• চ্যাম্পিয়নস লিগ
  • " />

     

    কিক অফের আগে: ন্যু ক্যাম্পে বায়ার্ন-বার্সার আরেকটি 'অদ্ভুতুড়ে রাত'?

    কিক অফের আগে: ন্যু ক্যাম্পে বায়ার্ন-বার্সার আরেকটি 'অদ্ভুতুড়ে রাত'?    

    বার্সেলোনা-বায়ার্ন

    চ্যাম্পিয়নস লিগ গ্রুপ পর্ব 

    ন্যু ক্যাম্প

    ১৫ সেপ্টেম্বর, রাত ১টা


    ফেসবুকে বায়ার্ন মিউনিখের পেজ থেকে দেওয়া একটা ছবি বেশ ভাইরাল হয়েছে। সেখানে ন্যু ক্যাম্পের একটা ছবিতে লেখা ক্যাপশন 'কালকের হান্টিং গ্রাউন্ড'। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, কিছটা মজার ছলে হলেও বায়ার্ন কি বার্সাকে বার্তা দিয়ে রাখল, তারা গত বছরের সেই রাতের পুনরাবৃত্তি করতে চায়?

    সেই রাতের স্মৃতিটা আসলে না এসে পারে না। গত বছরের আগস্টে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেই ম্যাচে বায়ার্ন বার্সাকে নিয়ে ছেলেখেলাই করেছিল। ৮-২ গোলের হারের সেই স্মৃতি বার্সা সমর্থকেরা হয়তো কখনোই ভুলতে পারবেন না। 

    সেই ম্যাচের পর অবশ্য হয়ে গেছে অনেক কিছু। সেই সময়ে বার্সার কোচ কিকে সেতিয়েন এরপর পদ ছেড়েছেন। বার্সার আর্থিক দুর্নীতির খবর চাউর হতে শুরু করেছে। বার্সা কতটা দেনায় আছে, সেটা পরিষ্কার হয়েছে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, অবিশ্বাস্য এক দিনে লিওনেল মেসি ছেড়েছেন বার্সা। সেরকম রাত সম্ভবত মেসির ক্যারিয়ারে আসে আসেনি, তবে এবার মেসি নেই। সেই রাতের পর দল ছেড়েছেন সুয়ারেজ, এই মৌসুমে গ্রিজমানও। 

    বায়ার্ন অবশ্য খুব বেশি বদলায়নি। সেই রাতের দলের অনেকেই আছেন এবার। সবচেয়ে বড় বদল হয়েছে তাদের ডাগআউটে, এসেছেন নতুন কোচ জুলিয়ান নাগেলসমান। ওই রাতে বায়ার্নের হয়ে জোড়া গোল দেওয়া ফিলিপে কুতিনিও ফিরে গেছেন পুরনো ক্লাব বার্সায়, আজকের রাতটা তার জন্যও অন্যরকম। 

    বার্সা-বায়ার্নের ম্যাচ মানে অবশ্য শুধু ৮-২ গোল নয়। সেই ১৯৯৬ সালে বায়ার্নের কাছে হারার পর চাকুরি খুইয়েছিলেন বার্সার সর্বকালের সেরাদের একজন ও সম্ভবত বার্সার সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ইয়োহান ক্রুইফ। তিন বছর পর চ্যাম্পিয়নস লিগে এই বায়ার্নের কাছেই বিদায় নিতে হয়েছে বার্সাকে। ন্যু ক্যাম্পে হয়েছিল সেই ফাইনাল, বার্সাকে দর্শক হয়ে দেখতে হয়েছে বায়ার্ন-ম্যান ইউনাইটেডের সেই মহাকাব্য। এরপর ২০০৯ সালে ট্রেবল জয়ের পথে বার্সাকে আবার কোয়ার্টারে উড়িয়ে দিয়েছিল বায়ার্নকে। আবার ২০১৩ সালে হেইংকের বায়ার্ন ৭-০ গোলে দুই লেগ মিলে হারিয়েছিল ভিলানোভার বার্সাকে। দুই বছর পর আবার মেসি-নেইমার-সুয়ারেজ ও এনরিকের বার্সা বায়ার্নকে হারিয়েছে। 

    ছকটা এমন দাঁড়িয়েছে, এমকবার বার্সা নয়তো বায়ার্ন পাত্তাই দিচ্ছে না একে অন্যকে। এই বছর অবশ্যই বায়ার্নের পক্ষে পাল্লা ভারি। বার্সা আরও শক্তি হারিয়েছে, মেসি -গ্রিজমান চলে গেছেন। চোটের জন্য নেই অনেকে। বায়ার্ন ধরে রেখেছে পুরনোদের, সাবিতজারদের মতো নতুনরা এসেছেন। 

    দলের খবর

    বার্সায় আছে চোট সমস্যা। ব্রাথওয়েট নতুন করে ছিটকে গেছেন চোটের জন্য, আগে থেকেই বাইরে ছিলেন আনসু ফাতি-দেম্বেলে। শেষ মুহূর্তে কিছুদিন আগে আসা লুক ডি ইয়ং ইউরোর পর নামেননি মাঠে, কিন্তু আজ নেমে যেতে পারেন। এমনকি অভিষেক হতে পারে টিন এজার ইউসুফ দেমিরেরও। সংশয় আছে জর্দি আলবাকে নিয়ে। ওদিকে বায়ার্নের কোমান ও গ্যানাব্রিও অনিশ্চিত আজকের ম্যাচে। 

    সম্ভাব্য একাদশ 

    বার্সা 

    টের স্টেগেন, পিকে, গার্সিয়া, সার্জি রবার্তো, আলবা, ডি ইয়ং , পেদ্রি, বুস্কেটস, লুক ডি ইয়ং, ডিপাই, ডেমির 

    বায়ার্ন 

    নয়্যার, পাভাড, উপামেকানো, সুলে, ডেভিস, কিমিখ, গোরেতজকা, সানে, , মুলার, মুসলিয়া, লেভানডফস্কি।

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন