• চ্যাম্পিয়নস লিগ
  • " />

     

    মাদ্রিদে 'ভিনি-ভিডি-ভিসিতে' লিভারপুলকে টেক্কা দিল রিয়াল

    মাদ্রিদে 'ভিনি-ভিডি-ভিসিতে' লিভারপুলকে টেক্কা দিল রিয়াল    

    সার্জিও রামোসকে দেখা গেল হিপস্টার হয়ে গ্যালারিতে বসে আছেন। তিন বছর আগের স্মৃতিটা নিশ্চয় মনে পড়ছিল তার। সেই কিয়েভের স্মৃতিটা প্রথমার্ধে তো ফিরিয়ে আনল রিয়াল, তবে এবার রামোসের সাহায্য ছাড়াই। প্রথমার্ধের দুই গোলেই ম্যাচের ভাগ্য অনেকটা নিশ্চিত করে ফেলেছে রিয়াল। পরে  লিভারপুল অ্যাওয়ে গোল পেলেও ভিনিসিয়াস নিশ্চিত করেছেন, দুই গোলের লিড নিয়েই অ্যানফিল্ড যাচ্ছে রিয়াল।

    ম্যাচের আগেই রাফায়েল ভারানকে হারিয়ে ফেলে রিয়াল, রক্ষণে নাচোর সঙ্গীও এদার মিলিতাও। তবে প্রথমার্ধে তেমন কোনো পরীক্ষা দিতে হয়নি রিয়ালের মেকশিফট ডিফেন্সকে। প্রথমার্ধে আসলে লিভারপুলকে নিয়ে ছেলেখেলাই করেছে রিয়াল। শুরু থেকেই চেপে ধরেছিল রিয়াল, বাঁদিকে ট্রেন্ট আলেকজান্ডার আরনল্ডকে শুরুতেই ঘোল খাইয়ে ফার্লান্দ মেন্ডি জানান দিলেন, লিভারপুলের কপালে শনি অপেক্ষা করছে। করিম বেনজেমা শুরুতেই একটা শট করেছিলেন, এরপর লিভারপুলকে রক্ষণেই ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। ভিনিসিয়াসের হেড পোস্টের পাশ ঘেঁষে চলে না গেলে শুরুতেই এগিয়ে যেতে পারত। তবে প্রথম গোলের জন্য খুব বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি রিয়ালকে। ২৭ মিনিটের গোলটা ছিল আপাতদৃষ্টিতে একদম সরল। টনি ক্রুসের লং বলটা দৌড়ে গিয়ে ধরে দুজন ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে ছিটকে বেরিয়ে এলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র, বুক দিয়ে সিরিভ করার পর ডান পায়ে জড়িয়ে দিলেন জালে। তবে যারা গোলটা দেখেছেন, তারা বুঝতে পারবেন ক্রুসের ক্রস আর ভিনিসিয়াসের রিসিভ ও ফিনিশিং কতটা কঠিন ছিল।

    চোখে লেগে থাকার মতো এই গোলের পর খেই হারিয়ে ফেলেছে লিভারপুল। দ্বিতীয় গোলটা এসেছে সরাসরি নিজেদের ভুলে, এবারও উৎস ক্রুস। তার লং বলটা হেড দিয়ে ক্লিয়ার করতে গিয়ে মার্কো আসেন্সিওরর পায়ে তুলে দেন আরনল্ড। এবারও দারুণ এক টাচে এলিসনের ওপর বল নিয়ে এরপর সহজে কাজটা সেরেছেন আসেন্সিও। এরপর আবারও ভুল করেছিল লিভারপুল, তবে ভাগ্য ভালো সেজন্য তাদের শাস্তিটা পেতে হয়নি বেশি।

    কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধেই ম্যাচে ফিরে আসে লিভারপুল। ভিনালদামের দারুণ এক দৌড়ের পর বল পেয়েছিলেন জোটা, তার শট ডিফ্লেটেড হয়ে চলে যায় সালাহর কাছে। সালাহর শট ঠেকাতে পারেননি কোর্তোয়া, বল চলে যায় জালে। খানিক পর আরনল্ডের দারুণ এক ভলি-ক্রসে জোটার হেডে দ্বিতীয় গোলটা পেয়েই গিয়েছিল লিভারপুল, কিন্তু বল চলে যায় বাইরে।

    তবে নিজেদের তিন নাম্বার গোলটা খানিক পরেই পেয়ে গেছে রিয়াল। আসেন্সিও সহজে একটা সুযোগ নষ্ট করার পর বেনজেমার পাস থেকে বক্সের ভেতর ঢুকে পড়েন মদ্রিচ। আনমার্কড ভিনিসিয়াস ডান পায়ের ফিনিশে জড়িয়ে দেন জালে। রিয়ালের হয়ে ১০৬ মযাচে এই প্রথম জোড়া গোল পেলেন ভিনিসিয়াস। চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসে তার চেয়ে কম বয়সে ম্যাচে জোড়া গোল পেয়েছেন শুধু এমবাপে।

    এরপর চেষ্টা করেও আর ব্যবধান কমাতে পারেনি লিভারপুল। রিয়াল তাই জয়ের সঙ্গে বার্সাকেও বার্তা দিয়ে রেখেছে, ক্লাসিকোতে দারুণ একটা লড়াই-ই দেখা যাবে।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন