• ভারতের শ্রীলংকা সফর
  • " />
    X
    GO11IPL2020

     

    ভারতের রান-পাহাড়ে বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কা

    স্কোর

    দ্বিতীয় দিন শেষে

    ভারত ১৩৩.১ ওভারে ৬০০ (ধাওয়ান ১৯০, পুজারা ১৫৩;  পদ্রীপ ৬/১৩২)

    শ্রীলঙ্কা ৪৪ ওভারে ১৫৪/৫ (থারাঙ্গা ৬৪, ম্যাথিউস ৬৪*, শামি ২/৩০)


    গল টেস্টের সম্ভাব্য ফল কাগজে কলমে তিনটি। শ্রীলঙ্কার জয়, ভারতের জয় এবং ড্র। প্রথম সম্ভাবনা বলতে গেলে ভারতের ইনিংসের পরেই শেষ হয়ে গেছে। টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৬০০ রান করে যে কোনো দলের হারের নজির নেই! আর দ্বিতীয় দিন শেষে অনেকে শেষ সম্ভাবনাও বাতিল করে দিতে পারেন। ভারতের রান পাহাড়ের পর যে ১৫৪ রান তুলতেই ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলেছে শ্রীলঙ্কা!

    গলের উইকেটে এমন কোনো জুজু ছিল না। দ্বিতীয় দিনে অশ্বিন টার্ন পেয়েছেন বটে, কিন্তু সেটা এমন কোনো দুঃসাধ্য নয়। শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানদের উইকেট বিলিয়ে আসার পাশাপাশি দায়ী করতে পারেন অভিনব মুকুন্দকেও। ভারতের এই ওপেনারের দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়েই যে দুইটি উইকেট খুইয়েছে শ্রীলঙ্কা!

    তার আগে শ্রীলঙ্কাকে প্রথম ধাক্কা দিয়েছেন উমেশ যাদব। মাত্র ৭ রানেই করুনারত্নেকে ক্যাচ বানিয়েছেন উইকেটের পেছনে। থারাঙ্গার সঙ্গে গুনাথিলাকা মিলে পথ দেখাচ্ছিলেন স্বাগতিকদের, দ্বিতীয় উইকেটে ৬১ রানও যোগ করে ফেলেছিলেন দুজন। কিন্তু এর পরেই মোহাম্মদ শামির জোড়া। প্রথমে শরীর থেকে দূরে আলগা স্ট্রোক খেলতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিলেন গুনাথিলাকা। তাঁর রান যখন ১৬। চার বল পর ওই ওভারেই আবার শামির আঘাত। এবার আগের মতোই উইকেটের পেছনে কোনো রান না করেই ফিরে গেছেন কুশল মেন্ডিস। ক্যাচটাও ধরেছেন ধাওয়ানই।

    থারাঙ্গা অবশ্য ভালোই খেলছিলেন । ৪৪ বলে ফিফটিও পেয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু এর পরেই দৃশ্যপটে মুকুন্দ। অশ্বিনের বলটা খেলতে গিয়ে ক্রিজের একটু বেশি বাইরেই বেরিয়ে এসেছিলেন থারাঙ্গা। সিলি পয়েন্টে মুকুন্দের ক্ষিপ্র থ্রো যখন স্টাম্প ভেঙে দেয়, থারাঙ্গা ভেতরে ঢুকে গিয়েছিলেন বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু রিপ্লেতে দেখা গেছে, ব্যাট ক্রিজের ভেতর ঢুকলেও উইকেট স্পর্শ করেনি, ভেসে ছিল বাতাসে। ৬৪ রান করেই ফিরে যেতে হয়েছে থারাঙ্গাকে। ৮ রান করে এরপর ডিকভেলাও আউট হলেন অশ্বিন-মুকুন্দ যুগলবন্দিতে। অশ্বিনের টার্ন করা বলটা ডিকভেলার ব্যাটে লেগে সিলি পয়েন্টে দারুণ এক ক্যাচে লুফে নিলেন মুকুন্দ। দিন শেষে শ্রীলঙ্কার ভরসা শুধু মাত্রই সাবেক হয়ে যাওয়া অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস।

    তার আগে সকালে শ্রীলঙ্কার শুরুটা ভালোই হয়েছিল। আগের দিনের সঙ্গে ৯ রান করে ফিরে গিয়েছিলেন পূজারা, রাহানেও খুব বড় করতে পারেননি ইনিংস। অশ্বিন অবশ্য তিন রানের জন্য ফিফটি পাননি, তবে অভিষিক্ত পান্ডিয়ার সেই আক্ষেপ হয়নি। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে ৪৯ বলে পেয়েছেন নিজের প্রথম ফিফটি। ভারতও তখন ঠিক ৬০০ ছুঁয়েছে, আগের দিনের সঙ্গে সাত উইকেট হারিয়ে আজ যোগ করেছেন ২০১ রান। নুয়ান প্রদীপ নিয়েছেন ৬ উইকেট।  তখন কে জানত, শ্রীলঙ্কার এমন সকাল শেষে দুঃস্বপ্নের বিকেল আসবে?

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন