• অন্যান্য
  • " />

     

    বাঁশের ব্যাটকে এমসিসির 'না'

    বাঁশের ব্যাটকে এমসিসির 'না'    

    উইলো কাঠের পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে তৈরি ব্যাট নিয়ে একটি গবেষণা সামনে আসার পর এ নিয়ে নিজেদের মত জানিয়েছে ক্রিকেটের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা এমসিসি- মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব। আপাতত এটিকে ক্রিকেটের আইনের বিরোধী বলে জানিয়েছে তারা। তবে স্থায়ীত্বের কথা ভেবে এ ব্যাপারে পরবর্তী মিটিংয়ে আলোচনা করা হবে বলেও এক বিবৃতিতে জানিয়েছে এমসিসি। 

    সম্প্রতি কেমব্রিজের সেন্টার ফর ন্যাচারাল ম্যাটেরিয়াল ইনোভেশনের দুজন গবেষক- ডক্টর দারশিল শাহ ও বেন টিঙ্কলার-ডেভিস দেখিয়েছেন, ক্রিকেট ব্যাট তৈরিতে ব্যবহৃত চিরায়ত উইলো কাঠের বিকল্প হতে পারে বাঁশ। তাদের মতে, উইলোর চেয়ে প্রায় অর্ধেক সময় লাগে বাঁশের পরিণত হতে, এবং এটি উৎপন্ন হয় পৃথিবীর বেশ কিছু অঞ্চলে, যেখানে উইলোর জন্য মূলত ইংল্যান্ডের একটি অঞ্চলের ওপরই নির্ভর করতে হয়। 

    তবে এ গবেষণা উত্থাপন করার সময়ই সে দুই গবেষক বলেছিলেন, বাঁশকে কাঠ না ধরে যেহেতু ঘাস ধরা হয়, সেহেতু এমসিসির আইনের পরিবর্তন দরকার এ ধরনের ব্যাটের অনুমোদনের জন্য। যদিও ব্যাটের হ্যান্ডেল তৈরিতে এক রকমের বেত ব্যবহার করা হয়ে থাকে বলে সেটি ক্রিকেটের স্পিরিটের একেবারে বাইরে নয় বলেও মত ছিল তাদের। 

    তবে এমসিসি বলছে, শুধু বাঁশের ঘাস হওয়া নয়, ক্রিকেটের আইনের অন্য অংশের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক এর উৎপাদনের প্রক্রিয়া, “এই মুহুর্তে আইনের ৫.৩.২ ধারা বলে, ব্যাটের ব্লেড অবশ্যই পুরোটাই কাঠের তৈরি হতে হবে, ফলে বাঁশকে (যেটি ঘাস) উইলোর বাস্তবসম্মত বিকল্প বিবেচনা করতে গেলে আইনে পরিবর্তন আনতে হবে। 

    “তবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে, বাঁশ কাঠ হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও এটি আইনের আওতায় অবৈধ হবে, কারণ ব্যাটে আস্তরণ নিষিদ্ধ (জুনিয়র ক্রিকেট ছাড়া)।” কেমব্রিজের গবেষণায় বাঁশ থেকে যে ব্যাট তৈরির প্রক্রিয়া, সেটিতে আস্তরণ ব্যবহার করা আবশ্যক। 

    এমসিসি তাদের বিবৃতিতে আরও বলেছে, ক্রিকেট আইনের অভিভাবক হিসেবে ব্যাট ও বলের ভারসাম্য রক্ষা করা কর্তব্য তাদের। তাই আইন বদলানোর আগে সতর্কভাবে সবকিছু বিবেচনা করতে হবে তাদের। ২০০৮ ও ২০১৭ সালে ব্যাট তৈরির উপকরণ ও আকার সীমাবদ্ধ করার কথাও উল্লেখ করেছে তারা। 

    তবে, “এমসিসি এবং ক্রিকেটের জন্য স্থায়ীত্ব একটা প্রাসঙ্গিক ব্যাপার। উইলোর বিকল্পের দিকটা বিবেচনা করতে হবে। গবেষকরা যেমন বলেছেন, চীনে এমন বাঁশ পর্যাপ্ত পরিমাণে উৎপন্ন হয় এবং এর উৎপাদন খরচও কম, ফলে উইলোর একটা বিকল্প হতে পারে বাঁশ। এর মাধ্যমে আরও গবেষণা করা যেতে পারে, বিশ্বের নানা প্রান্তে ব্যাটের খরচ কমানোর সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।” 

    “এ বিষয়ে ক্লাবের পরবর্তী সাব-কমিটি মিটিংয়ে আলোচনা করা হবে”, যোগ করেছে এমসিসি। 


     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন