• বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া
  • " />

     

    আফতাবদের ভোলেননি ওকিফ

    আফতাবদের ভোলেননি ওকিফ    

     

    দূর থেকে দেখা হতেই এগিয়ে এলেন হাসিমুখে। ‘দারুণ একটা দিন, তাই না?’ স্টিভ ওকিফের মুখ ঝলমল করছে হাসিতে। দিন চারেকের মধ্যেই হঠাৎ করেই বদলে গেছে অনেক কিছু, দর্শক হয়ে এখন কড়া নাড়ছেন জাতীয় দলের দরজায়। তবে এই অস্ট্রেলিয়ার অনেকের কাছেই বাংলাদেশ অচেনা হলেও ওকিফের কাছে কিন্তু তা নয়। এমনকি ওয়ার্ন-গিলেস্পিদের আগেই বাংলাদেশকে চিনে গিয়েছিলেন সেই ২০০৪ সালে। অস্ট্রেলিয়ার অনূর্ধ্ব ১৯ দলের হয়ে সেই স্মৃতি এখনও ভোলেননি ওকিফ।

    অথচ চট্টগ্রামে তার থাকারই কথা ছিল না। এই বছরেই ভারতের সঙ্গে পুনেতে একাই ধসিয়ে দিয়েছিলেন কোহলিদের। কিন্তু ওই টেস্টের পরেই সবকিছু চলতে শুরু করল উলটো পথে। বাকি তিন টেস্টে খুব একটা সুবিধা করতে পারলেন না। পরে রাজ্যদল নিউ সাউথ ওয়েলসের একটা অনুষ্ঠানে মাতাল হয়ে বহিষ্কারও হলেন। পরে বাংলাদেশ সফরের দলেও জায়গা পেলেন না। জানানো হলো, ২০২১ সালের ভারত সফরের কথা ভেবেই নেওয়া হয়নি ওকিফকে।
     

    কিন্তু নিয়তি ঠিকই তাঁকে নিয়ে আসল বাংলাদেশ। মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিনেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লেন জশ হ্যাজলউড। পরে আর বল করতে পারেননি, দেশেই ফিরতে হয়েছে। বদলি হিসেবে ডাক পেয়েছেন ওকিফ। যখন বিমানে চড়ে বসেছেন, তখন মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার দুপুরটা হয়ে যাচ্ছে দুঃস্বপ্নের। নিজেই সেটি মনে করিয়ে দিয়েছেন। তবে বাংলাদেশের আলো হাওয়া ওকিফের কাছে অচেনা নয়, নিজেই সেটি মনে করিয়ে দিলেন।

     

    ২০০৪ সালে ওকিফের বয়স ১৯ও হয়নি। সেবার অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশে এসেছিলেন। কিন্তু সফরটা মনে রাখার মতো হয়নি। জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার পেছনে থেকে তৃতীয় হয়ে অস্ট্রেলিয়াকে শেষ করতে হয়েছিল গ্রুপ পর্ব। পরে প্লেট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালেই দেখা হয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে।

    ওই ফাইনালে শুরুতে ব্যাট করে বাংলাদেশ করেছিল ২৫৭। অস্ট্রেলিয়া শেষ পর্যন্ত হেরে গিয়েছিল ৮ রানে। অদ্ভুতই বটে, ওই ম্যাচে বল হাতে কিছু করতে না পারলেও ব্যাট হাতে দলের সর্বোচ্চ ৬৫ রান এসেছিল তাঁর ব্যাট থেকেই। সেজন্যই হয়তো ম্যাচটা মনে আছে তাঁর, ‘ম্যাচটা তো চট্টগ্রামে নয়, ফতুল্লায় হয়েছিল। যতদূর মনে আছে, আফতাব ছিল ওদের দলে। তবে ম্যাচটা আমরা জিততে পারিনি।’

    আফতাব ৫৭ রান করলেও ওই ম্যাচে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ৬৬ রান করেছিলেন নাঈম ইসলাম। ওই দলের নাফিস ইকবাল, নাজিম উদ্দিন, ধীমান ঘোষ, এনামুল হক জুনিয়র, শাহাদাত হোসেন, নাজমুল হোসেনরা সবাই বাংলাদেশে খেলেছেন। আর অস্ট্রেলিয়ার ওই দলের টিম পেইন, ময়জেস হেনরিকসরা পরে খেলেছিলেন জাতীয় দলের হয়ে। কেউই অবশ্য সেভাবে থিতু হতে পারেননি।

    ওকিফও সুযোগ পেয়েও অনেকবারই হাতছাড়া করেছেন। এবার কি তার ব্যতিক্রম হবে?