• ফ্রেঞ্চ ওপেন
  • " />

     

    লাল মাটি, রাফায়েল নাদাল, এবং প্যারিস : পর্ব ২

    লাল মাটি, রাফায়েল নাদাল, এবং প্যারিস : পর্ব ২    

    (লেখাটি নাদালের একজন পাঁড় ভক্তের হাত থেকে বের হওয়া, প্রথাগত টেকনিক/ট্যাকটিকাল এনালাইসিস নয়। ভালবাসা-প্রসূত ভুলত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখতে অনুরোধ করা গেল। লেখাটি দুই পর্বের, এটা দ্বিতীয় পর্ব। প্রথম পর্বে টেনিসের কোর্ট নিয়ে কচকচানি চলছিল, নাদাল কেন ক্লে কোর্টে সেরা সেটা নিয়ে কথা হবে এই পর্বে। শুরু করা যাক।)


    আগের পর্ব


    রাফায়েল নাদাল ক্লে কোর্টে সর্বকালের সেরা এটা নিয়ে তার সবচেয়ে কড়া সমালোচকও সম্ভবত প্রশ্ন তুলবেন না। কিন্তু কী আছে এই মাটির কোর্টে, যেটা নাদালকে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রাখে? আর সব মাটির কোর্টের মধ্যেও প্যারিসের লাল মাটি কেন নাদালের সবচেয়ে পছন্দ? আসুন এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজি। 

    আগের পর্বে ক্লে কোর্টের গতি আর বাউন্স নিয়ে কিছু কথা লিখছিলাম। সেটার সারসংক্ষেপ এই, লাল মাটিতে বল ধীরে আসে, বলের বাউন্স অন্যসব কোর্টের চেয়ে বেশি হয়, দ্রুত দৌড়াতে পারা খেলোয়াড়দের বাড়তি সুবিধা দেয় পিচ্ছিল বালু, আর ধীরে আসা বলে গায়ের জোরে মারতে হয় ফিরতি শটে যথেষ্ট গতি তোলার জন্য। মাটির কোর্টের এই বৈশিষ্ট্যগুলো তাহলে কোন ধরণের খেলোয়াড়দের বেশি সুবিধা দিচ্ছে? স্বাভাবিকভাবে দ্রুতগতির খেলোয়াড়দের, যারা বেজলাইন ধরে দৌড়ে বলের জায়গায় পৌঁছাতে পারেন সহজে। বেজলাইন ধরে খেললে বলের বাউন্সটা সহনীয় পাওয়া যায়, আর মাটির কোর্টে বলের ধীর গতি একজন খেলোয়াড়কে যথেষ্ট সময় দেয় ফিরতি শট মারার জন্য। শারীরিকভাবে শক্তিশালী খেলোয়াড়রাও তাদের টেকনিক্যালি এগিয়ে থাকা প্রতিপক্ষদের চেয়ে বাড়তি সুবিধা পান পাওয়ার-নির্ভর ফোরহ্যান্ড বা ব্যাকহ্যান্ডের বদৌলতে। ব্যাপার হলো, আজকের এই পাওয়ার টেনিসের যুগে প্রায় সব খেলোয়াড়ই এই শর্তগুলো পূরণ করেন-- সবাই দুরন্ত গতিতে বেজলাইন ধরে দৌড়াতে পারেন, সবারই আপার বডি স্ট্রেংথ দানবীয়, সবারই ফোরহ্যান্ডে দুর্দান্ত গতি। নাদালেরও তাই। তাহলে নাদালের সাথে অন্যদের তফাৎ কোথায় হলো?



    নাদালের সাথে অন্যদের তফাৎ হলো, নাদাল এই প্রতিটা ক্যাটেগরিতেই অন্যদের চেয়ে একটু এগিয়ে। বেজলাইন ধরে দ্রুত দৌড়াতে পারেন সবাই, কিন্তু নাদাল অন্যদের চেয়ে একটু বেশি দ্রুত পৌঁছাতে পারেন বলের জায়গায়। এর পেছনে আছে নাদালের বিদ্যুৎগতির ফুটওয়ার্ক। প্রতিপক্ষ শট নেয়ার আগেই নাদাল নড়তে শুরু করেন বল যেদিকে যাবার কথা সেদিকে। আরেকটা বড় ব্যাপার হলো, বেজলাইন ধরে খেলা মোটামুটি বেশিরভাগ সময়ই ডিফেন্সিভ ঘরানার। মানে হচ্ছে আপনি আপনার কোর্টের পুরো দৈর্ঘ্য ব্যবহার করে বলকে ফেরত পাঠাচ্ছেন এবং আশা করছেন প্রতিপক্ষ কোন ভুল করলে আপনি আক্রমণে যাবেন। ক্ল্যাসিকাল টেনিসের স্টাইলটা অনেকটা এমনই। নাদাল (এবং অন্যান্য ক্লে কোর্ট বিশেষজ্ঞরা) এই সূত্রকে বুড়ো আঙ্গুল দেখান। নাদালের বেজলাইন ধরে খেলার স্টাইলটা মোটেও ডিফেন্সিভ নয়, তিনি অন্যদের মত কোর্টের ভেতরে গিয়ে আক্রমণ করেন না, তার আক্রমণগুলোও আসে বেজলাইন থেকে। তার মানে এই না যে, নাদাল ডিফেন্সিভ খেলতে পারেন না, বরং একেবারে উল্টো। সমসাময়িকদের মধ্যে নাদালের ডিফেন্স সম্ভবত সবচেয়ে শক্ত, এবং এই ডিফেন্স করতে করতে হুট করে তিনি ওই বেজলাইন থেকেই আক্রমণে সুইচ করতে পারেন। কিন্তু এই কাজটা তিনি করেন কীভাবে? এটার উত্তরের দুটো ভাগ, একটা হচ্ছে তার বেজলাইন ধরে দৌড়ানোর গতি, যেটা তাকে সহজে বলের কাছে পৌঁছে দেয়; আর দ্বিতীয়টা হচ্ছে তার ফোরহ্যান্ড।

    নাদালের খেলার মূল অস্ত্র হচ্ছে তার এই বা-হাঁতি ফোরহ্যান্ড। এটা অবশ্য একটু ভুল কথা, যেকোন টেনিস খেলোয়াড়েরই মূল অস্ত্র তার ফোরহ্যান্ড। তবে নাদালের ব্যাকহ্যান্ড তুলনামূলক দুর্বল, তাই ব্যাকহ্যান্ডে খেলা যায় এমন শটও তিনি ফোরহ্যান্ডে নিয়ে আসার চেষ্টা করেন। ক্লে কোর্টের ধীরগতি তাকে বিশেষভাবে এই সুযোগটা দেয়। ডিপ বেজলাইন ধরে খেলা আর দ্রুত ফুটওয়ার্কের কারণে নাদাল বলের কাছে পৌঁছাতে পারেন মিলিসেকেন্ড আগে, আর ওইটুকু সময়ই যথেষ্ট হয় একটা ব্যাকহ্যান্ডেড ডিফেন্সিভ স্ট্রোককে ফোরহ্যান্ডের অফেন্সিভ স্ট্রোক বানানোর জন্য। কিন্তু এটা নাদালের ফোরহ্যান্ডের আসল বিশেষত্ব নয়, নাদালের ফোরহ্যান্ডের বিশেষত্ব হচ্ছে তার টপস্পিন। নাদালের খেলা প্রায় পুরোটাই নির্ভর করে টপস্পিনের ওপর, তার চেয়ে ভাল টপস্পিন খেলেন এমন খেলোয়াড় এখনো আসেনি টেনিস সার্কিটে। যেখানে অন্যান্য খেলোয়াড়দের ফোরহ্যান্ডে সর্বোচ্চ টপস্পিন থাকে হাজার দুয়েক আরপিএম, নাদালের ফোরহ্যান্ডের টপস্পিনের গড়পড়তা আরপিএমই থাকে তিন হাজারের ওপরে। মাটির কোর্টে এমনিতেই স্পিন বেশি ধরে (যারা ক্রিকেট খেলা দেখেন তার বুঝতে পারছেন নিশ্চয়ই), সেখানে এই অতিরিক্ত টপ-স্পিন-হেভি গ্রাউন্ডস্ট্রোক খেলার ক্ষমতাটা নাদালকে অনেকটুকু এগিয়ে দেয় তার প্রতিপক্ষদের চেয়ে।  

    টেনিসে ফ্ল্যাট ডিপ শটকে (নেটের কাছ দিয়ে উড়ে গিয়ে বেজলাইনের কাছাকাছি পড়া শট) ধরা হয় একজন খেলোয়াড়ের সবচেয়ে ভয়ংকর অস্ত্র। যে যত ভালভাবে ডিপে বল ফেলতে পারবেন, তার জেতার সম্ভাবনা তত বেশি। শর্ট বল (নেটের কাছে ড্রপ করা শট, যেগুলা ড্রপ শট নয়) ফেরানো সবচেয়ে সহজ, এবং সেটা প্রতিপক্ষকে অফন্সিভে চলে আসতে সাহায্য করে (সার্ভ এন্ড ভলি টেকনিকের মূলই এটা)। নাদাল কিন্তু এক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে। যারা নিয়মিত নাদালের খেলা দেখেছেন তারা ভালমত জানেন নাদালের বেশিরভাগ শটই শর্ট, ডিপে ফেলেন কমই। এটার একটা সুবিধা আছে, বল বেজলাইনের বাইরে পড়ে আনফোর্সড এরর হবার সম্ভাবনা কমে আসে অনেক। কিন্তু প্রতিপক্ষের ত সহজে আক্রমণ করতে পারার কথা এই বলগুলোকে, সেটা তারা করতে পারেন না কেন? এটার পেছনের রহস্যও হচ্ছে নাদালের ফোরহ্যান্ডের টপস্পিন। টপস্পিনের কারণে বলের বেড়ে যাওয়া গতি আর আলগা বাউন্সের কারণে এগিয়ে আসতে পারেন না কেউ, কাজেই আক্রমণেও যেতে পারেন না, বেজলাইনে ডিফেন্সিভলি খেলতে হয়। এই বেজলাইন ধরে নাদালের টপস্পিনওয়ালা ফোরহ্যান্ড ফেরাতে ফেরাতে প্রতিপক্ষরা যখন কোর্টের একেবারে ডিপে চলে যান, তখন বের হয়ে আসে নাদালের আরেকটা মোক্ষম অস্ত্র - ড্রপ শট। সমসাময়িক খেলোয়াড়দের মধ্যে নাদালের চেয়ে ভাল ড্রপ শট খেলেন এমন খেলোয়াড় কমই আছেন, ডিপ বেজলাইনে থাকা প্রতিপক্ষরা সেই ড্রপ শট খেলতে সামনে চলে আসার প্রয়োজনীয় সময়টুকু পান না।

    প্রশ্ন হচ্ছে, নাদাল এই অমানবিক পরিমাণ টপস্পিন জেনারেট করেন কীভাবে? এটার উত্তর আছে নাদালের ফোরহ্যান্ড খেলার স্টাইলে। প্রথম প্রথম নাদালের খেলা দেখলে অদ্ভুত লাগতে পারে, কারণ তার ফোরহ্যান্ডটা অন্যদের মত নয়। আপনি যখন স্বাভাবিক ফোরহ্যান্ড খেলবেন, আপনার র‍্যাকেটের মোশন শেষ হবে আপনার নন-ডমিনেন্ট কাঁধের ওপরে গিয়ে। নাদালের ফোরহ্যান্ডটা একটু অন্যরকম-- তার ফোরহ্যান্ড শুরু হয় অন্যদের মতই ডমিনেন্ট হাতের পাশ থেকে, কিন্তু সেটা নন-ডমিনেন্ট কাঁধের উপর দিয়ে ঘুরে এসে শেষ হয় ডমিনেন্ট কাঁধের ওপরে (ক্রিকেটের দর্শকরা এর সাথে ধোনির হেলকপ্টার শটের কিছুটা মিল পেতে পারেন)। এই শটের ধরণটা অনেকটা চাবুক মারার মত-- তাই এর নাম হয়ে গেছে ল্যাসো হুইপ ফোরহ্যান্ড। এই চাবুকে ফোরহ্যান্ড আর সাথে সেমি-ওয়েস্টার্ন গ্রিপ, এই দুইয়ে মিলে অবিশ্বাস্যরকম হেভি টপস্পিনের গোলা ছোঁড়েন নাদাল। 
     
    ক্লে কোর্টের সাথে নাদালের সখ্যতার আরেকটি কারণ হচ্ছে তার মাতৃভূমি। স্পেনের মায়োর্কার ছেলে নাদাল ছোটবেলা থেকে ক্লে কোর্টে খেলা দেখে বড় হয়েছেন, লাল মাটি যে রক্তে থাকবে সে আর বিচিত্র কি? ক্লে কোর্টের বড় টুর্নামেন্টগুলোর বেশিরভাগই হয় স্পেন, ইতালি না হয় ফ্রান্সে-- স্বাভাবিকভাবেই এখান থেকে উঠে আসা টেনিস খেলোয়াড়েরা মাটির কোর্টে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। ইউরোপিয়ান গ্রীষ্মের শুরুতে, তীব্র রোদ এবং সাংঘাতিক আর্দ্রতায় টেনিস খেলে যাওয়াটা বুঝি তাই এসব দেশের খেলোয়াড়দের জন্য সহজ। সেই রেনে লাকোস্তে থেকে হুয়ান কার্লোস ফেরেরো, কার্লোস ময়া হয়ে হালের ডেভিড ফেরার-- এদের সবাইকেই কমবেশি ক্লে কোর্ট স্পেশালিস্টের তকমা দেয়া যায়-- এরা উঠে এসেছেন এসব দেশ থেকেই। গুস্তাভো কুয়ের্তেন, গ্যাস্টন গডিও'র মত ক্লে কোর্ট স্পেশিলস্টরাও উঠে এসেছেন কাছাকাছি আবহাওয়ার দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো থেকে। নাদাল এখানেও অন্যদের চেয়ে এগিয়ে, তার পেশিবহুল দেহ এবং অবিশ্বাস্য স্ট্যামিনার জন্য। নাদালের স্ট্যামিনার প্রমাণ প্রায়ই দেখা যায় রোলাঁ গাঁরোতে;২০১৩-তে যেমন ফর্মের তুঙ্গে থাকা জোকোভিচকে সেমিফাইনালে পাঁচ ঘন্টা পেরুনো ম্যারাথন ম্যাচে হারিয়ে দু'দিন পরে সরাসরি সেটে ফাইনাল জিতে শিরোপা ঠিকই ঘরে তুলেছিলেন। 

    এখান কথা হলো, মাটির কোর্টে নাদালের সাফল্যের ব্যাপারস্যাপার তো মোটামুটি পরিষ্কার, কিন্তু ফ্রেঞ্চ ওপেনের সাথে তার এই বাড়তি প্রেম কেন? ক্লে কোর্টের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট বলে? প্যারিসের টেনিসপ্রেমীরা নাদালকে ঘরের ছেলে মনে করেন বলে? সত্যি বলতে, এগুলো তো আছেই, তার সাথে আছে আরেকটা ছোট্ট ওপেন সিক্রেট - স্টেডিয়াম। ফ্রেঞ্চ ওপেন হয় স্তাদে রোঁলা গারোঁতে, এটা আমরা মোটামুটি সবাই জানি; যেহেতু এই স্টেডিয়ামের নামেই নাম হয়ে গেছে টুর্নামেন্টটার। স্তাদে রোঁলা গারোঁ কিন্তু স্রেফ একটা স্টেডিয়াম নয়, এটা একটা টেনিস কমপ্লেক্স; যেখানে আছে ফ্রেঞ্চ ওপেনের খেলা হওয়ার যোগ্য বেশ কয়েকটা কোর্ট। এই কোর্টগুলোর মধ্যে নাদাল সবচেয়ে বেশি খেলেন কোর্ট ফিলিপ শার্তিয়েতে; তার ফেবারিট কোর্ট। চ্যাম্পিয়ন হওয়া শুরু করার পর থেকে এই কোর্টেই সবচেয়ে বেশি প্রতিপক্ষকে ধরাশায়ী করেছেন তিনি। নাদালের সাফল্যের পেছনে এই কোর্টের কিছুমাত্র অবদান নেই বললে ভুল বলা হবে, কিন্তু সে অবদানটা কীরকম? সেটা বোঝার আগে আপনার একটা টেনিস কোর্টের মাপটা জানা দরকার। টেনিস কোর্ট দৈর্ঘ্যে হয় ৭৮ ফিট, তার সাথে দুই প্রান্তে কুড়ি থেকে পঁচিশ ফিটের একটা প্লেয়িং জোন থাকে বেজলাইন ধরে খেলার জন্য। ফিলিপ শার্তিয়ে কোর্টে এই প্লেয়িং জোনটা ত্রিশ ফিটের বেশি, যেটা বেজলাইনের জাদুকর নাদালকে অনেক বেশি জায়গা করে দেয় কোর্টের ডীপ থেকে আক্রমণের জন্য। শুনতে অদ্ভুত লাগতে পারে, কিন্তু অনেক টেনিস-পন্ডিতই নাদালের ফ্রেঞ্চ ওপেনে একচ্ছত্র আধিপত্যের পেছনে এই অতিরিক্ত কয়েক ফিট প্লেয়িং জোনের কথা বলেন। 

    ওপরে যা বললাম সেসব ব্যাপার ত আছেই, সাথে ভি-প্যাটার্নে নিখুঁত এজ-টু-এজ শট খেলার সক্ষমতা, সার্ভের রিটার্নে দুর্দান্ত কন্ট্রোল, এগিয়ে আসা প্রতিপক্ষকে এড়িয়ে মারা চোখ ধাঁধানো পাসিং শট-- এসবও আছে নাদালকে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে দেয়ার জন্য। সাথে আরো কিছু জিনিস আছে, যেগুলো আপনি নাদালের খেলা না দেখলে বুঝবেন না (এগুলো যে শুধু ক্লে কোর্টের জন্য প্রযোজ্য ব্যাপারটা তেমন না, কিন্তু নাদালকে নিয়ে লেখার সময় আবেগ সামলানো কঠিন)। কোর্টে নিজের ওপর নাদালের কন্ট্রোল একটা দেখার মত ব্যাপার। কোর্টের চারপাশে বুনো ষাঁড়ের মত ছুটে বেড়ালেও নাদাল খেলার বাইরে একেবারেই আক্রমণাত্মক নন।খেলার মাঝেও তার ঠান্ডা মাথাটা বেশ ভাল কাজে দেয়। কোর্টে কখনও র‍্যাকেট আছড়ে ভাংতে দেখা যায়নি তাকে, আম্পায়ারের সাথে বাকবিতন্ডাতেও জড়ান খুব কম। বলবয়/গার্লদের সাথে তার সখ্যতা চোখে পড়ার মত। সংবাদ সম্মেলনে সদা হাস্যমুখী, সাংবাদিকদের সাথে সবসময় বন্ধুপরায়ণ। নিজের মাতৃভাষার বাইরে ফ্রেঞ্চ এবং ইংরেজিতে চমৎকার দখল তাকে দর্শকপ্রিয় করেছে সর্বত্র, আর খেলার সময় নেটের ওপাশের প্রতিপক্ষকে একটা বিন্দু ছাড় না দেয়ার মানসিকতা তাকে এনে দিয়েছে তার সমসাময়িকদের সম্মান। আর আছে খেলাটার প্রতি তার অকৃত্রিম ভালোবাসা-- এখনো কোন গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতলে হাত-পা ছড়িয়ে মুখ ঢেকে মাটিতে শুয়ে পড়েন শিশুর মত, এখনো ফ্রেঞ্চ ওপেনের ট্রফিটায় কামড়ে ছবির জন্য পোজ দেন, যেমন দিতেন আজ থেকে ষোল বছর আগেও। 

    এই সবকিছুই রাফায়েল নাদাল পেরেরাকে বানিয়েছে লাল দুর্গের সম্রাট, যে সাম্রাজ্যে এখনো দোর্দন্ড প্রতাপে ছড়ি ঘোরাচ্ছেন তিনি।  

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন