• চ্যাম্পিয়নস লিগ
  • " />

     

    গার্দিওলার সিটির হৃদয় ভেঙে ইউরোপের মুকুট পরল তুখেল-হ্যাভার্জের চেলসি

    গার্দিওলার সিটির হৃদয় ভেঙে ইউরোপের মুকুট পরল তুখেল-হ্যাভার্জের চেলসি    

    এক দল কখনো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতেনি, আরেক দল একমাত্র জয় পেয়েছিল সেই নয় বছর আগে। সেবারও একজন মৌসুমের মাঝপথে দায়িত্ব নিয়ে জিতেছিলেন, এবারও একজন মাঝদরিয়ায় নৌকা পেয়ে হাল ধরলেন। চেলসি সেবারের মত এবারও চ্যাম্পিয়নস লিগের ট্রফি পেল। প্রথম শিরোপার জন্য অপেক্ষা বাড়ল ম্যানচেস্টার সিটির, আরও একবার তীরে এসে তরী ডুবল পেপ গার্দিওলার।

    আক্রমণ আর প্রতি আক্রমণে ভরা ম্যাচটা হয়েছে দুর্দান্ত। দুই দল সুযোগ পেলেও সবচেয়ে বেশি পরিষ্কার সুযোগ পেয়েছিল চেলসিই। কাই হ্যাভার্জ কাজে লাগিয়েছেন সুযোগটা, তার গোলেই থমাস তুখেল পেয়েছেন চেলসিকে নিয়ে স্বপ্নের চ্যাম্পিয়নস লিগ ট্রফি।

    এমনিতে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের মতো বড় ম্যাচে অনেক সময় দুই দল বেশি সতর্ক থাকে। তবে ম্যানচেস্টার সিটি ও চেলসি দুই দলই আজ শুরু থেকেই ঝাঁপিয়ে পড়ে আক্রমণে। ম্যাচের শুরুতেই সুযোগ পেয়ে যান টিমো ভের্নার, কিন্তু ঠিক পজিশনে গিয়েও বেন চিলওয়েলের পাস থেকে শট নিতে পারেননি ঠিকমতো। এই চিলওয়েল সিটিকে প্রথমার্ধে সিটিকে ভুগিয়েছেন ভালোই। সেটার মাশুল অবশ্য পরে দিয়েছে সিটি।



    ভের্নারের ওই সুযোগের পরেই আরেকটা দারুণ সুযোগ পেয়ে যায় চেলসি। এবারও বাঁদিক থেকে উড়ে আসা বলটা হেড করেছিলেন কান্তে, তাও আবার দুই ডিফেন্ডার ডিয়াজ ও স্টোনসের মধ্য দিয়ে। কিন্তু হেডটা চলে যায় ওপর দিয়ে। খানিক পর আরেকটা দারুণ সুযোগ পেয়ে যায় ভের্নার। এবার বল নিয়ে বক্সের ভেতর ঢুকেও পড়েছিলেন, শটও নিয়েছিলেন। কিন্তু সেটা সরাসরি চলে যায় এডারসনের হাতে।

    ওদিকে সিটিও গোলের গন্ধ পাওয়া শুরু করে। এডারসনের লম্বা পাস থেকে স্টার্লিং বল পেয়ে ঢুকে পড়েছিলেন বক্সে, কিন্তু গোল দিতে পারেননি। প্রথমার্ধে সিটির সেরা সুযোগটা পেয়েছিলেন সম্ভবত ফিল ফোডেন। বক্সের ভেতর বাঁ পায়ের শটটা জালেই জড়িয়ে যেত, কিন্তু শেষ মুহূর্তে আন্টনি রুডিগার ট্যাকল করে সেটা ফিরিয়ে না দিতেন।

    শেষ পর্যন্ত প্রথম গোলটা পেয়ে যায় চেলসিই। বাঁদিকে চিলওয়েলের পাস থেকে মাউন্ট বল পেয়ে দুর্দান্ত এক থ্রু বাড়ান হ্যাভার্টজকে। আগুয়ান এডারসনের গায়ে লেগে করা তার কিকটা আবার এসে পড়ে হ্যাভার্টজের কাছে, এবার সামনে ফাঁকা পোস্ট। চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের প্রথম গোলটা সবচেয়ে বড় মঞ্চে করতে ভুল করেননি এই জার্মান। ২০১৩ সালে ইলকে গুন্ডোয়ানের পর এই প্রথম কেউ চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রথম গোলটা ফাইনালেই করলেন। অন্যদিকে ২০০৮ সালে ওয়েস ব্রাউনের পর এই প্রথম কোনো ইংলিশ খেলোয়াড় চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে গোল করালেন।

    দ্বিতীয়ার্ধে আরেকটু তেড়েফুঁড়ে খেলতে থাকে সিটি। কিন্তু ৫৭ মিনিটে তারা শিকার হয় আরেকটু দুর্ভাগ্যের। রুডিগারের কড়া ট্যাকলে পড়ে যান ডি ব্রুইন। আঘাতটা এতই গুরুতর ছিল, শেষ পর্যন্ত আর খেলা চালিয়েই যেতে পারেননি। চোখের জলে মাঠ ছাড়েন, তার জায়গায় নামেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস। খানিক পর যেন  প্রথমার্ধের ভুল সংশোধন করে ফার্নান্দিনহোকে নামান গার্দিওলা। সিটির খেলায় কিছুটা ধার বাড়ে, আজপিলিকুয়েতা ডান থেকে আসা ক্রসটা ক্লিয়ার করেন শেষ মুহূর্তে। তবে দ্বিতীয়ার্ধের সবচেয়ে বড় সুযোগটা আসে ৭১ মিনিটে। কান্তের ধাক্কায় গুন্ডোয়ান পড়ে যাওয়ার পর বল যেয়ে যায় চেলসি। হ্যাভার্জের প্রতি-আক্রমণের পর এডারসনকে ওয়ান অন ওয়ানে পেয়েছিলেন ভের্নারের বদলি হিসেবে নামা ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক। কিন্তু বাইরে মেরে দেন, চেলসি হারায় আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ।

    যদিও এরপর চেষ্টা করেও আর গোল বের করতে পারেনি সিটি। আগুয়েরো নেমেছিলেন, একবার তার চিপটা বিপদ হতে পারত, কিন্তু হতে দেননি চেলসি গোলরক্ষক চেলসি। শেষ দিকে ফোডেন বল পেয়ে গিয়েছিলেন বক্সে, কিন্তু ক্রিশ্চিয়েনসেন শেষ মুহূর্তে ব্লক করে আটকে দিয়েছেন ফোডেনকে। চেলসির রক্ষণ ছিল অটুট। শেষ দিকে আর বিপদ হতে দেয়নি, মাহরেজের শেষ মুহূর্তের শট ছাড়া কাছাকাছিও যেতে পারেনি সিটি। ইউরোপের রাজা তাই চেলসিই।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন