• চ্যাম্পিয়নস লিগ
  • " />

     

    লিভারপুলের স্বপ্ন ভেঙে সেমিতে জিদানের রিয়াল

    লিভারপুলের স্বপ্ন ভেঙে সেমিতে জিদানের রিয়াল    

    ম্যাচের আগেই খবর আসে, অ্যানফিল্ডে ঢোকার সময় রিয়াল মাদ্রিদের বাসে পড়েছে ঢিল, ভেঙে গেছে কাচ। তবে কাল অ্যানফিল্ডে শুধু জানালার কাচ ভাঙেনি, ভেঙেছে লিভারপুলের স্বপ্নও। রিয়াল মাদ্রিদকে চেপে ধরেও গোল পায়নি, অন্যদিকে সহজ সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি রিয়ালও। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য ড্রতেই শেষ হয়েছে ম্যাচ, দুই লেগ মিলে ৩-১ গোলে জিতেই ৩৫তম বারের মতো ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতার সেমিতে উঠে গেছে রিয়াল। সেখানে তাদের সঙ্গে দেখা হচ্ছে থমাস তুখেলের চেলসির।

    পিছিয়ে পরেই আজ মাঠে নেমেছিল লিভারপুল, নিজেদের মাঠে দিতে হতো অন্তত তিন গোল। সেটা যে এর আগে করতে পারেনি তা নয়।  অ্যানফিল্ডে কামব্যাকের অনেক স্মরণীয় গল্প আছে, বার্সেলোনার ম্যাচটা তো অনেকেরই মনে থাকার কথা। এ ছাড়াও অন্তত দুই গোলে পিছিয়ে থেকে গত ১৩ ম্যাচে লিভারপুল ঘুরে দাঁড়িয়েছে আরও এক বার। আর রিয়াল পিছিয়ে থেকে একবারই হেরেছিল, সেই ২০০৪-৫ মৌসুমে দুই গোলে। 

    লিভারপুল আজ শুরু থেকেই জানান দিচ্ছিল, সেরকম কিছু তারা করতে চায়।ম্যাচ শুরুর দুই মিনিটের মধ্যেই এগিয়ে যেতে পারত লিভারপুল। মানের বল থেকে ফাঁকায় পেয়ে গিয়েছিলেন মো সালাহ, কিন্তু তার শট ঠেকিয়ে দেন থিবো কোর্তোয়া। দশ মিনিটের মধ্যে আবার কোর্তোয়া ত্রাতা। এবার বক্সের বাইরে জেমস মিলনারের টপ কর্নারের দিকে নেওয়া শট সেভ করেছেন উড়ে গিয়ে।

    কাঁপাকাঁপির পর রিয়াল পজেশন নিয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে। কিন্তু ঠিক গোল করার মতো পরিষ্কার সুযোগ পাচ্ছিল না। সেটা পেয়ে যায় হঠাৎ করেই, করিম বেনজেমার বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া শট লিভারপুলের একজনের পায়ে লেগে দিক বদলে আরেকটু হলেই ঢুকে যেত জালে। কিন্তু সেটা পোস্টে লেগে ফিরে আসে, সে যাত্রা বেঁচে যায় লিভারপুল।

    তবে লিভারপুল আবার ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে। বাম দিকে মেকশিফট রাইটব্যাক ফ্রেডি ভালভের্দেকে প্রায়ই ঘোল খাওয়াচ্ছিলেন মানে। মধ্যে কাসেমিরোর একটা ট্যাকলকে ঘিরে খানিকটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি, কিন্তু সেটা বেশিদূর গড়ায়নি। তবে প্রথমার্ধের শেষ দিকে গোল করার মহামূল্যবান দুইটি সুযোগ হারায় লিভারপুল। প্রথমবার সালাহ ফাঁকায় বল পেয়েও বক্সের ভেতর থেকে সেটা মেরে দেন বাইরে। কয়েক মিনিটের মধ্যে ট্রেন্ট আলেকজান্ডার আরনল্ডের ক্রস চলে আসে ভিনালদামের কাছে। তিনি ছিলেন কয়েক গজ দূরে, কিন্তু সেখান থেকেই বল মেরে দেন পোস্টের ওপর দিয়ে। গোলশূন্য ড্র থেকেই তাই শেষ হয় প্রথমার্ধে দুই দলের খেলা।

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আবার দুইটি সুযোগ পেয়ে যায় লিভারপুল। তবে এবার দুইটি রবার্তো ফিরমি্নোর কাছে। প্রথমবার বক্সের ভেতর বল পেয়ে ডান পায়ের শট নেন, কিন্তু এবারও ঠেকিয়ে দেন কোর্তোয়া। খানিক পরেই আবার আরনল্ডের ক্রস থেকে হেড করেছিলেন, কিন্তু সেটা চলে যায় পোস্টের ওপর দিয়ে।

    ৬৭ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার বড় একটা সুযোগ হারায় রিয়াল। পালটা আক্রমণ থেকে ভিনিসিয়াস একা পেয়ে গিয়েছিলেন এলিসনকে, কিন্তু সেভ করেন লিভারপুল গোলরক্ষক। ফিরতি বলে বেনজেমাও সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু এবারও এলিসন বাঁচিয়ে দেন। লিভারপুল অবশ্য একের পর এক এক আক্রমণ করে যাচ্ছিলই, কিন্তু গোলটা আসছিল না। কখনো রিয়াল ডিফেন্ডারদের ব্লকে, আবার কখনো নিজেদের ব্যর্থতায় গোল আর হচ্ছিল না।

    রিয়ালের খেলোয়াড়দের মধ্যে টানা খেলার ক্লান্তি বোঝা যাচ্ছিল খুব ভালোমতোই। বিশেষ করে মধ্যমাঠে আরও বেশি। লিভারপুল বল নিজেদের দখলেই রেখেছিল, কিন্তু সুযোগটা পাচ্ছিল না। বরং বেনজেমা আর রদ্রিগো দুইটি ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু কাজে লাগাতে পারেননি কেউই। শেষ পর্যন্ত অ্যানফিল্ডে ম্যাচটা শেষ হয়েছে ড্রতেই। জিদানের এই মৌসুমে স্বপ্নযাত্রাটা তাই অব্যাহতই রইল। ক্লাসিকোর পর লা লিগার জয়ের সম্ভাবনা অনেকটাই উজ্জ্বল, এবার আরেকটি চ্যাম্পিয়নস লিগও দিচ্ছে হাতছানি।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন