• বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ
  • " />

     

    লুইস ঝড়ে ঢাকার জয়

    লুইস ঝড়ে ঢাকার জয়    

    সংক্ষিপ্ত স্কোর

    ঢাকা ডায়নামাইটস ২০ ওভারে ১৮৮/৭ (লুইস ৭৫, মারুফ ৪০, সাকিব ২৯; রুবেল ৩/২৫, জিয়া ২/২২, সৌম্য ২/২৭)

    রংপুর রাইডার্স ২০ ওভারে ১৪৬/৮ (জিয়া ৬০, গাজী ৩৬, জামশেদ ২১; জায়েদ ৩/২০, সাকিব ২/১১)

    ফলঃ ঢাকা ডায়নামাইটস ৪২ রানে জয়ী

     



    দুই দলের আগের ম্যাচেই ঢাকা ডায়নামাইটসের রানের পাহাড়ের নিচে চাপা পড়েছিল রংপুর রাইডার্স। এভিন লুইস ও মেহেদী মারুফ ঝড়ের পর মনে হচ্ছিল আজও তেমনটাই ঘটতে যাচ্ছে। কিন্তু  জিয়াউর রহমানের দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত তা না ঘটলেও ৪২ রানের বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে সাকিব আল হাসানের দল। ধরে রেখেছে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থান।  

    ব্যাট হাতে এভিন লুইস দুর্দান্ত ফর্মে আছেন- একথা জানাই ছিল। ঠিক এক সপ্তাহ আগেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১২২ বলে ১৪৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছিলেন এই ক্যারিবীয় ওপেনার। আজ বিপিএলে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই রংপুরের বোলারদের ওপর নামালেন প্রমত্ত ক্যারিবীয় ঝড়। কুমার সাঙ্গাকারার জায়গায় ওপেন করতে নেমে মেহেদী মারুফের সঙ্গে গড়েছেন ১০৩ রানের বিস্ফোরক জুটি। এজন্য মাত্র ৫৯ বল খেলতে হয়েছে তাঁদের দুজনকে। ৩৪ বলে ৭৫ করা লুইসই তাতে থাকলেন অগ্রভাগে। ২২০.৫৮ স্ট্রাইক রেটের ইনিংসে চারের চেয়ে ছক্কাই মেরেছেন বেশি। ৩টি চারের সঙ্গে মেরেছেন ৮টি ছক্কা! রংপুরের দুই স্পিনার শহীদ আফ্রিদি ও সোহাগ গাজীর ওপর দিয়েই মূলত ঝড়টা চালিয়েছেন লুইস। দুজনকেই মেরেছেন ৩টি করে ছক্কা। ব্যাট হাতে ফর্মের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন মেহেদী মারুফ। ৩১ বলে ৪০ রানের ইনিংসে ৩টি চার ও ৩টি ছক্কা মেরেছেন তিনি।

    একটা সময় মনে হচ্ছিল এবারের বিপিএলে মনে হয় প্রথমবারের মতো দুইশো রান করে ফেলবে ঢাকা। কিন্তু লুইস-মারুফের বিদায়ের পর সেটা আর হয়নি। ২০ বলে ২৯ রান করেন সাকিব আল হাসান। ৯ বলে ১৪ রান করে অপরাজিত থাকেন মোসাদ্দেক হোসেন। দুর্দান্ত বোলিং করেছেন রংপুরের রুবেল হোসেন। তুলেছেন গতির ঝড়। এভিন লুইসকে তো ১৪৪ কিলোমিটার গতিতে বল করে ভড়কেই দিয়েছেন। একই ওভারে ডোয়াইন ব্রাভো ও সাকিব আল হাসানকে বোল্ড করেছেন দুর্দান্ত ডেলিভারিতে। এরপর নাসির হোসেনকেও ফিরিয়ে দেন তিনি।

    ১৮৯ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে শুরুতেই একটা ফাটকা খেলে রংপুর রাইডার্স। নাসির জামশেদের সঙ্গে ওপেনিংয়ে পাঠায় শহীদ আফ্রিদিকে। পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথমবার টি-টোয়েন্টিতে ওপেন করতে নেমে নেমে শুন্য রানে আউট হয়েছেন শহীদ আফ্রিদি। এরপর দ্রুতই উইকেট হারাতে থাকে রংপুর। ৪৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেললে মোটামুটি নিশ্চিত হয় রংপুরের পরাজয়। ৭ম উইকেটে ৮৭ রানের জুটি গড়ে দলকে লজ্জার হাত থেকে বাঁচান জিয়াউর রহমান ও সোহাগ গাজী। ৪৩ বলে ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ৬০ রান করেন জিয়া। মেরেছেন ৬টি চার ও ৩টি ছক্কা। তাঁর ইনিংসটি শেষ পর্যন্ত দলকে জয় এনে না দিতে পারলেও যথেষ্ঠ বিনোদন দিয়েছে দর্শকদের।

    তিন উইকেট পেয়েছেন ঢাকার পেসার আবু জায়েদ। দুর্দান্ত বল করেছেন ঢাকা অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। জিহান রুপাসিঙ্গেকে আউট করে পেয়েছেন টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ২৫০তম উইকেট। এই নিয়ে ২১৯ টি-টোয়েন্টিতে ২৫১ উইকেট শিকার করলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।