• চ্যাম্পিয়নস লিগ
  • " />
    X
    GO11IPL2020

     

    বর্ণবাদী মন্তব্যের পর পণ্ড পিএসজি-ইস্তাম্বুল ম্যাচ, ম্যান ইউনাইটেডকে বিদায় করে দিল লাইপজিগ

    ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের আরেকটি দুঃস্বপ্নের রাত গেল চ্যাম্পিয়নস লিগে। আরবি লাইপজিগের সঙ্গে ড্র করলে নকআউটে যেত, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা হেরে গেছে ৩-২ গোলে। চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বাদও নিশ্চিত হয়ে গেছে সেই সঙ্গে। তবে নাটকটা হয়েছে গ্রুপের অন্য ম্যাচে। পিএসজি-ইস্তাম্বুল বাসেকসেহিরের ম্যাচটা স্থগিত হয়ে গেছে বর্ণবাদের অভিযোগে।

     

    চতুর্থ রেফারির বিরুদ্ধে বর্ণবাদের অভিযোগ


     

    প্যারিসে বর্ণবাদের অভিযোগে স্থগিত হয়ে গেছে পিএসজি-ইস্তাম্বুলের ম্যাচ। বর্ণবাদের অভিযোগ এসেছে কোনো রেফারি নয়, চতুর্থ রেফারির বিরুদ্ধে। ম্যাচের সময় রেফারির একটা সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেছিলেন ইস্তাম্বুলের সহকারী কোচ ক্যামেরুনের পিয়েরে ওয়েবো। তখন চতুর্থ রেফারি রোমানিয়ার সেবাস্তিয়ান কলতেস্কুকে বলতে শোনা গেছে, ‘ওই কালো লোকটা, হ্যাঁ ওটাই কথা বলছিল।’ এই কথা শোনার পরেই মাঠে থাকা ইস্তাম্বুলের দেম্বা বা সেটার প্রতিবাদ করেন। ওয়েবো সেটা শোনার পর আরও জোর গলায় আপত্তি জানান, এরপর রেফারি লাল কার্ড দেখান তাকে। ইস্তাম্বুলের খেলোয়াড়েরা ফেটে পড়েন ক্ষোভে, পরে তারা মাঠ ছেড়ে যান। শর্ত দেন, চতুর্থ রেফারিকে উঠিয়ে না নেওয়া হলে তারা খেলা শুরু করবেন না। ইউয়েফা অবশ্য চতুর্থ রেফারির সঙ্গে ভিএআর রেফারির অদল বদল করার একটা প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু সেটা মানেনি ইস্তাম্বুল।

    এই পরিস্থিতিতে বন্ধ হয়ে যায় খেলা। পিএসজির খেলোয়াড়দের অবশ্য সাইডবেঞ্চে ওয়ার্ম আপ করতে দেখা গেছে। তবে ইস্তাম্বুলের কাউকে টিভি পর্দায় পরে দেখা যায়নি। পরে ইউয়েফা জানিয়েছে, ম্যাচটা কাল আর হবে না। আজ আবার মাঠে গড়াবে, এবার নতুন সহকারী রেফারি থাকবেন দায়িত্বে। আর এই পুরো ঘটনার তদন্ত করবে ইউয়েফা।

    ম্যাচ শেষেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন খেলোয়াড়েরা। পিএসজির এমবাপে লিখেছেন, তিনি ওয়েইবোর পাশেই আছেন। প্রতিবাদ জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানও।

    চ্যাম্পিয়নস লিগের স্বপ্ন শেষ ইউনাইটেডের

    ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কোচ ওলে গানার সোলশারের ওপর চাপ বাড়ছেই। জার্মান ক্লাব আরবি লাইপজিগের কাছে এবার ইউনাইটেড হেরে গেছে ৩-২ গোলে।

    ম্যাচের আগে পগবার এজেন্ট মিনো রাইওলার উস্কানিমূলক মন্তব্যের পর কাল পগবাকে প্রথম একাদশে নামাননি সোলশার। কিন্তু শুরুতেই রক্ষণাত্মক ভুলের মাশুল দিতে হয় দলকে। ১৩ মিনিতের মধ্যেই অ্যাঞ্জেলিনো ও হায়দারার দুই গোলে পিছিয়ে পরে ইউনাইতেড। দুবারই রক্ষণ বলতে কিছু ছিল না, নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক করতে পারেনি কোনো ডিফেন্ডার। ভিএআর অফসাইডে গোল বাতিল না করলে তিন গোলেই পিছিয়ে পড়তে পারত ইউনাইটেড।

    নিজের ভুলটা শুধরে নিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে ডনি ফন ডি বিককে নামান সোলশার। ইউনাইতেড এরপর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে একটু। ফার্নান্দেজের ফ্রিকিক পোস্টে না লাগলে ব্যবধান কমাতে পারত। উলটো ডি হিয়া ও ম্যাগিরের ভুলের সুযোগ নিয়ে জাস্টিন ক্লুইভার্ট ব্যবধান তিন গুণ করেন। এরপর শেষ চেষ্টা করে ফার্নান্দেজের পেনাল্টি থেকে ব্যবধান কমায়। এরপর কোনাতের আত্মঘাতী গোল আরেকটি কামব্যাকের স্বপ্ন দেখাচ্ছিল ইউনাইটেডকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা আর হয়নি। আরও এক মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ ইউনাইটেড। অথচ পিএসজি ও লাইপজিগকে প্রথম দুই ম্যাচে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের শুরুটা হয়েছিল স্বপ্নের মতো।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন