• ফর্মুলা ওয়ান
  • " />

     

    ব্রিটিশ জিপিঃ দুর্দান্ত উত্তেজনায় সিলভারস্টোনে হ্যামিল্টনের 'ইটস কামিং হোম'

    ব্রিটিশ জিপিঃ দুর্দান্ত উত্তেজনায় সিলভারস্টোনে হ্যামিল্টনের 'ইটস কামিং হোম'    

    সিলভারস্টোনে হ্যামিল্টন যদি হারেন এখানেই তাঁর চ্যাম্পিয়নশিপের আশা শেষ, এমনটাই বলছিল অনেকে। সত্যি বলতে কি, সিলভারস্টোনে হ্যামিল্টন জিতবেন না এমন চিন্তা করাটাই যেত না একটা সময়। ২০১৪ থেকে এই ২০২১ পর্যন্ত একবার বাদে সব ব্রিটিশ গ্রাঁ প্রি জিতেছেন হ্যামিল্টন। সিলভারস্টোনে সবচেয়ে বেশি রেস জয়ের রেকর্ডও তাই। সেই রেকর্ড অক্ষুণ্ণ রেখে এক জমজমাট এবং ঘটনাবহুল রেসে জয় তুলে নিলেন মার্সিডিজের এই ব্রিটিশ ড্রাইভার। 
    এবারের ব্রিটিশ জিপি অনেকগুলো কারণেই স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এর একটা কারণ হল শনিবারের কোয়ালিফাইং এর নতুন ফরম্যাট স্প্রিন্ট রেস। পোল পজিশান থেকে শুরু না করলেও দারুণ স্প্রিন্টে কোয়ালিফাইং জিতে নেন রেড বুলের ম্যাক্স ভারস্টাপেন। টানা তিনটি রেস জিতে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হ্যামিল্টন থেকে ৩৩ পয়েন্টের লিডে ছিলেন ম্যাক্স। সিলভারস্টোনে রেস ডে তে প্রথম ল্যাপে যা হল সেটা অনেকটা সেনা-প্রস্ট, শুমাঝার-হিল বা হ্যামিল্টন-রসবার্গের প্রতিদ্বন্দ্বিতার সময়টাকেই মনে করিয়ে দেয়। পোল পজিশানে শুরু করে এগিয়েই ছিলেম ম্যাক্স, কপস কর্নারে ঢোকার সময় পর্যন্তও ম্যাক্স এগিয়ে ছিলেন এবং একদম গায়ে গায়ে ছিলেন হ্যামিল্টন। দুইজনের কেউই গতি কমান নি, অন্যজনকে ছাড় দিতে চান নি। ফলস্বরূপ মার্সিডিজ আর রেড বুলের সংঘর্ষে ম্যাক্সের গাড়ি ২০০ কিলোমিটার/ঘন্টা বেগে আঘাত হানে ব্যারিয়ারে গিয়ে। সাথে সাথেই রেড ফ্ল্যাগ দেখিয়ে রেস বন্ধ করে দেওয়া হয়। ম্যাক্সকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। আবার রেস শুরু হলে হ্যামিল্টনকে দেওয়া হয় ১০ সেকেন্ডের পেনাল্টি। 
    রেস আবার শুরু হওয়ার পর থেকে একেবারে শেষ ল্যাপ পর্যন্ত শীর্ষে ছিলেন ফেরারির শার্ল লেক্লের। মার্সিডিজের দুই ড্রাইভার হ্যামিল্টন এবং বোটাস আর ম্যাকলারেনের দুই ড্রাইভার নরিস এবং রিকার্ডো ছিলেন তাঁর পিছে। ২৭তম ল্যাপে গিয়ে পিট করেন হ্যামিল্টন এবং ১০ সেকেন্ড পেনাল্টির সাজাও সেখানেই ভোগ করতে হয়। এস সময়ে বাকিরা এগিয়ে যান। তবে দুর্দান্ত ড্রাইভিং এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মনোভাব দিয়ে একে কে সবাইকে পিছে ফেলেন। ৩১ তম ল্যাপে নরিস এবং ৪০তম ল্যাপে বোটাসকে পিছে ফেলেন। লেক্লের তখনো ১২ সেকেন্ডের দুরত্বে এবং হ্যামিল্টনের হাতে ছিল ১২টি ল্যাপ। হ্যামিল্টন এই সময়ে আরো একবার দেখিয়ে দিলেন কেন তিনি ৭ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, প্রতি ল্যাপে ১ সেকেন্ড করে গ্যাপ কমিয়ে একেবারের শেষ ল্যাপে গিয়ে লেক্লেরকে ওভারটেইক করেন হ্যামিল্টন। সিলভারস্টোনে উপস্থিত প্রায় দেড়লাখ ব্রিটিশ ফ্যানদের উল্লাসে মাতিয়ে জিতে নেন ক্যারিয়ারের ৮ম ব্রিটিশ জিপি শিরোপা। 
    হ্যামিল্টনের সাথে পোডিয়াম পেয়েছেন লেক্লের এবং বোটাস। এই মৌসুমে নিজের প্রথম পোডিয়াম হলেও লেক্লের বেশ হতাশই থাকবেন রেসটা না জেতায়, তবে ড্রাইভার অফ দা ডে’র খেতাবটা তার কাছেই গিয়েছে। ৬ষ্ঠ পর্যন্ত বাকি অবস্থানগুলো ম্যাকলারেনের দুই ড্রাইভার ল্যান্ডো নরিস ও ড্যানিয়েল রিকার্ডো এবং ফেরারির অপর ড্রাইভার কার্লোস সাইঞ্জের। 
    রেস শেষে নিজের হোম ট্র্যাকে নিজের দেশের ভক্তদের সামনে বেশ উদযাপন করেছেন হ্যামিল্টন। এতে ম্যাক্স বেশ ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। ম্যাক্সের মতে লুইস বেশ অখেলোয়াড়সুলভ এবং অসম্মানজনক মানসিকতা দেখিয়েছেন। নিজের মূল প্রতিদ্বন্দ্বীকে হাসপাতালে পাঠিয়ে এমন বাঁধভাঙা উল্লাস করা উচিত হয় নি বলেই মনে করেন রেড বুলের ডাচ রেসার। 
    পরের মাসের শুরুতে হাঙ্গারোরিং এ হাঙ্গেরিয়ান গ্রাঁ প্রি দিয়ে ফিরবে ফরমুলা ওয়ান। ব্রিটিশ জিপি থেকে হ্যামিল্টন ২৫ পয়েন্ট পেয়েছেন এবং ম্যাক্স কোন পয়েন্ট পান নি, তবুও শীর্ষে ৮ পয়েন্টের লিডে আছেন ম্যাক্স ভারস্টাপেন। হাঙ্গারোরিং হ্যামিল্টনের সবচেয়ে প্রিয় সার্কিটগুলোর একটি, সেখানে রেকর্ড ৮টি রেস জিতেছেন তিনি। আশা করা যায় এই ইজ্জীবিত ফর্মে ভারস্টাপেনকে টেক্কা দিতে পারবেন দুই সপ্তাহের মাঝেই।       

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন