• চ্যাম্পিয়নস লিগ
  • " />

     

    কিক অফের আগে: অল ইংলিশ রাতে ম্যান সিটির প্রথম না চেলসির দ্বিতীয়?

    কিক অফের আগে: অল ইংলিশ রাতে ম্যান সিটির প্রথম না চেলসির দ্বিতীয়?    

    চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল, ম্যানচেস্টার সিটি-চেলসি

    স্তাদিও দো দ্রাগাও, পোর্তো।

    রাত ১টা


    চেলসির দ্বিতীয় না ম্যান সিটির প্রথম?

    শিরোপাটা চেলসি জিততে পারত ২০০৮ সালেই। মস্কোতে বৃষ্টিভেজা রাতে জন টেরি পা পিছলে যাওয়ায় সে বছর ট্রফিটা পাওয়া হয়নি তাদের। তবে সেই আক্ষেপ ঘুঁচেছে চার বছর পর এসে। ২০১২ সালে আরেকটি অবিশ্বাস্য রাতে বায়ার্নকে হারিয়ে চেলসির স্বপ্নপূরণ হয়েছে।

    অন্যদিকে ম্যান সিটির জন্য ফাইনালের অভিজ্ঞতা নতুন। সেমিফাইনাল পর্যন্ত দৌড় ছিল সিটির। তবে ঘরোয়া সবকিছু জেতা হয়ে গেলেও চ্যাম্পিয়নস লিগটাই তাদের কাছে চূড়ান্ত লক্ষ্য এখন। সেই লক্ষ্যের এখন খুব কাছাকাছি সিটি। 



    লড়াইটা গার্দিওলা ও তুখেলেরও

    বার্সেলোনার হয়ে দুবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পর এই শিরোপাটা অধরা থেকে গেছে গার্দিওলার কাছে। বায়ার্নের হয়ে দুবার সেমিতে গিয়ে ফিরে এসেছেন, আর সিটির হয়ে এই প্রথমবার গেছেন ফাইনালে। অন্যদিকে পিএসজিকে গত মৌসুমেই ফাইনালে নিয়ে গিয়েছিলেন তুখেল, কিন্তু শিরোপা জেতাতে পারেননি। এবার চেলসিকে নিয়ে প্রথমবারের মতো এই ট্রফি জয়ের হাতছানি জার্মান কোচের সামনে।

     

    নিকট অতীত পুনরাবৃত্তি করতে পারবে চেলসি?

    সর্বশেষ ছয় সপ্তাহের দুবারেই দেখাতেই ম্যান সিটি হেরেছে চেলসির কাছে। প্রথমবার এফএ কাপের সেমিতে, যেখানে গার্দিওলা মার খেয়ে গেছিলেন তুখেলের ট্যাকটিকসের কাছে। এরপরে প্রিমিয়ার লিগ জয়ের দুয়ারে এসে চেলসির কাছে হেরে পিছিয়ে যায় চেলসির জয়োৎসব। অবশ্য এই দুই ম্যাচে সিটির সেরা দল খেলানো হয়েছিল কি না, তা নিয়ে তর্ক হতে পারে। দুই ম্যাচে খেলা স্টার্লিং, জেসুসরা আজ বেঞ্চে থাকতে পারেন। সিটির এখন যে যে সেরা একাদশ, সেটা খেলালে চেলসির আগের দুবারের কীর্তি আবার করে দেখানোটা কঠিনই হবে।

     

    কেন পোর্তোতে হচ্ছে এবারের ফাইনাল?

    এবারের ফাইনাল হওয়ার কথা ছিল ইস্তাম্বুলে। কিন্তু তুরস্ককে ইংল্যান্ড রেড জোন করে দেওয়ায় ফাইনালের ভেন্যু বদলে যায়। ওয়েম্বলিতে হওয়ার কথা শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত ভেন্যু ঠিক হয় পোর্তোর স্তাদিও দো দ্রাগাওতে। গত বছর চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালও হয়েছিল পর্তুগালে। এই স্টেডিয়ামে এই মৌসুমে খেলেছে সিটি, পোর্তোর সঙ্গে করেছে গোলশুন্য ড্র। চেলসিও কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছে পোর্তোর সঙ্গে, তবে সেই ম্যাচগুলো হয়েছে স্পেনে।

     

    কত মানুষ দেখবে এই ফাইনাল?

    করোনাকালীন পরিস্থিতিতে গত বছর বায়ার্ন ও পিএসজির ফাইনালে কোনো দর্শক ছিল না মাঠে। এবার অবশ্য ১৬ হাজার দর্শক থাকার কথা স্টেডিয়ামে, যা মোট ধারণ ক্ষমতার এক তৃতীয়াংশ। এর মধ্যে সিটি ও চেলসি সমর্থকদের জন্য ৬ হাজার টিকেট রাখা হয়েছিল। তবে চেলসি সমর্থকদের ৮০০ টিকেট অবিক্রিত থাকায় ফেরাত দেওয়া হয়েছে। ইউয়েফা অবশ্য সাধারণ অর্শকদের জন্য আরও ১৭০০ টিকেট ছেড়েছে কাল।

    দলের খবর

    ফাইনালের আগে দুইটি বড় সুসংবাদ পেয়েছেন থমাস তুখেল। চোট থেকে সেরে উঠেছেন গোলরক্ষক এডুয়ার্ড মেন্ডি ও মিডফিল্ডার এনগোলো কান্তে। এই মৌসুমে দুজনেই চেলসির দারুণ গুরুত্বপুর্ণ। কান্তে সেমিতে রিয়ালের বিপক্ষে জয়ের অন্যতম কুশীলব ছিলেন। অন্যদিকে মেন্ডিও এবার অভিষেক মৌশুমেই ছড়িয়েছেন আলো।

    তবে সিটির জন্য একটা দুঃসংবাদ আছে। পোর্তোতে অনুশীলনের সময় ব্যথা পেয়েছেন মিডফিল্ডার ইলকে গুন্ডোয়ান। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মাঠ ছেড়েছেন। আজ মাঠে নামতে পারবেন কি না সেটা অবশ্য এখনো জানা যায়নি।

    সম্ভাব্য একাদশ

    সিটি

    এডারসন, ক্যান্সেলো, ডিয়াজ, স্টোনস, ওয়াকার, রদ্রি, গুন্ডোয়ান, ডি ব্রুইন, বার্নাদো সিলভা, মাহরেজ, ফোডেন

    চেলসি

    মেন্ডি, ক্রিশিয়েনসেন আজপিলিকুয়েতা, রুদিগার, থিয়াগো সিলভা, চিলওয়েল, কান্তে, জর্জিনহো, মাউন্ট, ভের্নার, হ্যাভার্টজ

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন