• লা লিগা
  • " />

     

    এল ক্লাসিকোর ময়নাতদন্ত: বিতর্কের রাতে হাসল নিয়তি

    প্রথম ৪৫ মিনিট আর শেষ ৪৫ মিনিট এবারের এল ক্লাসিকোর একেবারে বিপরীত দুই ছবিই আঁকছে। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয়ে অনেক কিছুই নতুন করে লিখল রিয়াল মাদ্রিদ।

     

    বার্সার অপরাজেয়-রথের শেষ

    গত বছরের ৩ অক্টোবর সেই কবে সেভিয়ার কাছে হেরেছিল। এর পর থেকে পরাজয় শব্দটা বার্সেলোনার কাছে অচেনাই হয়ে গিয়েছিল। অবশেষে আজ ক্লাসিকোতে হেরে ৩৯ ম্যাচের অপরাজিত রথ থামল বার্সার।

     

    নিয়তির বিচার!

    নিয়তির অদৃশ্য ইশারা ছাড়া আর কী-ই বলা উচিত? ৭৯ মিনিটে দারুণ এক হেডে বল জালে জড়িয়ে দিয়েই উল্লাসে ফেটে পড়লেন গ্যারেথ বেল। কিন্তু রেফারি জানালেন, ফাউল করা হয়েছে জর্দি আলবাকে, বাতিল হলো গোল। বেল যেন নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। টিভি রিপ্লেতেও দেখা গেল, ফাউলের সিদ্ধান্তটা একটু কর্কশই হয়ে গেছে। একটু পরেই রোনালদোর শট পোস্টে লেগে চলে গেল বাইরে, মনে হচ্ছিল ভাগ্য বোধ হয় রিয়ালের পক্ষে নেই। দুই মিনিট পরেই লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লেন সার্জিও রামোস, রিয়াল হয়ে গেল দশজনের দলে। কিন্তু তার মিনিট খানেক পরেই রোনালদো দারুণ এক প্রতিআক্রমণ থেকে গোল করে এগিয়ে দিলেন রিয়ালকে। 'পোয়েটিক জাস্টিস' বোধ হয় একেই বলে!

     

    এবং কাসেমিরো...

    ম্যাচ শেষে জিনেদিন জিদান সবার আগে ধন্যবাদটা বোধ হয় কাসেমিরোকেই দেবেন। রিয়াল মিডফিল্ডার তো বলতে গেলে একাই বার্সার আক্রমণকে বোতলবন্দি করে রেখেছিলেন। পুরো ম্যাচে ১৬টি ট্যাকল করেছেন কাসেমিরো, ৩ বার বল ছিনিয়ে নিয়েছেন, একবার ক্লিয়ার করেছেন। কাগজে কলমে গোল দুইটি বেনজেমা ও রোনালদোর বটে, কিন্তু রিয়ালকে আসলে ম্যাচে রেখেছেন ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডারই। শেষ দিকে বাকিরা সবাই উঠে যাওয়ার পর রিয়ালের রক্ষণ ও মধ্যমাঠের সূত্রধর হিসেবে একাই খেলে গেছেন !

     

    ঘুম ঘুম প্রথমার্ধ

    এল ক্লাসিকোর এমন ম্যাড়ম্যাড়ে প্রথমার্ধ শেষ কবে হয়েছে, সেটা মনে করতে হিমশিম খেয়ে যাওয়ার কথা। সেই ২০০৯ সালের পর ক্লাসিকোর কোনো প্রথমার্ধ গোলশুন্য শেষ হয়নি। গোল অবশ্য হতে পারত, সেটার জন্য লুইস সুয়ারেজ ও করিম বেনজেমা নিজেদের দুষতেই পারেন। সুয়ারেজ যে শট মিস করেছিলেন, সেটার আগে অবশ্য তিনি অফসাইডেই ছিলেন। বেনজেমাও একটা সাইডকিক পোস্টে না রেখে মারলেন বারের অনেক ওপরে। অথচ পরে এর চেয়ে কঠিন সুযোগ থেকেই সেই সাইডকিকেই দারুণ এক গোল করেছেন ফরাসি এই স্ট্রাইকার।

     

    রামোসের সৌভাগ্য-দুর্ভাগ্য

    ম্যাচের শুরুতেই একটা হলুদ কার্ড খেয়েছিলেন। ২৪ মিনিটে মেসি যখন বক্সে ঢুকে পড়লেন, গোলটা হয়েই যাবে মনে হচ্ছিল। কিন্তু রামোস মেসিকে ফেলে দিয়েছেন বলে মনে হলেও রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজাননি। সেবার যদি লাল কার্ড দেখাটা রামোসের প্রাপ্য নাও হয়, দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সুয়ারেজকে ফাউল করেও বেঁচে যাওয়ার জন্য নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করতেই পারেন। কিন্তু ৮৪ মিনিটে শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেই মাঠ ছাড়লেন, ক্যারিয়ারে এটি ছিল রিয়াল ডিফেন্ডারের ২১তম লাল কার্ড। রিয়ালে যোগ দেওয়ার পর কোনো ডিফেন্ডারের এটাই সবচেয়ে বেশি লাল কার্ডের রেকর্ড (১২টি)।

     

    জিদান থাকতেই এসেছেন

    জিনেদিন জিদানের কোচিং নিয়ে যে প্রশ্ন ছিল, তার অনেক কিছুরই জবাব দিয়ে দিয়েছেন। ২০০৭ সালে বার্ন্ড সুস্টারের পর এই প্রথম রিয়ালের কোনো কোচ অভিষেক এল ক্লাসিকোতেই জয় পেলেন। খেলোয়াড় হিসেবেও নিজের প্রথম ক্লাসিকোতেই জয় পেয়েছিলেন জিদান। কোচ ও খেলোয়াড় হিসেবে প্রথম ক্লাসিকোতে জয় পাওয়ার রেকর্ডও রিয়ালের আর কারও নেই।

     

    পিকের জবাব হলো না!

    রিয়ালের সঙ্গে অনেক দিন ধরেই একটা চাপান উতোর চলছিল জেরার্ড পিকের। গত বছর মাদ্রিদ ডার্বিতে রিয়ালের হারের পর টুইট করে তুমুল শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন। এর পর বার্নাব্যুতে গেলেই দুয়ো শুনতে হয়েছে তাঁকে। কে জানত, বার্সার প্রথম গোলটা সেই পিকের মাথা থেকেই আসবে? গোলের পর উদযাপনটাই বলে দিচ্ছিল, পিকে কতটা তেঁতে ছিলেন। কিন্তু কে জানত, শেষ পর্যন্ত গোলটা বৃথাই যাবে!

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন