• বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ ২০২০
  • " />
    X
    GO11IPL2020

     

    বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ : 'প্রায় বিপিএল', সঙ্গে সাকিবের ফেরা

    মিরপুরে সন্ধ্যা নেমেছে। একাডেমি মাঠে সবুজ গালিচার ওপাশে লম্বা ব্যানার, সঙ্গে আছে আলোর রোশনাই। অধিনায়কদের ফটোসেশন হবে সেখানে। সে অনুষ্ঠান শুরু হতে বেশ দেরি হচ্ছে, রংপুর অধিনায়ক মোহাম্মদ নবি জ্যামে আটকা পড়েছেন। শেষ পর্যন্ত আসেননি তিনি, আর ঢাকা অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার প্রতিনিধি হয়ে সে সেশনে দাঁড়ালেন মুমিনুল হক। পরদিন শুরু বিপিএল। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলির সঙ্গে লভ্যাংশ শেয়ারিং মডেল সংক্রান্ত ঝামেলায় বিসিবি সেবার বিপিএল আয়োজন করলো নিজেদের উদ্যোগে-- বঙ্গবন্ধু বিপিএল। বিপিএল, তবে অন্যভাবে।  

    এক বছর পর চার দলের অধিনায়ক-- মিনিস্টার রাজশাহীর নাজমুল হোসেন শান্ত, ফরচুন বরিশালের তামিম ইকবাল, বেক্সিমকো ঢাকার মুশফিকুর রহিম ও জেমকন খুলনার মাহমুদউল্লাহ এলেন আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে। তবে এবার তারা যেখানে দাঁড়ালেন, তার সামনে একটা ছোট ডায়াস, এরপর থাকলো বেশ খানিকটা দূরত্ব, এরপর একটা দেওয়াল, দেওয়ালের সঙ্গে গ্রিল। এপাশে সাংবাদিকরা। বায়ো-সিকিউর বলয়ে থাকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে সাংবাদিকদের যোগাযোগ হলো এভাবেই। এই এক বছরে কোভিড-১৯ বদলে দিয়েছে অনেক কিছু, বিপিএল স্থগিত হয়ে যাওয়ার পর নতুন ৫টি দলকে নিয়ে আরেকটি টুর্নামেন্ট করছে বিসিবি-- বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ। ঠিক বিপিএল নয়, তবে 'প্রায় বিপিএল' বলা যায় যেটিকে।  

    বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ : কোন দল কেমন?  

    মাঠের ভেতরের কার্যক্রম অবশ্য থাকলো বিপিএলের মতোই, টুর্নামেন্ট শুরুর আগেরদিন ৫টি দলই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে করল অনুশীলন। একাডেমির এই মাঠে এ সময় ক্রিকেটারদের মেলা বসে, বিদেশী কোচরা নতুন এলে বেশ অবাক হন-- একসঙ্গে এতো ক্রিকেটারের অনুশীলন! এবার শুধু বিদেশী কোচ কেন, এ টুর্নামেন্টে নেই কোনও বিদেশী ক্রিকেটারই। 

    ফরম্যাট বিপিএলের মতো হলেও পার্থক্যটা টের পাচ্ছেন মাহমুদউল্লাহ, “বিপিএলের আবহ অন্যরকম থাকে, এই টুর্নামেন্টের আবহ অন্যরকম। কারণ, ওখানে অনেক সময় বড় বড় বিদেশী ক্রিকেটাররাও থাকে।”

    “একই সাথে আমার এটাও মনে হয় এটা খুবই ভাল এক টুর্নামেন্ট। এই টুর্নামেন্টে আমরা সবাই ভালো খেলার জন্য মুখিয়ে আছি। আমি আমার দল নিয়ে বেশ আশাবাদী। আমি আশা করি ইনশাআল্লাহ আমরা ভালো করতে পারবো”, বলছেন কাগজে-কলমে বেশ শক্তিশালি দল জেমকন খুলনার অধিনায়ক। তবে সেখানকার শক্তিমত্তা মাঠে অনূদিত করতে হবে, মাহমুদউল্লাহ মনে করিয়ে দিচ্ছেন সেটি। ‘ঘরোয়া ক্রিকেটের সেরা’দের নিয়ে আয়োজন বলে অনেককিছুই প্রমাণের তাগিদ আছে তার এবং তার দলের। 

    মাহমুদউল্লাহর দলেই আছেন সাকিব আল হাসান, নিষেধাজ্ঞার পর যিনি প্রথমবারের মতো মাঠে নামছেন। শুধু মাহমুদউল্লাহ নয়, সাকিবকে নিয়ে বললেন তামিম-মুশফিকও। মাহমুদউল্লাহর মতে, সাকিব যে মানের ক্রিকেটার, তার যে সামর্থ্য-- সেসব বা তার অর্জন-পারফরম্যানের ক্ষেত্রে কোনো প্রশ্ন নেই।  তার মাঝে ‘রাস্টিনেস’ নেই, সাকিবকে খেলার ব্যাপারে বেশ মুখিয়ে থাকতেই দেখেছেন। 


    তামিম বললেন, সাকিবের ফেরার দিনটি শুধু সাকিবেরই নয়, বাংলাদেশ ক্রিকেটেরই একটা গুরুত্বপূর্ণ দিন। তবে যেহেতু মাঠে তারা প্রতিদ্বন্দ্বী, সেহেতু সাকিবকে নিজেদের বিপক্ষে যতো কম ইমপ্যাক্ট রাখতে দেওয়া যায়, সে চেষ্টা করবেন। তবে, “দিনশেষে আমি খুশি যে সে ফিরছে, আমি নিশ্চিত- ‘হি উইল গো স্ট্রেংথ টু স্ট্রেংথ ফ্রম টুমোরো’।”

    মুশফিকের কথাতেও একই সুর, “আশা করছি আমাদের সঙ্গে ছাড়া যাতে অন্য সবার সঙ্গে ভালো খেলে। কোনো সমস্যা নাই। আমার কাছে মনে হয় শুধু আমি (বলছি) না-- এটা পুরো টুর্নামেন্টের জন্যই বড় একটা পাওয়া। তার সঙ্গে এবং বিপক্ষে তরুণ যারা খেলবে-- তারা অনেক কিছু শিখতে পারবে। আমার মনে হয় এটা ভবিষ্যতেও খুব কাজে দিবে। যেহেতু এবার কোনো বিদেশি খেলোয়াড় নেই, যারা স্থানীয় আছে তাদের জন্য এটা ভালো সুযোগ তার সঙ্গে শেয়ার করা এবং অনেক কিছু শেখার।”

    তামিম-মুশফিক কথা বলার পর মাহমুদউল্লাহ যখন সাকিবকে নিয়ে বলছিলেন, ঠিক তার পেছনেই গা-গরমের ফুটবল খেলছিলেন সাকিব তার খুলনা সতীর্থদের সঙ্গে। এই এক বছরে তার চুলের আকারে বেশ একটা পরিবর্তন এসেছে, মাথায় আসা নতুন ব্যান্ডটাও ঠিক করে নিলেন একবার। মাহমুদউল্লাহর বলা কথা কানে গেল কিনা, সেটি অবশ্য নিশ্চিত নয়। 

    অবশ্য এই গা-গরমের ফুটবল কাল হয়েছে সাইফউদ্দিনের জন্য। মিনিস্টার রাজশাহীর ড্রাফটে নেওয়া প্রথম ক্রিকেটার অ্যাঙ্কেলে চোট পেয়েছেন, অন্তত ৬-৭ দিন তাকে পাওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন তার অধিনায়ক শান্ত। তাকে হারানো রাজশাহীর জন্য আঘাত, মানছেন তিনি, “অবশ্যই সাইফউদ্দিন অনেক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিল আমাদের। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত হয়তো বা প্রথম ছয়-সাতদিন আমরা পাচ্ছি না। এরপর আরেকটা রিপোর্ট পাবো। কিন্তু এটা নিয়ে আসলে খুব বেশি চিন্তা করার সুযোগ নাই। যেহেতু কালকে ম্যাচ। যেই দলই হবে, সেটা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী আমরা।” 

    বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ ফিক্সচার

    প্রথম ম্যাচে রাজশাহীর প্রতিপক্ষ মুশফিকের ঢাকা। বিপিএলে এখন পর্যন্ত একবার ফাইনাল খেলেও শিরোপা জেতা হয়নি তার। এটি ঠিক বিপিএল নয়, তবে মুশফিকের শিরোপা খরা কাটার একটা উপলক্ষ্যও তো! একটা ভাল টুর্নামেন্ট কাটবে তার দলের, এমন আশার সঙ্গে তিনি এও বললেন, এমন টুর্নামেন্ট তরুণদের জন্য বাড়তি সুযোগ। বিদেশী ক্রিকেটার নেই বলে সে সম্ভাবনাও বেড়েছে আরও। 

    এক্ষেত্রে তামিম ও তার দলকে ভরসা করতে হবে তরুণদের ওপরই, তাদের স্কোয়াডই এমন। এর আগে ‘আউট অফ দ্য বক্স’-এর কথা বলা তামিম এদিন বললেন, প্রথম ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ কাগজে-কলমে শক্তিশালি খুলনা হলেও তাদেরও সামর্থ্য কম নয়, “দেখেন সবাই যদি কাগজে কলমে শক্তিশালী হয়ে ম্যাচ জিতে যেতো বা টুর্নামেন্ট জিতে যেতো তাহলে অন্য কথা ছিল। আমি নিশ্চিত যে ক্রিকেটারগুলি আছে আমার, তাদের সবারই সামর্থ্য আছে। তারা কোনো না কোনো জায়গায় নিজেকে প্রমাণ অবশ্যই করেছে। আমার বিশ্বাস আছে যে তারা ভাল করবে। এটাই আশা করবো যে আমরা কালকের ম্যাচটা ভালভাবে শুরু করবো। কারণ, এক থেকে এগার সবাই-ই ম্যাচ জেতাতে সক্ষম। একটাই ব্যাপার যে তারা তরুণ। আমি নিশ্চিত তারা ভাল করবে।”

    আর মাহমুদউল্লাহর আশা, দলীয় ও ব্যক্তিগতভাবে আত্মবিশ্বাসের একটা আভা ছড়িয়ে দেওয়া, যেটির জন্য ভালো শুরুকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন তিনি। বিপিএল না হলেও, সেই আদলে গড়া এই ‘প্রায় বিপিএল’ ধরনের এই টুর্নামেন্টটা বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেট এবং সামনের আন্তর্জাতিক সিরিজের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। সেই শুরুটা কেমন হবে, নিশ্চয়ই সেটিরও একটি গুরুত্ব আছে। এর আগে বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ মোটামুটি একটা 'পরীক্ষামূলক' ব্যাপার ছিল, বিসিবির সে পরীক্ষারই পরের ধাপ এটি। 

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন