• চ্যাম্পিয়নস লিগ
  • " />

     

    সিটির পিএসজি জয়: যে পাঁচ জায়গায় বাজিমাত করেছেন গার্দিওলা

    সিটির পিএসজি জয়: যে পাঁচ জায়গায় বাজিমাত করেছেন গার্দিওলা    

    ১০ বছর পর অবশেষে ফাইনালে উঠলেন পেপ গার্দিওলা, ৫১ বছর পর আরেকটি ইউরোপিয়ান ফাইনালে উঠল ম্যানচেস্টার সিটি। সেমিতে দুই লেগ মিলে পিএসজিকে ৪-১ গোলে হাররিয়েছে, দুই ম্যাচেই পচেত্তিনোকে টেক্কা দিয়েছেন গার্দিওলা। কিন্তু কীভাবে সম্ভব করলেন সেটা? সেটার উত্তর আছে এই পাঁচ ব্যাখ্যায়:

     

    ১) দল হিসেবে খেলেছে সিটি

    এই মৌসুমে যেমন, সেমির দুই লেগেও দল হিসেবে খেলেছে সিটি। এই মৌসুমে দুর্দান্ত ক্যান্সেলোর প্রথম লেগে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর তাকে বসিয়ে জিংচেঙ্কোকে নামিয়েছিলেন গার্দিওলা। ওদিকে রদ্রির জায়গায় অভিজ্ঞ ফার্নান্দিনহোকে নামানোর জুয়াও লেগে গেছে। পিএসজি সেখানে নির্ভর করেছে ব্যক্তিগত ঝলকের ওপর। ডি মারিয়া, নেইমারদের মতো পার্থক্য গড়ে দেওয়ার মতো খেলোয়াড় থাকার পরও দ্বিতীয় লেগে একটা শটও জালে রাখতে পারেনি। মাহরেজের মতো খেলোয়াড় মৌসুমের অনেকটা সময় অনিয়মিত থাকার পরও আসল জায়গায় এসে বাজিমাত করে গেছেন।

     

    ২) 'দিয়াজ' মিসিং লিংক

    এই মৌসুমের আগেই গার্দিওলা সিটি বোর্ডকে বলেছিলেন, রুবেন দিয়াজইকে তার চাই-ই চাই। সেজন্য ওটামেন্ডির সঙ্গে আরও ৫৪ মিলিয়িন ইউরো দিয়ে বেনফিকা থেকে তাকে নিয়ে এসেছেন গার্দিওলা। ডিয়াজ প্রিমিয়ার লিগে এই মৌসুমে দেখিয়েছেন, কেন তার ওপর ভরসা রেখেছেন গার্দিওলা। সেমির দ্বিতীয় লেগে সেটা দেখা গেছে আরও বেশি করে। পুরো ম্যাচে একের পর এক ক্লিয়ারেন্স করে গেছেন, অন্য তিন ডিফেন্ডারদেরও কাভার দিয়েছেন সময়মতো। নেইমার, ডি মারিয়াদের শট ব্লক করেছেন, ইকার্দিকে করে রেখেছেন বোতলবন্দি।

     

    ৩) সিলভার যোগ্য উত্তরসূচি ফোডেন

    ডেভিড সিলভা চলে যাওয়ার পর তার জায়গা কে নেবেন, সেটা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। গত মৌসুমে তার আভাস দিয়েছিলেন ফোডেন, এই মৌসুমে উত্তর দিয়েছেন পুরোপুরি। ফ্রি রোলে আজও ছিলেন দুর্দান্ত, তাকে ম্যাচসেরাও বলা যেতে পারে আজ। দ্বিতীয় গোলটা এসেছে তার দারুণ অ্যাসিস্ট থেকেই। ভাগ্য ভালো থাকলে নিজেও গোল পেতে পারতেন গোটা দুয়েক। এই মৌসুমে সিটির প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে গোল ও অ্যাসিস্টের ডাবল ফিগার ছুঁয়েছেন। ফোডেন ধাঁধার তাই উত্তর ছিল না পচেত্তিনোর কাছে, সিটির আক্রমণে এটাই গড়ে দিয়েছে ব্যবধান।

     

    ৪) অতি ভাবনা ভাবেননি গার্দিওলা

    ঘরোয়া লিগে দুর্দান্ত হলেও পেপ গার্দিওলার বিপক্ষে অভিযোগ ছিল, তিনি চ্যাম্পিয়নস লিগ আসলেই সবকিছু ভজঘট পাকিয়ে ফেলেন। ট্যাকটিক্স নিয়ে বেশি পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে গিয়ে প্রতিবারই তাই হয় কোয়ার্টার না হয় সেমিতে আটকে গেছেন, এমন অভিযোগ ছিল। তবে পিএসজির সঙ্গে এবার গার্দিওলা সেরকম ভুল করেননি। এবারের লিগে তার পছন্দের একাদশের ওপরেই আস্থা রেখেছেন প্রথম লেগে, দ্বিতীয় লেগে শুধু অভিজ্ঞতা আর ফর্মের জন্য এনেছেন দুইটি বদল। তবে আক্রমণের চার জনকে আর বদলাননি। সেজন্য স্ট্রাইকার ছাড়াই সিটি দুই ম্যাচে চার গোল দিয়েছে।

     

    ৫) আধুনিক কিপিংয়ের প্রতীক এডারসন

    সিটির প্রথম গোলটা কীভাবে এসেছে, অনেকের মনে থাকার কথা। এডারসনের বাঁ পায়ের কিক ঠিক খুঁজে নিয়েছে জিংচেঙ্কোকে। বল পায়ে দুর্দান্ত এডারসন, এখানে সম্ভবত তাকে বিশ্বসেরাই বলতে হবে। কেন তার ওপর গার্দিওলা ভরসা করেন, সেটা দেখিয়েছেন আজ। আধুনিক গোলরক্ষক হতে হলে এই গুণটা জরুরি, বিশেষ করে বড় ম্যাচে- সেটা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন এডারসন।