• চ্যাম্পিয়নস লিগ
  • " />
    X
    GO11IPL2020

     

    রদ্রিগো-হ্যাজার্ডের গোলে ইন্টারকে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডের পথে রিয়াল

    ফুলটাইম
    ইন্টার মিলান ০-২ রিয়াল মাদ্রিদ


    অষ্টমবারে এসে সান সিরোতে ইন্টার মিলানকে হারিয়ে গেল রিয়াল মাদ্রিদ। লা লিগায় হতাশার দুই ম্যাচের পর রিয়াল নিজেদের সামর্থ্য দেখাল সার্জিও রামোস আর করিম বেনজেমাকে ছাড়াই। দারুণ এক জয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার পথে বড় এক ধাপ এগিয়ে গেছে রিয়াল। আর ইন্টার মিলান আরও একবার গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়ের ক্ষণ গুণছে।

    রিয়াল মাদ্রিদ ইন্টারের বিপক্ষে জিতেছে দুই অর্ধের দুই গোলে। এডেন হ্যাজার্ডের পেনাল্টির পর দ্বিতীয়ার্ধে গোল করেছেন বদলি রদ্রিগো। প্রথমার্ধেই আর্তুরো ভিদালের পাগলাটে এক মুহুর্তের পর রেফারি তাকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ ছাড়া করেছেন। তাতে রিয়ালের কাজ আরও সহজ হয়েছে।


    চ্যাম্পিয়নস লিগের বাকি ম্যাচগুলোর মতোই শোকের আবহে শুরু হয়েছিল ইন্টার-রিয়ালের ম্যাচও। সান সিরোতে ডিয়েগো ম্যারাডনার সম্মানে নীরবতা পালনের পর বল গড়িয়েছে মাঠে। স্ট্যান্টে ইন্টারের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর সাবেক আর্জেন্টাইন ফুটবলার হাভিয়ের জানেত্তির শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা ফুটবল বিশ্বের হাহাকার বাড়িয়ে দিয়েছে আরেকটু।

    দশ জনের দলের বিপক্ষে জয় পেলেও রিয়ালের কৃতিত্ব খাটো করার উপায় নেই। সান সিরোতে ২০১৬ চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার চারবছর পর ফিরেছিল রিয়াল। শুরুটাও দুর্দান্ত করেছিল তারা। ইন্টার আর সেখান থেকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সাহসও দেখাতে পারেনি।

    ইন্টার প্রথম ভুলটা করেছিল রিয়ালকে পেনাল্টি উপহার দিয়ে। বক্সের ভেতর নিকোলা বারেল্লা ফাউল করেছিলেন দানি কারভাহালকে। রেফারিও তখন বাজিয়েছেন পেনাল্টির বাঁশি। হ্যাজার্ড স্পটকিক থেকে গোল করে সপ্তম মিনিটেই দলকে এগিয়ে নেন। ৩৩ মিনিটে ভিদালও পেনাল্টির আবেদনই করেছিলেন। কিন্তু রাফায়েল ভারান ভিদালের পা থেকে বল ছিনিয়ে নিয়েছিলেন দারুণভাবেই। পেনাল্টি না পাওয়ায় রেফারির প্রতি অসোন্তোষ জানাতে গিয়ে কপাল পুড়েছে ভিদালের। দুই হলুদ কার্ড দেখিয়ে সাবেক বার্সেলোনা মিডফিল্ডারকে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন তখন রেফারি।

    মার্টিন ওডেগার্ড, টনি ক্রুস আর লুকা মদ্রিচকে নিয়ে মিডফিল্ড সাজিয়েছিলেন জিনেদিন জিদান। সামনে হ্যাজার্ডের সঙ্গে লুকাস ভাসকেজ ও মারিয়ানো ডিয়াজ ছিলেন। ভাসকেজ প্রথমার্ধে একবার বারপোস্টে বল লাগিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করতে পারেননি। উইং ধরে বারবার আক্রমণে  উঠে ইন্টারকে প্রথমার্ধে বেশিরভাগ সময় নিজেদের অর্ধেই আটকে রেখেছিল রিয়াল। রোমেলু লুকাকু আর লাউতারো মার্টিনেজ তাই কাটিয়েছেন অসহায় সময়। প্রথমার্ধে বলার মতো কোনো আক্রমণই সাজানো হয়নি ইন্টারের।

    দ্বিতীয়ার্ধে জিদানের দুই বদলে আগের ম্যাচের মতো এবারও জাদুমন্ত্র হয়ে কাজ করেছে। ৫৮ মিনিটে রদ্রিগো আর কাসেমিরোকে মাঠে নামিয়েছিলেন জিদান। মাঠে নামার পর এক মিনিটের ব্যবধানে দারুণ গোল করে ইন্টারের ম্যাচে ফেরার আশা শেষ করে দেন রদ্রিগো। ডানদিক থেকে আসা ক্রস দূরের পোস্ট থেকে ভলিতে গোল করেন রদ্রিগো।

    কাসেমিরো মাঠে নামার পর রিয়ালের রক্ষণ ভরসা পেয়েছে আরেকটু। আর ইন্টার সময়ের সঙ্গে হতাশ হয়েছে আরও। অ্যালেইক্সিস সানচেজ, ইভান পেরিসিচ, ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেনদের নামিয়েও রিয়ালের রক্ষণে ভাঙন ধরাতে পারেনি ইন্টার। ভারান-নাচোর রক্ষণ জুটিও ছিল দারুণ। অধিনায়ক রামোসকে ছাড়া এই নিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রায় দুই বছরে মাত্র দ্বিতীয়বার জয় পেল রিয়াল।

    ৪ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের দুই নম্বরে উঠে এসেছে রিয়াল। শীর্ষে থাকা বরুশিয়া মনশেনগ্লাডবাখের সঙ্গে রিয়ালের পার্থক্য এখন মাত্র এক। আর ৪ ম্যাচ শেষে ইন্টারের পয়েন্ট ২। 

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন