• ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
  • " />

     

    গার্দিওলার অ্যাসিড টেস্ট !

    মানচিনি, পেলেগ্রিনির পর ম্যান সিটি হটসিটে এসেছেন কোচ হিসেবে ইতোমধ্যেই সর্বজয়ী পেপ গার্দিওলা। নতুন কোচকে ‘আগমনী উপহার’ হিসেবে যেন ইচ্ছেমত অর্থ খরচের লাইসেন্সই দিয়ে দিয়েছে সিটি বোর্ড। গার্দিওলাও পিছপা হননি। একাধিক সাইনিং দিয়ে সিটিতে বলতে গেলে ‘অল-স্টার’ এক স্কোয়াডই বানিয়ে ফেলেছেন স্প্যানিশ এই কোচ। তবে গার্দিওলার আসল লড়াই শুরু হতে যাচ্ছে আগামীকাল থেকে। কোচিং ক্যারিয়ারের বয়সটা মাত্র আট বছর। এত অল্প সময়েই এসে পড়েছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা কোচদের তালিকায়। অভিজ্ঞতা-তারুণ্যের মিশেলে গড়া সিটি দলটিকে নিয়ে অনেকের মতে বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন লিগে কেমন করেন গার্দিওলা, এখন সেটারই অপেক্ষা। 

     

    সমস্যার নাম জো হার্ট
    গত মৌসুমটি ঠিক সুবিধার যায়নি এই ইংলিশ গোলরক্ষকের। মিনিওলের মতই তার একাধিক ভুলের মাশুল গুণতে হয়েছে সিটিকে। অনেকের মতেই হার্ট নিজের স্বভাবসুলভ খেলাটা খেলতে পারলে হয়তো সিটিকে এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ প্লে-অফ খেলতে হত না।

    তার বিকল্প হিসেবে থাকা উইলি কাবালেরোও ঠিক সুবিধা করতে পারেননি। তাই দলবদলের শেষদিকে এসে বিশ্বমানের একজন গোলরক্ষক খুঁজছেন পেপ। প্রথম পছন্দ বার্সেলোনার জার্মান গোলরক্ষক মার্ক আন্দ্রে টার-স্টেগেন। তবে বার্সা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাকে বিক্রি করবে না কাতালান জায়ান্টরা। সেক্ষেত্রে গোলরক্ষক না কিনতে পারলে হার্টই থাকবেন সিটির ‘নাম্বার ওয়ান’। খারাপ করলে কাবালেরোর কাছে স্থান হারানো, এমনকি হতে পারেন ক্লাবচ্যুতও- সিটির জার্সি গায়ে দশম মৌসুমে এসে খুব সম্ভবত নিজের কঠিনতম মৌসুমের সম্মুখীন হতে যাচ্ছেন এই ইংলিশ তারকা।

    ডিফেন্সের সমস্যা মেটেনি এখনো
    কাড়ি কাড়ি অর্থ ব্যয় করে ওতামেন্দি, মাঙ্গালাকে কেনা হলেও কম্পানির ইঞ্জুরির পর সিটির ডিফেন্সকে মনে হয়েছে অতি সাধারণ। ইঞ্জুরির কারণে কম্পানি ইউরো মিস করায় এবং এখনো ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন থাকায় আবারো ৫০+ মিলিয়ন ইউরো খরচ করে ডিফেন্ডার কিনেছে সিটি। এবার এসেছেন এভারটনের জন স্টোনস। ফুলব্যাক দায়িত্বে থাকবেন কোলারভ, সানিয়া। এই দুইজনের ব্যাকআপ হিসেবে আছেন ক্লিশি, জাবালেতা। কম্পানি ইঞ্জুরি থেকে সেরে না ওঠায় স্টোনসের পাশে মাঙ্গাল-ওতামেন্দির একজনকেই দেখা যাওয়ার কথা। 

    স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন বলেছিলেন, ‘আক্রমণভাগ দিয়ে ম্যাচ জেতা যায় কিন্তু লিগ জেতার জন্য লাগে শক্ত ডিফেন্স’। এবার লিগ জিততে চাইলে সিটির ডিফেন্ডারদের নিজ ট্রান্সফার ফির প্রতি সুবিচার করার কোনো বিকল্প নেই।

    সমস্যা আছে ডিফেন্সিভ মিডেও
    ইয়া ইয়া তোরের সাথে সম্পর্কটা সেই বার্সার দিন থেকেই খারাপ গার্দিওলার। আর সিটিতে আসার পর তো তোরের এজেন্ট প্রকাশ্যে গার্দিওলার সমালোচনা করেছেন। সব মিলিয়ে সিটির এতদিনের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার তোরের সিটি ভবিষ্যৎ নিয়ে আছে হাজারো প্রশ্ন? ডিফেন্সিভ মিডের জন্য লড়াইটা হবে ফারনান্দো, ফারনান্দিনহো, গুন্ডোগান ও ডেলফের মাঝে। গুন্ডোগানের দীর্ঘদিনের ইঞ্জুরি থাকায় ফারানান্দো-ফারনানদিনহো জুটিতেই ভরসা রাখবেন গার্দিওলা- এমনটাই বিশ্বাস সিটি সমর্থকদের।

    এছাড়া স্ট্রাইকারের ঠিক পেছনে ‘নাম্বার টেন’ রোলে দেখা যাবে সিলভা বা ডি ব্রুইনকে। অবশ্য দুজনেরই উইঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা থাকায় সিলভা বা ডি ব্রুইনের যে কাউকে আবারও ফরওয়ার্ড লাইনের এক প্রান্তে ও অন্যজনকে আগুয়েরোর পেছনে ‘নাম্বার টেন’ রোলে দেখা যেতে পারে।

    ভরসার নাম ফরোয়ার্ড লাইন
    নোলিতো, সানে, গ্যাব্রিয়েল হেসুস, মারলোস মরেনো। এবারের দলবদলে এই চারজনকে দলে ভিড়িয়েছে সিটি। পরের দুজনকে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে ধারে। নাভাস ও স্টার্লিং প্রত্যাশামত পারফরম করতে না পারায় আগামী মৌসুমে গার্দিওলার ‘পেকিং অর্ডারে’ সানে, নোলিতো থাকবেন নাভাস, স্টার্লিংয়ের আগে- এমন ভবিষ্যদ্বাণীই করেছেন একাধিক পন্ডিত। অবশ্য সানে এখনো ম্যাচফিট না হওয়ায় নাভাস/স্টার্লিংকে দেখা যেতে পারে শুরু থেকেই। স্ট্রাইকার হিসেবে আছেন আগুয়েরো ও বনি। সব মিলিয়ে আর যাই হোক, গোল দেয়া নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাতে হবে না সিটিকে।

    এত এত তারকাঠাসা ফরওয়ার্ড থাকলেও মূল সমস্যাটা হবে গার্দিওলার ট্যাকটিক্সে মানিয়ে নেওয়া। টিকি-টাকায় ঠিক কতটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন গতিশীল এই উইঙ্গারেরা, তা নিয়ে মূল প্রশ্ন। আগুয়েরো, বনির ফর্মহীনতায় নোলিতোকেও দেখা যেতে পারে স্ট্রাইকার হিসেবে।

    সম্ভাব্য ফরমেশনঃ ৪-৩-৩, ৪-১-৪-১

    স্পেন,জার্মানী জয় করে অবশেষে প্রিমিয়ার লিগে এসেছেন পেপ গার্দিওলা। বার্সা ছাড়ার পর থেকেই তাকে সিটিতে আনার প্রচেষ্টাটি সফল হল চার বছর পর। নিজের মত দল সাজিয়ে এখন প্রমাণ করার পালা। গার্দিওলা কি পারবেন বিশ্বে সবচেয়ে কঠিনতম লিগে নিজেকে প্রমাণ করতে? নাকি সাফল্যের পেছনে বার্সা-বায়ার্নের স্কোয়াডের কৃতিত্বই বেশি-এমন অপবাদই পরিণত হবে সত্যিতে? বিজ্ঞ এই কোচকে নিয়ে ঘুরপাক খেতে থাকা হাজারো প্রশ্নের উত্তর নিয়েই আসছে আসন্ন প্রিমিয়ার লিগ মৌসুম। 

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন