• বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ ২০২০
  • " />
    X
    GO11IPL2020

     

    বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ সেরা একাদশ : তৃতীয় পেসার কে, শামিম কেন দলে?

    লিটন দাস (উইকেটকিপার) (১০ ইনিংসে ৪৯.১২ গড় ও ১১৯.৪৫ স্ট্রাইক রেটে ৩৯৩ রান, ৩ ফিফটি+ স্কোর); সৌম্য সরকার (১১ ইনিংসে ২৯.২০ গড় ও ১২৫.৮৬ স্ট্রাইক রেটে ২৯২ রান, ২ ফিফটি+ স্কোর); নাজমুল হোসেন শান্ত (৮ ইনিংসে ৩৭.৬২ গড় ও ১৫৬.৭৭ স্ট্রাইক রেটে ৩০১ রান; ৩ ফিফটি+ স্কোর)

    গড়বড় হয়ে যাওয়া ফাইনাল বাদ দিলে দিলে জুটি হিসেবে ওপেনিংয়ে টুর্নামেন্টে সবচেয়ে সফল লিটন-সৌম্য। আলাদা করেও দুজনের জন্য টুর্নামেন্ট গেছে ভাল। নাজমুল হোসেন শান্ত টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ‘বিস্ফোরক’ ব্যাটসম্যান, কমপক্ষে ১০০ রান করেছেন এমন ব্যাটসম্যানদের মাঝে সবচেয়ে বেশি স্ট্রাইক রেট তার, সবচেয়ে বেশি ছয়ও মেরেছেন। লিটন-সৌম্যর মতো শান্তও খেলেছেন ওপেনিংয়েই। তবে টপ অর্ডারে তিনজনকেই রাখব আমরা, সেক্ষেত্রে লিটনের সঙ্গে শান্ত বা সৌম্যর একজন ওপেনিংয়ে, আরেকজন তিন নম্বরে। সঙ্গে লিটন করবেন উইকেটকিপিং। আর পঞ্চম বোলারের অপশন হিসেবে থাকবেন সৌম্য। 

    মুশফিকুর রহিম (১০ ইনিংসে ৩৫.৮৭ গড় ও ১১২.১০ স্ট্রাইক রেটে ২৮৭ রান, ১ ফিফটি+ স্কোর); ইয়াসির আলি রাব্বি (৯ ইনিংসে ৩৬.৭৫ গড় ও ১২৪.৫৭ স্ট্রাইক রেটে ২৯৪ রান, ২টি ফিফটি+ স্কোর); মাহমুদউল্লাহ (অধিনায়ক) (১০ ইনিংসে ৩৪.২৫ গড় ও ১২৯.৮৫ স্ট্রাইক রেটে ২৭৪ রান, ১টি ফিফটি+ স্কোর); শামিম হোসেন পাটোয়ারি (১০ ম্যাচে ১৪৫ স্ট্রাইক রেটে ১১৬ রান, ১২ ক্যাচ) 

    শেষদিকে মাঠের ওই বাজে ঘটনা বাদ দিলে মুশফিকের সঙ্গে ঢাকার যাত্রাটা ছিল দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর, টানা ৩ ম্যাচ হারের পরও তারা গিয়েছিল প্লে-অফে। একাধিক ম্যাচে দ্রুত টপ অর্ডার ধসে পড়ার পর মুশফিক চাপ সামাল দিয়েছেন দারুণভাবে, একটু ধীরগতির হলেও তার ইনিংস গঠনের কাজটা ছিল পরিস্থিতি বুঝে। এ একাদশে মুশফিককে উইকেটকিপিং এবং অধিনায়কত্ব-- দুটির একটিও দেওয়া হবে না (ফলে কী দাঁড়াবে, সেটি অবশ্য আলোচনার বিষয়)। মুশফিকের সতীর্থ ইয়াসির আলি রাব্বিও এ টুর্নামেন্টে আলো ছড়িয়েছেন, তার হিটিং-সামর্থ্য দেখা গেছে আরেকবার, ম্যাচের প্রেক্ষিতে কাজে লেগেছে তার ব্যাটিং-ও। দুই ঢাকা সতীর্থর পর আসবেন দুই খুলনা সতীর্থ। মাহমুদউল্লাহর নামটা অনুমিতই, তিনি কোন মাপের ক্রিকেটার, তার প্রমাণ প্লে-অফের পর ফাইনালেও দেখিয়েছেন। এ একাদশের অধিনায়কও চ্যাম্পিয়ন দলের তিনিই, সৌম্যর সঙ্গে পঞ্চম বোলারের অপশনও। 
     


    সবশেষ নামটা আরেকটু ব্যাখ্যা করতে হবে হয়তো। শামিম টুর্নামেন্টে ১০ ম্যাচই খেলেছেন, করেছেন ১১৬ রান। তবে এর মাঝেই নিজের হিটিং সামর্থ্য দেখিয়েছেন, তিনি ব্যাটিং করেছেন ১৪৫ স্ট্রাইক রেটে। বেশিরভাগ সময়ই তাকে নামতে হয়েছে নেমেই আক্রমণ করতে হবে-- এমন পরিস্থিতিতে। শামিমকে আরেকটু সময় দিয়ে হয়তো ব্যবহার করতে পারতো খুলনা। আবার তার বোলিংটাও খুলনা কাজে লাগায়নি একবারও, তিন পেসারের সঙ্গে সাকিব (ফাইনাল ছাড়া), শুভাগত বা মাহমুদউল্লাহ ছিলেন সেখানে। অবশ্য শামিমকে এ একাদশে নেওয়ার আরেকটি কারণ তার ফিল্ডিং। খাতা-কলমে টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি ক্যাচ নিয়েছেন তিনি, যার বেশ কয়েকটি ছিল অসাধারণ। তবে এর বাইরেও ছিল তার গ্রাউন্ড ফিল্ডিং, প্রায় প্রতি ম্যাচেই নিশ্চিত কয়েকটি করে রান বাঁচিয়েছেন তিনি। 


    মোস্তাফিজুর রহমান (১০ ইনিংসে ৬.২৫ ইকোনমি, ১১.০৪ গড়ে ২২ উইকেট), শরিফুল ইসলাম (১০ ইনিংসে ৮ ইকোনমি, ১৯ গড়ে ১৬ উইকেট), রুবেল হোসেন (১০ ইনিংসে ৬.৪৯ ইকোনমি, ২২.৫৪ গড়ে ১১ উইকেট), নাহিদুল ইসলাম (১১ ইনিংসে ৬.০৫ ইকোনমি, ২১.৮০ গড়ে ১০ উইকেট) 

    মোস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলাম-- চট্টগ্রামের বাঁহাতি পেসজুটি প্রায় অটোমেটিক চয়েস। মোস্তাফিজ টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি, তার বোলিংয়ের পুরোনো অস্ত্র দারুণভাবে ব্যবহার করেছেন তিনি। শরিফুল ছিলেন আক্রমণাত্মক, শর্ট অফ আ লেংথ থেকে ব্যাটসম্যানদের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে গেছেন ক্রমাগত। তৃতীয় পেসার হিসেবে রুবেল হোসেন এসেছেন তার ধারাবাহিকতার কারণে। তার সমান বা বেশি উইকেট নিয়েছেন আরও ৯ জন, একজন বাদে সবাই পেসার, তবে মোস্তাফিজ ছাড়া তার চেয়ে কম ইকোনমি রেট নেই আর কারও। 

    স্বীকৃত স্পিনার হিসেবে থাকা নাহিদুল ইসলামও আছেন তার ধারাবাহিকতার কারণেই। এক ম্যাচ ছাড়া প্রতিটিতেই বোলিং ওপেন করেছেন, পাওয়ারপ্লেতে বোলিং করেও তার ইকোনমি ছয়ের একটু ওপরে। শুরুতে যেমন ব্রেকথ্রু দিয়েছেন, আঁটসাঁট বোলিং করে সেট করেছেন টোনও। 


    দ্বাদশ ব্যক্তি- আকবর আলি (১০ ম্যাচে ২৮.৫ গড় ও ১৫০ স্ট্রাইক রেটে ১৭১ রান) 

    শুরুতে ভুগছিলেন, মনে হচ্ছিল টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ঠিক অভ্যস্থ নন তিনি। তবে আকবর দেখিয়েছেন, এ ফরম্যাট ক্র্যাক করার সামর্থ্য আছে তার। তিনটি ম্যাচে শেষদিকে নেমে খেলেছেন ১৪ বলে ৩১, ২৩ বলে ৪৫ ও ৯ বলে ২১ রানের ইনিংস। তার এমন ব্যাটিংয়ে শেষদিকে উড়ান দিয়েছে ঢাকা। 
     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন