• চ্যাম্পিয়নস লিগ
  • " />

     

    কিক অফের আগে: কোণঠাসা ক্লপের সামনে 'গেগেনপ্রেসিং-শিষ্য' নাগেলসমান

    কিক অফের আগে: কোণঠাসা ক্লপের সামনে 'গেগেনপ্রেসিং-শিষ্য' নাগেলসমান    

    কবে কখন 

    চ্যাম্পিয়ন লিগ শেষ ১৬, লাইপজিগ-লিভারপুল

    ১৭ ফেব্রুয়ারি, রাত ২টা 

    ভেন্যু:  বুদাপেস্ট (কোভিডের কারণে জার্মানিতে হচ্ছে না লাইপজিগের হোম ম্যাচ)


     

    ইয়ুর্গেন ক্লপের সময়টা ভালো যাচ্ছে না একদম। মাকে হারিয়েছেন কদিন আগে, জার্মানিতে করোনা সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার জন্য শেষ দেখাও দেখতে পারেননি। এই শোকের সঙ্গে কিছুরই তুলনা হয় না, কিন্তু ক্লপের মাঠের বাইরের সময়টা বেশ খারাপ যাচ্ছে। এমন একটা অবস্থায় এখন খেলতে হচ্ছে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ১৬ এর ম্যাচ। প্রতিপক্ষ এমন একজন কোচ, যিনি ধ্যানজ্ঞান করেছেন ক্লপেরই মানসজাত জার্মান হেভি মেটাল প্রেসিংকে।

    ক্লপের জন্য সময়টা অবশ্য আসলেই বেশ কঠিন যাচ্ছে। এই তো , কদিন আগেই বড়দিনে ক্লপের লিভারপুল ছিল প্রিমিয়ার লিগের সবার ওপরে। সেখান থেকে নামতে নামতে এখন তারা চলে গেছে ছয়ে, নেমে যেতে পারে আরও। একের পর এক চোটে দলের অবস্থা দিশেহারা, প্রতি ম্যাচেই ছিটকে যাচ্ছেন কেউ না কেউ। সর্বশেষ লেস্টারের কাছে হারার পর ক্লপ আত্মসমর্পণের সুরে বলেই দিয়েছেন, দলের প্রিমিয়ার লিগ জেতার সম্ভাবনা দেখেন না তিনি। কাগজে কলমে ১৩ পয়েন্ট পিছিয়ে থাকার পর এমন কথায় হয়তো ভুরু কুঁচকে যেতে পারে অনেকের। কোচদের এমন কথা তো দলের মনোবল কমিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট! এর পরেই গুঞ্জন উঠেছিল, ক্লপের জায়গা নড়বড়ে হয়ে গেছে। কিছু ব্রিটিশ মিডিয়ার রিপোর্ট, ড্রেসিংরুমে খেলোয়াড়দের মধ্যে এর মধ্যেই বিভাজন দেখা দিয়েছে। ক্লপের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন অনেকে। এমন চলতে থাকলে ক্লপ এমনকি পদত্যাগও করে ফেলতে পারেন, সেই গুজবও উঠেছে।

    লাইপজিগের সঙ্গে ম্যাচের আগে এসব প্রশ্ন ক্লপের দিকে উঠেছিল স্বাভাবিকভাবেই। তবে এবার লিভারপুল কোচ সামলে নিয়েছেন অনেকটাই, স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘আমি কি বরখাস্ত হয়েছি বা নিজে থেকে সরে গেছি? না, আমার কোনো বিরতির প্রয়োজন নেই।’ এর মধ্যে অ্যানফিল্ডের বাইরে ব্যানার টাঙানো হয়েছে ক্লপের নামে, ‘ইউ উইল নেভার ওয়াক অ্যালোন’। ক্লপ এসবেরও কোনো প্রয়োজন দেখছেন না, ‘আমার এখন বাইরে থেকে কোনো বাড়তি সহানুভূতির দরকার নেই। যে জিনিসটা আমি সবার শেষে চাইব সেটা হচ্ছে পারিবারিক ব্যাপার নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলা। আমরা ব্যাপারটা সামলে নিয়েছি, পুরোপুরি পারিবারিকভাবে।’

    সংবাদ সম্মেলনে কাল উঠে এসেছিল ড্রেসিংরুমের বিবাদও, বিশেষ করে শেষ ম্যাচে আবারও ভুল করার পর গোলরক্ষক এলিসনের সঙ্গে নাকি লেগে গিয়েছিল ডিফেন্ডার রবার্টসনের। তবে অধিনায়ক হেন্ডারসন অভিযোগটা উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, দলে কোনো সমস্যা নেই। লাইপজিগের বিপক্ষে ভালো কিছু করার জন্য মুখিয়ে আছেন তারা।

    সেই কাজটা আজ সহজ হবে না বলাই বাহুল্য। লাইপজিগ যেভাবে চ্যাম্পিয়নস লিগে পরের পর্বে উঠে এসেছে তাতে তো আরও নয়। ম্যান ইউনাইটেডের কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার পর তাদের টপকেই জায়গা করে নিয়েছে শেষ ১৬তে। বুন্দেসলিগায় এখনও তারা দুইতে আছে, বায়ার্নের চেয়ে পিছিয়ে আছে ৫ পয়েন্টে। তার চেয়েও বড় কথা, দলে আছেন এমন একজন কোচ, যিনি জানেন কীভাবে খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সেরাটা বের করে আনতে হয়। গত মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগেই তো লাইপজিগ সবাইকে চমকে দিয়ে চলে গিয়েছিল শেষ চারে।

    এবারের লড়াইটা অবশ্য আলাদা গুরুত্ব পাবে অন্য একটা কারণে। রালফ রাগনিকের মস্তিষ্কপ্রসূত যে প্রেসিং (যেটাকে কিছুটা বদলে ক্লপের জন্য হয়ে গেছে হয়ে গেছে গেগেনপ্রেসিং) স্কুল, তারই দুই মানসপুত্রের মধ্যে দেখা হয়ে যাচ্ছে আজ। ইউরোপে এই মুহূর্তে জার্মান কোচদেরই জয়জয়কার। চ্যাম্পিয়নস লিগে গত মৌসুমে শেষ চারে খেলা দলের তিন জন কোচই ছিলেন জার্মান- বায়ার্নের হান্সি ফ্লিক, পিএসজির টমাস টুখেল আর লাইপজিগের নাগেলসমান। তার আগের মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছিলেন আরেক জার্মান- লিভারপুলের হয়ে ক্লপ।

    এমন নয় যে সব জার্মান ম্যানেজারেরই দর্শন এক, বরং তাদের আলাদা দর্শনও আছে। কিন্তু মূল উৎস একটাই, ১৯৮৩ সালে রাগনিকের প্রেসিং ভাবনা থেকে। ওই সময় রাগনিক ছিলেন ভিক্টোরিয়া বেকনাগ নামে ষষ্ঠ বিভাগের একটা দলের কোচ। ভ্যালেরি লোবানোভস্কির বিখ্যাত ফায়নামো কিয়েভের বিপক্ষে খেলতে গিয়েই প্রথম মাথায় আসে প্রেসিং এর ধারণা। সেটা নিয়ে কথা বলতে যাওয়ায় অবশ্য বেশ হাসাহাসি হয়েছিল রাগনিককে নিয়ে, অনেকেই তখন এটা পাগলের প্রলাপ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তবে ভলকার গিঙ্কে আর উলফগাং ফ্রাঞ্জের মনে গেঁথে গিয়েছিল সেটা, আর ফ্রাঞ্জেরই সরাসরি শিষ্য ক্লপ। অন্যদিকে রাগনিক নিজে কোচ হওয়ার চেয়ে কোচ তৈরির দিকেই মনযোগ দিয়েছিলেন, রেড বুলে তিনিই নিয়ে এসেছিলেন নাগেলসমানকে। তার আগেই হফেনহেইমে নজর কেড়েছেন নাগেলসমান, ৩০ না পেরুতেই হয়ে গেছেন ‘বেবি-কোচ ওয়ান্ডার’। রাগনিক রেড বুল লাইপজিগের স্পোর্টিং ডিরেক্টর হয়ে তাই হিরে চিনতে ভুল করেননি, নাগেলসমানও প্রমাণ করে যাচ্ছেন সেটাই।

    আজকের লড়াইটা তাই দুই প্রজন্মের দুই জার্মান কোচের জন্য অন্য একটা দ্বৈরথও। ক্লপকে দারুণ শ্রদ্ধা করেন নাগেলসমান, ক্লপও এই তরুণ জার্মান কোচকে বেশ সমীহের চোখে দেখেন। সর্বশেষ ২০১৭ সালে প্লে অফে দেখা হয়েছিল তাদের, সেবার জিতেছিলেন ক্লপ। তবে এবার কাজটা সহজ হবে না নিশ্চিতভাবেই।

     

    সম্ভাব্য একাদশ

    লিভারপুল: এলিসন, রবার্টসন, কাবাক, হেন্ডারসন, আলেকজান্ডার আরনল্ড, থিয়াগো, ভিনালডাম, জোন্স, সালাহ, মানে, ফিরমিনো 

    লাইপজিগ: গুলাসি, মুকেলে, উপামেকানো, ক্লস্টারমান, অ্যাডামস, সাবিতের, কামপ্লল, অলমো, আঞ্জেলিনো, পলসেন, এনকুকু

     

    প্রেডিকশন

    লাইপজিগ ১: ২ লিভারপুল

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন