দিয়ে রাখা এই তরুণ প্রেসিডেন্টস কাপে খেলতে পারেননি।


    এ টুর্নামেন্ট দিয়ে ফিরছেন সাকিব/বিসিবি


     

    স্পিনেও খুলনা মোটামুটি সব বক্সেই টিক দিয়ে রেখেছে, সাকিব তো আছেনই, আরেক বাঁহাতি অর্থোডক্স নাজমুল ইসলাম অপুর সঙ্গে আছেন লেগস্পিনার রিশাদ হোসেন। শুভাগত বা মাহমুদউল্লাহর অফস্পিনও কাজে আসতে পারে ভালভাবেই। 

    যার ওপর চোখ: শামিম হোসেন 

    অ-১৯ সার্কিটে হিটিং সামর্থ্যের জন্য পরিচিত তিনি। ক্যারিয়ারে দুটি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন এখন পর্যন্ত। শামিমের জন্য বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ হতে পারে নিজের জাত চেনানোর প্লাটফর্ম। 

    সম্ভাব্য একাদশ 

    ইমরুল কায়েস, এনামুল হক বিজয়, শামিম হোসেন, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ, জহুরুল ইসলাম/জাকির হাসান, আরিফুল হক/শুভাগত হোম, আল-আমিন হোসেন, শফিউল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, নাজমুল ইসলাম অপু/রিশাদ হোসেন 


    মিনিস্টার রাজশাহী
    'বি' গ্রেড থেকে শুরু, শেষ কোথায়? 

    একমাত্র দল, যাদের ‘এ’ গ্রেডের ক্রিকেটার নেই। কোচ সারওয়ার ইমরানের মতে, সাকিব-মুশফিক-তামিমের পর মাহমুদউল্লাহ ছিলেন তাদের ‘এ’ গ্রেডের পছন্দ হিসেবে, তবে কোভিড-১৯ আক্রান্ত মাহমুদউল্লাহকে নেওয়ার ঝুঁকি নেননি তারা। তাদের প্রথম পিক ছিল ‘বি’ গ্রেডের মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, টুর্নামেন্ট শুরুর দুইদিন আগে যিনি পড়েছেন ফুটবল খেলতে গিয়ে চোটে! 

    সাইফউদ্দিনের চোট কতোটা গুরুতর, সেটা কতোটা ভোগাবে রাজশাহীকে তা নিশ্চিত নয়। তবে তার অনুপস্থিতি নিশ্চিতভাবেই কম্বিনেশনকে আঘাত করতে তাদের। এমনিতে সাইফ ছাড়া রাজশাহীতে অলরাউন্ডার আছেন মাহাদি হাসান-- বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ যার কেটেছে দুর্দান্ত, অভিজ্ঞ ফরহাদ রেজা ও তরুণ আনিসুল ইসলাম ইমন। রাজশাহীতে আছেন ঘরোয়া ক্রিকেটে পরীক্ষিত বেশ কয়েকজন-- টপ অর্ডারে নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে ফজলে রাব্বি, রনি তালুকদার, এরপর মোহাম্মদ আশরাফুল, রকিবুল হাসান, নুরুল হাসান সোহান। স্পিনে আরাফাত সানি ও সানজামুল ইসলাম। 

    পেস আক্রমণ সে তুলনায় অনভিজ্ঞ, এবাদত হোসেনের সঙ্গে আছেন রেজাউর রাজা ও মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ। এখানেও সাইফের অনুপস্থিতি ভোগাতে পারে তাদের। ‘এ’ গ্রেডের অপশন বাদ দিয়ে যাকে ‘মূল’ ক্রিকেটার হিসেবে নিয়েছে, তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন, সেটা নিশ্চয়ই এখন মূল চাওয়া তাদের। 

     


    শান্ত-সারওয়ার পারবেন চমকে দিতে?


    যার ওপর চোখ: নুরুল হাসান সোহান 

    বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপে ৪ ইনিংসের ৩টিতেই অপরাজিত ছিলেন, সোহান সুযোগ পেলে দারুণ কিছু করবেন, সেরকম ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন। এর আগে প্রিমিয়ার লিগের এক রাউন্ডেও পেয়েছিলেন ফিফটি। রাজশাহীতে তার ভূমিকা হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ। 

    সম্ভাব্য একাদশ

    নাজমুল হোসেন শান্ত, ফজলে রাব্বি, রনি তালুকদার, মোহাম্মদ আশরাফুল, নুরুল হাসান সোহান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মাহাদি হাসান, ফরহাদ রেজা, মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ, এবাদত হোসেন, আরাফাত সানি 


    গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম
    মিঠুনের অন্য চ্যালেঞ্জ 

    শেষ গত বছর বাংলাদেশ ‘এ’ দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মোহাম্মদ মিঠুন, এর আগে ২০১৮ সালেও তাই। এছাড়া ঘরোয়া ক্রিকেটে মিঠুন শেষ অধিনায়কত্ব করেছেন ২০১৭ সালে, সেবার তার নেতৃত্বে আবাহনী হয়েছিল রানার্স-আপ। এমনিতে গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের ‘এ’ গ্রেডের ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমান, তবে নেতৃত্বের ক্ষেত্রে দলটি ভরসা রেখেছে মিঠুনের ওপরই। 

    লিটন দাস, সৌম্য সরকারের সঙ্গে ব্যাক-আপ হিসেবে শামসুর রহমান, সৈকত আলি-- চট্টগ্রামের টপ অর্ডার বেশ দৃঢ়ই। এরপর মিঠুন, মোসাদ্দেক হোসেন, মুমিনুল হকে মিডল-অর্ডারও ভরসা করার মতোই। কোভিড-১৯ পজিটিভি মাহমুদুল হাসান জয়ের বদলি হিসেবে কাউকে এখনও নেয়নি দলটি। 

    পেস আক্রমণে দুই বাঁহাতি-- মোস্তাফিজের সঙ্গে শরিফুল ইসলাম, সঙ্গে আছেন মেহাদি হাসান, আর অলরাউন্ডার জিয়াউর রহমান। চট্টগ্রামের স্পিন আক্রমণ বেশ শক্তিশালি, দুই বাঁহাতি তাইজুল ইসলাম ও রাকিবুল হাসানের সঙ্গে আছেন দুই অফস্পিনার-- নাহিদুল ইসলাম ও সনজিত সাহা। 


    আউট অফ দ্য বক্স-- ওপেনিং ছেড়ে নিচে তামিম? নাকি ওপরের দিকে মিরাজ বা বিপ্লব?


    যার ওপর চোখ: রাকিবুল হাসান 

    অ-১৯ দলের বিশ্বকাপজয়ী স্পিনারকে এক কথায় বলা যায়-- চতুর ক্রিকেটার। স্পিনের সঙ্গে ফিল্ডিংটাও দারুণ তার। প্রেসিডেন্টস কাপেও ঝলক দেখিয়েছেন, এবার পালা টি-টোয়েন্টিতে। 

    সম্ভাব্য একাদশ 

    লিটন দাস, সৌম্য সরকার, মুমিনুল হক, মোহাম্মদ মিঠুন, মোসাদ্দেক হোসেন, জিয়াউর রহমান, নাহিদুল ইসলাম, রাকিবুল হাসান, সনজিত সাহা, মোস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম 


    ফরচুন বরিশাল
    'আউট অফ দ্য বক্স', কিন্তু কী? 

    প্লেয়ারস ড্রাফটে বরিশাল ভুল করেছে, তামিম ইকবাল এ কথা বলেছেন প্রকাশ্যেই। এরপর বলেছেন, প্রথাগত কম্বিনেশন বাদ দিয়ে ‘আউট অফ দ্য বক্স’ বা একেবারে নতুন কিছু করতে হবে তাদের। নিজের ভূমিকাটাও ভিন্ন হতে পারে, ইঙ্গিত দিয়েছেন সেটিও। এখন পর্যন্ত সেটি তো জানার উপায় নেই, যে কী দেখাবে বরিশাল। সেটি কি তামিম ওপেনিং ছেড়ে নিচে নামছেন এমন কিছু? সে ভাবনা অবশ্য বেশি ক্ষ্যাপাটে হয়ে যায়। 

    তামিমের সব কথার মূল ব্যাপার একটাই-- বরিশালের মিডল অর্ডার। সাইফ হাসান, আফিফ হোসেন, ইরফান শুক্কুর, তৌহিদ হৃদয়ের সঙ্গে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, পারভেজ হোসেন ইমন বা আবু সায়েম-- তামিমকে ব্যাটিং অর্ডার ঠিক করতে হবে এদের মাঝ থেকে। তবে ‘আউট অফ দ্য বক্স’ ধরনের কিছুতে আসতে পারে ওপরের দিকে মেহেদি হাসান মিরাজ এমনকি আমিনুল ইসলাম বিপ্লবের আসাও। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে বিপ্লব মূলত ব্যাটসম্যানই ছিলেন। 

    ওপরে না এলেও মিরাজ বা বিপ্লব বরিশালের ব্যাটিং লাইন-আপ লম্বা করতে পারেন। এরপর পেস আক্রমণে তাসকিন আহমেদ ও আবু জায়েদ রাহির সঙ্গে সুমন খান-- সে লাইন-আপ সাজাতে বরিশাল ভুল করেনি, এটি বলাই যায়। স্পিনে মিরাজ-বিপ্লবের সঙ্গে তামিমের অপশন অভিজ্ঞ সোহরাওয়ার্দি শুভ ও বাঁহাতি স্পিনার তানভির ইসলাম। 


    যার ওপর চোখ: ইরফান শুক্কুর 

    প্রেসিডেন্টস কাপে নিজেকে নতুন করে চিনিয়েছেন, গত বিপিএলেও রাজশাহীর হয়ে খেলেছিলেন দারুণ দুটি ইনিংস- কোয়ালিফায়ার ও ফাইনালে। ৫০ ওভার ম্যাচের পর এবার টি-টোয়েন্টির পালা শুক্কুরের। 

    সম্ভাব্য একাদশ 

    তামিম ইকবাল, আফিফ হোসেন, তৌহিদ হৃদয়, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, ইরফান শুক্কুর, পারভেজ হোসেন ইমন, মেহেদি হাসান মিরাজ, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, তাসকিন আহমেদ, আবু জায়েদ রাহি, সুমন খান 


    বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ ফিক্সচার

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন