• চ্যাম্পিয়নস লিগ
  • " />
    X
    GO11IPL2020

     

    কিক অফের আগে : ওল্ড ট্রাফোর্ডে পিএসজির অস্তিত্ব বাঁচানোর ম্যাচ

    কবে, কখন 
    ম্যান ইউনাইটেড-পিএসজি 
    ৩০ নভেম্বর, রাত ২.০০ 
    ওল্ড ট্রাফোর্ড 


    গ্রুপ এইচের ভাগ ঝুলে আছে। দুই ম্যাচ বাকি থাকতে ম্যান ইউনাইটেড, পিএসজি, লাইপজিগ- তিনদলই এখনও উঠতে পারে নক আউট পর্বে। ম্যান ইউনাইটেড কিছুটা সুবিধাজনক স্থানে আছে ৯ পয়েন্ট নিয়ে। দুইয়ে থাকা পিএসজি ও তিনে থাকা লাইপজিগের পয়েন্ট ৬। তবে ইউনাইটেডের শেষ দুই ম্যাচের প্রতিপক্ষ পিএসজি ও লাইপজিগ। পা হড়কালেই ইউরোপা লিগে খেলতে হতে পারে ইউনাইটেডের। একই শঙ্কা আছে বাকি দুইদলেরও।

    পিএসজির নক আউট পর্ব নিয়ে শঙ্কায় থাকাটা অবশ্য অনুমিত ছিল না। চ্যাম্পিয়নস লিগের রানার্স আপরা এবার আর কিছুতেই যেন ছন্দ খুঁজে পাচ্ছেন না। লিগে শেষ দুই ম্যাচে হার ও ড্র, মাঝে চ্যাম্পিয়নস লিগে লাইপজিগের বিপক্ষে ১-০ গোলে জয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের আশা টিকিয়ে রেখেছে পিএসজি।



    প্রতিপক্ষ ইউনাইটেডের বিপক্ষে পিএসজির রেকর্ডও সুবিধার নয়। ২০১৯ এ চ্যাম্পিয়নস লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডের দ্বিতীয় লেগে ইউনাইটেডের নাটকীয় প্রত্যাবর্তন বিদায় করে দিয়েছিল পিএসজিকে। এবার গ্রুপ পর্বের প্রথম লেগেও প্যারিসে হেসেছে ইউনাইটেড। প্যারিসে চিত্রনাট্য বদলায়নি, মার্কাস র‍্যাশফোর্ডের শেষ দিকের গোলেই আরেকবার জয় নিয়ে ফিরেছিল ওলে গানার সোলশারের দল। 

    প্রথম লেগের সে ম্যাচে এডিনসন কাভানি ছিলেন না ইউনাইটেডে। পিএসজি থেকে ইউনাইটেডে যোগ দেওয়ার পর কাভানি ইউনাইটেডের শেষ ম্যাচেই নিজের সেরাটা দেখিয়েছেন। ৩৩ বছর বয়সী স্ট্রাইকার জোড়া গোল করে সাউদাম্পটনের বিপক্ষে দলকে জিতিয়েছেন। এবার প্রায় নিশ্চিতভাবেই সাবেক দলের বিপক্ষে ম্যাচে শুরুর একাদশে হয়ত থাকবেন তিনি। এমনিতে গত আসর বাদ দিলে চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির নাটকীয় ব্যর্থতা নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এবার অন্তত কাভানির হাতে শেষটা চাইবে না পিএসজি। 

    কাভানির হাতেই হোক আর না হোক- ইউনাইটেডের কাছে হেরে পিএসজির জন্য সেটা হবে অভাবনীয় সঙ্কট। চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্ব উতরাতে না পারলে রাতারাতি অনেককিছুই বদলে যেতে পারে ফ্রেঞ্চ ক্লাবটির। ওল্ড ট্রাফোর্ডে আই অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই মাঠে নামবে পিএসজি। 

    লাইপজিগের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে পিএসজি জিতেছিল নেইমারের পেনাল্টি গোলে। পিএসজি গেলবার নিজেদের অপবাদ খানিকটা ঘোচাতে পেরেছিল। তবে লাইপজিগের বিপক্ষে ম্যাচটা দেখিয়ে দিয়েছে পিএসজি এখনও অনেক বেশি  তারকা নির্ভর দল। এক দল হয়ে খেলার অভ্যাসটা আবার হারিয়ে গেছে থমাস তুখলের দলের। 

    নেইমার তাই সতীর্থদের সতর্কবার্তা দিয়ে রেখেছেন আগেই, চ্যাম্পিয়নস লিগ তো দূরে এই খেলায় লিগ জেতার সম্ভাবনাও কম দেখছেন তিনি। "লিগ হোক আর চ্যাম্পিয়নস লিগই হোক, আমাদের এর চেয়ে ভালো করতে হবে। সাধারণত আমরা  এর চেয়ে বেশি ম্যাচ জিতি। দ্রুতই ফিরতে না পারি তাহলে চ্যাম্পিয়নস লিগ তো বটেই, লিগ জেতাও কঠিন হয়ে যাবে।"- বোর্দোর সঙ্গে ২-২ এ ড্র করার পর বলেছিলেন নেইমার। 

    "ম্যান ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচ আমাদের জন্য লাইপজিগের আগের ম্যাচের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। লাইপজিগের বিপক্ষে আমরা খুব একটা ভালো খেলিনি। তবুও জয় পেয়েছিলাম। ইউনাইটেডের বিপক্ষে আমরা ভালো খেলতে চাই। কিন্তু সেটা করতে হলে একটা দল হিসেবে আগে খেলতে হবে, নইলে কাজটা খুবই কঠিন।" 

    সোলশারের জন্য পিএসজির মতো দলের বিপক্ষে খেলার কৌশল অবশ্য সহজ। আগের লেগে তুখলের বিপক্ষে আসলে তিনি ডাগআউটে বসেই ম্যাচটা জিতেছিলেন। থ্রি ম্যান ব্যাকলাইনের সঙ্গে দুই উইংব্যাক খেলিয়ে রক্ষণে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছিলেন সোলশার। আর ওই রক্ষণ ভাঙতেই হিমশিম খেয়েছিল পিএসজি। এবারও একই টোটকাই কাজে লাগতে পারে ইউনাইটেডের জন্য। 

    তবে শুধুমাত্র পিএসজিকে আটকানোর জন্য খেলতে গেলে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত ঝুলে থাকতে হতে পারে ইউনাইটেডকে। গ্রুপের ন্য ম্যাচে লাইপজিগ খেলতে যাবে ইস্তাম্বুল বাসেকসাহিরের বিপক্ষে। ওই ম্যাচের ফলের ওপরও নির্ভর করছে অনেককিছু। এরপর গ্রুপের শেষ ম্যাচে ইউনাইটেড খেলতে যাবে জার্মানিতে, লাইপজিগের বিপক্ষে। আর পিএসজি ঘরের মাঠে খেলবে বাসেকসাহিরের বিপক্ষে। 

    দলের খবর 
    চোট থেকে ফিরেছেন মাউরো ইকার্দি। পিএসজির জন্য সেটা বড় স্বস্তির খবর। তবে মার্কিনিয়োস খেলতে পারবেন কি না তা নিয়ে সংশয় আছে। ইউনাইটেড এই ম্যাচে পাবে না ডেভিড ডি গিয়াকে। সাউদাম্পটনের বিপক্ষে হাফটাইমে চোট নিয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন তিনি। তার জায়গায় ডিন হেন্ডারসনের খেলার কথা। 

    সম্ভাব্য একাদশ 
    ম্যান ইউনাইটেড
     
    হেন্ডারসন, ওয়ান বিসাকা, লিন্ডেলফ ম্যাগুয়ের, তেলেস, ফ্রেড, মাটিচ, ভ্যান ডি বিক, ফার্নান্দেজ, র‍্যাশফোর্ড, কাভানি 
    পিএসজি 
    নাভাস, ফ্লোরেঞ্জি, পেরেইরা, কিমপেম্বে, বাকের, ভেরাত্তি, মার্কিনিয়োস, হেরেরা, ডি মারিয়া, এমবাপে, নেইমার

    হেড টু হেড 
    সবশেষ দুই দেখায় পিএসজি ইউনাইটেডের কাছে হারলেও ওল্ড ট্রাফোর্ডের শেষ ম্যাচে জিতেছিল পিএসজি। সাবেক ইউনাইটেড ফরোয়ার্ড আনহেল ডি মারিয়া সে রাতে আলো কেড়ে নিয়েছিলেন। ইউনাইটেডের সঙ্গে তার সম্পর্ক এমনিতে সুবিধার নয়। এমবাপে, নেইমাররা তো আছেনই, ডি মারিয়াও তেঁতে থাকবেন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দলকে জেতাতে। 

    প্রেডিকশন 
    ইউনাইটেড ২-১ পিএসজি 

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন