• চ্যাম্পিয়নস লিগ
  • " />

     

    কিক অফের আগে: রিয়াল-চেলসির প্রথম দেখায় লাগবে মাঠের বাইরের উত্তাপ?

    কিক অফের আগে: রিয়াল-চেলসির প্রথম দেখায় লাগবে মাঠের বাইরের উত্তাপ?    

    চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনাল, ১ম লেগ 

    রিয়াল মাদ্রিদ-চেলসি

    আলফ্রেড ডি স্টেফানো স্টেডিয়াম, বাংলাদেশ সময় রাত ১টা


     

    শুরুতেই আগে একটা তথ্য জানিয়ে রাখা দরকার, চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসে কখনোই মুখোমুখি হয়নি রিয়াল মাদ্রিদ ও চেলসি। কখনোই না। তাদের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস আছে শুধু ১৯৯৮ সালের সুপার কাপে আর ৫০ বছর আগে কাপ উইনার্স কাপের ফাইনালে। সেই দুইটি ম্যাচই জিতেছিল চেলসি। তবে চেলসি গত ১৯-২০ বছর ধরে নিয়মিত চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলার পরও রিয়ালকে একবারও পায়নি, ব্যাপারটা আপনার একটু অবাক লাগলেও লাগতে পারে।

    তবে দুই দলের লড়াইটা নিয়মিত দেখার একটা প্রেক্ষাপট কিন্তু তৈরি হচ্ছিল। ইউরোপিয়ান সুপার লিগের ধারণাটা যদি পোক্ত হয়ে যেত, তাহলেই নিয়িত দেখা হতে পারত দুই দলের। গত দুই সপ্তাহে সেটা নিয়ে ইউরোপিয়ান ফুটবল রীতিমতো উত্তপ্তই ছিল। শেষ পর্যন্ত এই বিপ্লব আপাতদৃষ্টিতে ব্যর্থ বলেই মনে হচ্ছে। উত্তেজনা থিতিয়ে আসার পর আজ প্রথম মাঠে গড়াচ্ছে চ্যাম্পিয়নস লিগ। মাঠের বাইরের উত্তেজনার আঁচ কি একটু লাগবে আজ?

    অন্তত ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ আর রোমান আব্রাহিমোভিচের মধ্যে একটা চাপান উতোর থাকলেও থাকতে পারে। ইউরোপিয়ান লিগ যখন সময়ের ব্যাপার বলে মনে হচ্ছিল, তখন ভক্তদের প্রতিবাদের পর চেলসিই প্রথম সরে দাঁড়ানোর আভাস দিয়েছে। স্টামফোর্ড ব্রিজে সমর্থকদের শান্ত করতে মাঠে নেমে আসতে হয়েছিল চেলসি ডিরেক্টর পিওতর চেককে। পেরেজ পরে উষ্মা নিয়েই বলেছেন, ৪০ জন সমর্থকের মুখে একটা ক্লাব সরে দাঁড়িয়েছে। এমনও বলেছেন, একটা ক্লাবের জন্যই বাকি ইংলিশ ক্লাবগুলো পিছু হটেছে। ইঙ্গিত যে চেলসির দিকে, সেটা না বোঝার কারণ নেই। তবে পেরেজ একটা ব্যাপারে একটু ভুল করছেন, ৪০ জন নয়, স্টামফোর্ড ব্রিজের সামনে ছিলেন হাজার খানের সমর্থক। আজ মাঠে অবশ্য তারা কেউ থাকতে পারবেন না, তবে লড়াইটা পানসে হয়ে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই তাতে।

    দুজনের জন্য তো আজকের ম্যাচটা অনেক অন্যরকম। এডেন হ্যাজার্ড চেলসি থেকে রিয়ালে পাড়ি জমিয়েছেন এক মৌসুম আগে। কিন্তু মাঠের চেয়ে মাঠের বাইরেই বেশি সময় কাটাতে হচ্ছে তাকে। আজ অবশ্য চোট কাটিয়ে ফিরেছেন দলে, পুরনো ক্লাবের বিপক্ষে নামলেও নামতে পারেন। চেলসির ফর্মের কিছুটা টেনে নিয়ে আসতে পারলেও রিয়ালের জন্য সেটা প্রাপ্তি হতে পারে।

    সব মিলে আজকের ম্যাচে কাউকে এগিয়ে রাখা কঠিন। লা লিগায় এখনও শিরোপা সম্ভাবনা বেঁচে আছে রিয়ালের, আর চ্যাম্পিয়নস লিগে গ্রুপ পর্বের ধাক্কা সামলে আরও একবার উঠে এসেছে সেমিফাইনালে। চেলসির জন্য অবশ্য সেমিফাইনালের অভিজ্ঞতা সাত বছর পর। তবে তুখেল দায়িত্ব নেওয়ার পর বদলে দিয়েছেন অনেকটাই। ঘরোয়া লিগে তারা শীর্ষ চারের লড়াইয়ে আছে, চ্যাম্পিয়নস লিগ নকআউটে অ্যাটলেটিকোর পর হারিয়েছে পোর্তোকে।

    আর আরেকজন আজ নিশ্চিতভাবেই নামবেন মাঠে। থিবো কোর্তোয়াও রিয়ালে গিয়ে শুরুতে ভুগেছেন, কিন্তু এখন পোস্টের নিচে তার চেয়ে বিশ্বস্ত কারও কথা ভাবছে না রিয়াল। চেলসির হয়ে তার স্মৃতিও কম নেই, সেগুলো ফিরে আসতে পারে আজ।

    দলের খবর

    হ্যাজার্ডকে ফিরে পাচ্ছেন জিদান, সঙ্গে চোট কাটিয়ে ফিরছেন টনি ক্রুস। কিন্তু চোট থেকে এখনো সেরে না ওঠায় ফার্লান্দ মেন্দি, সার্জিও রামোসকে পাচ্ছে না রিয়াল। চেলসি অবশ্য বড় কোনো চোটের শংকা নেই, শুধু মাতেও কোভাচিচকে আজ পাচ্ছেন না থমাস তুখেল।

    সম্ভাব্য একাদশ

    রিয়াল মাদ্রিদ

    কোর্তোয়া, মিলিতাও, নাচো, ভারানে, কারভাহাল, কাসেমিরো, ক্রুস, মদ্রিচ, আসেন্সিও, ভিনিসিয়াস, বেনজেমা।

    চেলসি

    মেন্ডি, আজপিলিকুয়েতা, থিয়াগো সিলভা, রুদিগার, জেমস, চিলওয়েল, জর্জিনহো, কান্তে, মাউন্ট, ভার্নার, হ্যাভার্টজ।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন