• চ্যাম্পিয়নস লিগ
  • " />

     

    চেলসির রিয়াল-জয়: যে পাঁচ জায়গায় জিদানকে টেক্কা দিয়েছেন তুখেল

    চেলসির রিয়াল-জয়: যে পাঁচ জায়গায় জিদানকে টেক্কা দিয়েছেন তুখেল    

    থমাস তুখেল আরও একবার বাজিমাত করেছেন। গত মৌসুমে পিএসজিকে নিয়ে উঠেছিলেন ফাইনালে, এবার উঠেছেন চেলসিকে নিয়ে। ট্যাকটিক্যালি ও তেকনিক্যালি জিনেদিন জিদানকে হারিয়েছেন ভালোভাবেই। কিন্তু কোন পাঁচ জায়গায় আজ জিদানের রিয়ালকে টেক্কা দিয়েছে চেলসি।

     

    ১) ৩-৫-২ সবার জন্য নয়

    জিদান আজ দুই উইংব্যাক নিয়ে নেমেছিলেন, তিনজনকে সেন্টারে খেলিয়ে। তুখেলও তাই। কিন্তু তুখেলের যেখানে মধ্যমাঠে কান্তে আর জর্জিনহোর মতো খেলোয়াড় ছিল, সেখানে জিদানের কাসেমিরো সুবিধা করতে পারেননি। অন্যদিকে ভিনিসিয়াসকে উইংব্যাক হিসেবে খেলানোর ফাটকাও কাজে আসেনি। পরে তাকে নামালেও ফর্মেশন চেঞ্জ করেননি জিদান, সেটা করেছেন একদম শেষে। তুখেল বুঝিয়ে দিয়েছেন, এই ফর্মেশনে তার কাছে আরও ভালো খেলোয়াড় ছিল। জিদান তাই আজ ট্যাকটিক্যালি মার খেয়ে গেছেন তুখেলের কাছে।

    ২) একজন কান্তের পার্থক্য

    এনগোলো কান্তে আগের লেগের পর এই লেগেও প্রমাণ করেছেন, কেন নিজের দিনে তিনি বিশ্বের সেরা মিডফিল্ডার। পুরো মাঠে চষে খেলেছেন এবারও, অনবরত প্রেসিং করে গেছেন রিয়ালকে। দ্বিতীয় গোলটা এসেছে তার প্রেসিং থেকে রিয়ালের ভুলের পরেই। কাসেমিরো-মদ্রিচরা এখানে টেক্কা দিতে পারেননি তার সঙ্গে, খেলার বড় একটা ব্যবধান গড়া হয়ে গেছে এখানেই।

    ৩) বয়স আর তারুণ্যের ব্যবধান

    রিয়ালের মধ্যমাঠে বয়সের ছাপ আজ বোঝা গেছে ভালোমতোই। মদ্রিচ-ক্রুস যেন ছিলেন ক্লান্ত, খুব দ্রুত আক্রমণে যেতে পারেনি তারা। সেজন্য বেনজেমাদের সাথে তাদের সমন্বয়ও ঠিকমতো হয়নি। রক্ষণেও রামোস-নাচোরা তুলনামূলক তরুণ হ্যাভার্টজ-পুলিসিচদের সামলাতে ব্যর্থ হয়েছেন। দ্বিতীয়ার্ধে তাই চেলসির আক্রমণ বার বার রিয়ালের রক্ষণ ভেদ করেছে। রামোস দলে ফিরলেও জানান দিয়েছেন, তার মধ্যেও পড়তে শুরু করেছে বয়সের ছাপ।

    ৪) একজন কোয়ালিটি গোলরক্ষক

    রিয়ালের হয়ে কোর্তোয়া যদি দুর্দান্ত হন, চেলসির হয়ে মেন্ডি তার চেয়ে কম কিছু ছিলেন না। এই গোলকিপিং নিয়ে অনেক দিন ধরে ভুগেছে চেলসি। কেপার ভুলের মাশুল দিয়ে হারতে হয়েছে বেশ কিছু ম্যাচ। এই মৌসুমের শুরুতে মেন্ডিকে আনার পর তাই দারুণ উন্নতি হয়েছে তাদের। এই চ্যাম্পিয়নস লিগে ১১ ম্যাচের মধ্যে আটটিতেই ক্লিন শিট রেখেছেন মেন্ডি, চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসে কোনো ইংলিশ দলের গোলরক্ষকের এই কীর্তি নেই।

    ৫) এবং থিয়াগো সিলভার মিসিং লিংক

    গত মৌসুমে পিএসজিতে কোচ ছিলেন তুখেল, ছিলেন থিয়াগো সিলভাও। এই মৌসুমে সিলভা চলে এসেছিলেন চেলসিতে, পরে এসেছেন তুখেল। সিলভা এই বয়সে কতটা কী করতে পারবেন প্রশ্ন ছিল, তবে সব উত্তর দিয়েছেন এই কয়েক ম্যাচে। বেনজেমা-হ্যাজার্ডকে বলতে গেলে তেমন কোনো সুযোগ দেননি, সঙ্গে রুদিগারও ছিলেন দারুণ। তুখেল তাই পুরনো ছাত্রকে কাজে লাগিয়েছেন খুব ভালোভাবেই।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন