• চ্যাম্পিয়নস লিগ
  • " />

     

    ন্যু ক্যাম্পে এসে বার্সাকে তিন গোলের ছোবল বায়ার্নের

    ন্যু ক্যাম্পে এসে বার্সাকে তিন গোলের ছোবল বায়ার্নের    

    ৮-২ গোলের প্রসঙ্গটা বার বারই আসছিল এই ম্যাচের আগে। চ্যাম্পিয়নস লিগে আবারও মুখোমুখি বার্সা-বায়ার্ন, সেই স্মৃতি আসবেই। এবার সেরকম কিছু হলো না, তবে যেটা হলো সেটা অনুমিতই ছিল। প্রায় খর্বশক্তির বার্সা এককম উড়েই গেল বায়ার্নের কাছে, হেরে গেল ৩-০ গোলে।  জোড়া গোল করেছেন রবার্ট লেভানডফস্কি, অন্যটি থমাস মুলার। 

    বায়ার্নের দেয়া গেলবারের দগদগে ক্ষত মনে নিয়ে মাঠে নেমেছেন আজ বার্সেলোনার সাত খেলোয়াড়। সেই জ্বালা মেটানো, আর গত তিন ম্যাচে ২১ গোল দিয়ে উড়তে থাকা বায়ার্নের ম্যাচে উত্তেজনার আভাষ ছিল। ম্যাচ শুরুর কিছুক্ষণ পরেই ফুসে উঠে বায়ার্ন, একের পর আক্রমণেও শুধু গোলের অভাব ছিল। শেষমেশ ৩৩ মিনিটে সেই কাঙ্খিত গোল যেভাবে পেলো, তাতে ভাগ্যের সহায়তা আছে বৈকি! বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া মুলারের শট গার্সিয়ার গায়ে লেগে ডিফ্লেক্টেড হয়ে জড়ায় যখন জালে, টের স্টেগেনের তখন দর্শক হওয়া ছাড়া উপায় ছিল না কোনও! চ্যাম্পিয়ন্স লীগে বার্সেলোনার বিপক্ষে সেটি ছিল মুলারের সপ্তম গোল।

    এর আগে লিওরেয় সানের বা পায়ের এক শট ঠেকিয়ে দিয়ে বার্সেলোনাকে রক্ষা করেছিলেন টের স্টেগেন। মুলারের গোলে এরপর পিছিয়ে পড়ার পরেও বার্সেলোনা ফেরার মতো ভালো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। বায়ার্নের ব্যাকলাইন ভেদ করার জন্য যথেষ্ট গতির যোগান ছিল না বার্সেলোনার আক্রমণভাগে। অ্যাটাকিং থার্ডে ছিল একেবারেই নিস্প্রভ। বায়ার্ন ছিল ঠিক তার উল্টো। মুসিয়ালা-সানে-লেভানডফস্কিরা আতঙ্ক হয়ে দাড়িয়েছিলেন বার্সার রক্ষণভাগের জন্য। 

    মুসিয়ালা স্কিলের প্রদর্শনীর সাথে ডিফেন্ডারদের খাবি খাইয়েছেন তার পেসে। গোলের দেখাও পেয়ে যেতে পারতেন দ্বিতীয়ার্ধে। বক্সের কিনারা থেকে নেওয়া তার বুলেট গতির দুর্দান্ত শট দুর্ভাগ্যবশত পোষ্টে লেগে ফিরে আসে বলে গোলবঞ্চিত হন মুসিয়ালা। কিন্ত বায়ার্ন ঠিকই পেয়ে যায় দ্বিতীয় গোলের দেখা, মুসিয়ালার শটে বল ফিরে আসলে সামনেই থাকা লেভানডফস্কি দারুণভাবে ফার্স্ট টাচে বল জড়িয়ে দেন জালে। 

    দ্বিতীয়ার্ধে বায়ার্নের আক্রমণের বন্যায় যেন বার্সার ডুবে যাওয়ার উপক্রম! একের পর এক আক্রমণে দিশেহারা বার্সেলোনার জন্য তখন ম্যাচটা পৌছে গিয়েছিলো- কত কম গোল হজমে শেষ করা যায়, সে অবস্থায়। তবে ম্যাচের শেষের দিকে তরুণ কয়েকজন বদলি খেলোয়াড়ের সৌজন্যে কাতালানরা মাথা তুলে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিলো। কিন্ত অন্যদিকে বায়ার্ন যে থামছিলোই না! শেষে ৮৫ মিনিটে লেভানডফস্কির গোলে বাড়িয়েছে ব্যবধান। সেবারও পোলিশ এই স্ট্রাইকার পরিচয় দিয়েছেন বিচক্ষণতার। গ্যানাব্রির শট পোষ্টে লেগে ফিরে আসলে লেভানডফস্কি পেয়ে যান, এরপর দারুণভাবে বল দখলে নিয়ে শট নিয়েছেন, যেটি সামান্য ডিফ্লেক্টেড হয়ে ঢুকে গেছে জালে।

    আরও কয়েকটা সুযোগ তৈরি করেছিলো বায়ার্ন। লিওরেয় সানে একবার বক্সের ভিতরে ড্রিবল করে এগিয়ে গিয়ে পাস দিয়েছেন, লেভানডফস্কির থেকে ফিরতি পাসে আবার বল পেয়ে এরপর সানে দুর্দান্ত একটা শট নিলেও গোল পাননি, টের স্টেগেন ভালো সেভে বাড়তে দেননি ব্যবধান। অবশ্য দুদলের শক্তি ও সামর্থ্যে যে বেশ পার্থক্য, তা ম্যাচে দেখিয়েই দিয়েছে নাগেলসম্যানের শিষ্যরা। বজায় রেখেছে চ্যাম্পিয়ন্স লীগে অ্যাওয়ে ম্যাচে তাদের অবিশ্বাস্য রেকর্ডও। চ্যাম্পিয়ন্স লীগে তাদের চাইতে বেশি টানা অ্যাওয়ে জয় নেই আর কারোরই (১৯টি)। সেই টানা অ্যাওয়ে জয়ের সংখ্যাটা বরং বাড়লোই শুধু বার্সেলোনার সাথে নু ক্যাম্পে এই জয়ে। 

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন