• বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া
  • " />
    X
    GO11IPL2020

     

    দুঃস্বপ্নের শুরুর পর স্বপ্নের শেষ

    দিনের শেষ বলটা হতেই হাততালি দিতে দিতে মাঠ ছাড়লেন সাকিবরা। সেটাই যেন বলে দিল প্রথম দিনের গল্পটা। মিরপুরের প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশ অন্তত বলতে পারবে, আর যাই হোক, শেষটা অন্তত হয়েছে আশা জাগানিয়া। ২৬০ রানে অলআউট হওয়ার পর বাংলাদেশের যে দিনটা হতে পারত আফসোসের, সেটাই হয়েছে তৃপ্তির। অস্ট্রেলিয়া ব্যাট করতে নেমে যে ১৮ রানেই হারিয়ে ফেলেছে ৩ উইকেট!

    প্রথম আঘাতটা মিরাজের, ভেতরের দিকে ঢোকা বলে ক্রিজের ভেতর থেকে খেলতে গিয়ে মিস করেছিলেন ডেভিড ওয়ার্নার। আলিম দার আউট দিলেন, অথচ আগের বলেই এই ওয়ার্নারকেই আউট দিয়ে বদলাতে হয়েছিল সিদ্ধান্ত। এরপর উসমান খাওয়াজাকে যেন ভূতে পেয়ে বসলো, সাকিবের বল তার প্যাডে লাগার পরই তিনি দিলেন ভোঁ দৌড়! শর্ট কাভার থেকে থ্রো করলেন মুশফিক, সৌম্য প্রথমবার না পারলেও স্টাম্প ভাঙলেন দ্বিতীয়বারের চেষ্টায়। খাওয়াজা তখনও ক্রিজের বাইরে, অস্ট্রেলিয়া তখন আরও চাপে। পাঠানো হলো নাইটওয়াচম্যান ন্যাথান লায়নকে। সাকিবের বলটা প্যাড বাড়িয়ে ডিফেন্স করতে গিয়েই কাল হলো তার। নাইজেল লং তুললেন আঙ্গুল, সকালের দুঃস্বপ্নটা যেন শেষবেলায় এসে অস্ট্রেলিয়াকে ফিরিয়ে দিল বাংলাদেশ! 

    শুরুটা দুঃস্বপ্ন দিয়েই হয়েছিল। সকালে সর্বশেষ টেস্টের মতো এবার ভাগ্য অপ্রসন্ন হয়নি মুশফিকুর রহিমের, টসে জিতে ব্যাটিং নিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। বাংলাদেশের যা দুঃস্বপ্ন, প্যাট কামিন্সের জন্য তা ছিল স্বপ্নের শুরু। সিমে পড়ে লাফিয়ে ওঠা বল ঠিকঠাক বুঝতে না পেরে খোঁচা দিলেন সৌম্য, হ্যান্ডসকম্ব গালিতে সহজ ক্যাচটা মিস করলেন না। শরীর থেকে অনেক দূরে ব্যাট চালাতে গিয়ে ইমরুল কায়েস হলেন কামিন্সের দ্বিতীয় শিকার। কামিন্সের পরের বলটাই ছিল ফুল লেংথে, কিন্তু সুইং করল একটু দেরিতে। প্রথম বলেই ব্যাট চালাতে গেলেন সাব্বির, ব্যাট মাটিতেও লাগল। কিন্তু একই সঙ্গে বল লাগল ব্যাটেও। রিভিউ নিলেন, কিন্তু লাভ হলো না। যে রিভিউর জন্য পরে মূল্য দিয়েছে বাংলাদেশ। ১০ রানেই নেই ৩ উইকেট! 

     

     

    এরপর সাকিব-তামিমের গল্প, টেস্টে তাদের সর্বোচ্চ ১৫৫ রানের জুটির গল্প। চতুর্থ উইকেটে বাংলাদেশের হয়ে এর চেয়ে বেশি রান আছে মাত্র একবারই। ২০১২ সালে মিরপুরেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সাকিব ও নাঈম ইসলাম করেছিলেন ১৬৭ রান। আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এর চেয়ে বেশি রানের জুটি আছে একটিই। ২০০৬ সালে সেই ফতুল্লা টেস্টে শাহরিয়ার নাফীস ও হাবিবুল বাশার করেছিলেন ১৮৭ রান।

     

     

    তামিম আউট হওয়ার আগে একটা সুযোগ দিয়েছিলেন ঠিকই। ৬২ রানে ফিরতি ক্যাচে হাত লাগিয়েও সেটি জমাতে পারেননি হ্যাজলউড। শেষ পর্যন্ত ম্যাক্সওয়েলের বলেই ভেঙেছে সাকিবের সঙ্গে তাঁর ১৫৫ রানের জুটি। গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের একটা নিরীহ বলে কাট করতে গিয়ে ওয়ার্নারের হাতে ক্যাচ তুলে দিলেন শর্ট থার্ডম্যানে। তবে বাংলাদেশের মূল ভয় যার হওয়ার কথা ছিল, সেই নাথান লায়নের বলেই এসেছে সবচেয়ে বড় আঘাত। আউট হওয়ার আগে সেই অর্থে সাকিব সুযোগ দেননি, যা দিলেন, সেটা লুফে নিলেন অস্ট্রেলিয়ানরা। লাফিয়ে ওঠা বলে যখন সাকিব ক্যাচ দিয়েছেন স্লিপে, সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১৬ রান দূরে ছিলেন তখন। 

     


    তবুও চা বিরতি পর্যন্তও ৩০০ রান মনে হচ্ছিল খুবই সম্ভব। মুশফিকুর রহিম, নাসির হোসেন ছিলেন ক্রিজে। দুজনের কাউকেই খুব একটা অস্বচ্ছন্দও মনে হচ্ছিল না। কিন্তু চা বিরতির চার ওভার পর নির্বিষ মনে হওয়া অ্যাশটন অ্যাগারই প্রথম ছোবলটা দিলেন। বলের লাইন মিস করে বলটা ডিফেন্ড করতে গিয়ে এলবিডব্লু হয়ে গেলেন মুশফিক। রিভিউ নিলেন, কিন্তু লাভ হলো না। 

    সেই রিভিয়ের জন্য যে পরে বিস্তর আফসোস করতে হবে, মুশফিক হয়তো তখন তা চিন্তাও করেননি। প্রথম বলেই চার মেরে শুরু মিরাজের, নাসিরের সঙ্গে ৪২ রানের একটা জুটিও গড়ে ফেলেছিলেন। এর মধ্যে বৃষ্টি কিছুক্ষণ চোখ রাঙিয়ে চলে গেল , খেলা শুরুর পরও আবার স্বচ্ছন্দ দুজন। কিন্তু লায়নের বলে ব্যাট-প্যাড ক্যাচ দিয়ে ফিরে গেলেন মিরাজ। মাথা নাড়তে নাড়তে বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন, রিভিউ থাকলে অবশ্যই নিতেন। রিপ্লেতে দেখা গেছে, বল ব্যাটের অনেক দূরেই ছিল। কিন্তু আলিম দারের সিদ্ধান্তটা চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ ছিল না বাংলাদেশের। সাব্বির-মুশফিক যে তার আগেই দুইটি রিভিউ খরচ করে ফেলেছেন! 

    তবে রিভিউ নিয়ে হতাশাটা তখনও শেষ হয়নি। টেস্ট দলে ফিরে নাসির হোসেন আভাস দিচ্ছিলেন ভালো কিছুর। কিন্তু ২৩ রান করে অ্যাগারের বলে হয়ে গেলেন এলবিডব্লু। এবার আম্পায়ার নাইজেল লং আউট দেননি, কিন্তু রিভিউ নিয়ে স্মিথরা হেসেছেন শেষ হাসি। এরপর শফিউলের তিন বাউন্ডারিতে বাংলাদেশ ২৫০ পার হয়েছে ধুঁকতে ধুঁকতে। মিরপুর স্টেডিয়ামের হাজার তিনেক দর্শকের কোরাসের উপলক্ষ এনে দেওয়া ছাড়া সেটা আর কিছু করেনি। 

    তবে তাদেরকে আরও বড় কোরাসের উপলক্ষ্য তো এনে দিয়েছেন মিরাজ-সাকিবরা। দিনের শেষবেলায়। 

     


    আরো দেখুনঃ লায়নকে তামিমেম তিন ছক্কা


      

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন