এবার সিরিজ জয়?
কবে, কখন
৪-৮ সেপ্টেম্বর, চট্টগ্রাম
খেলা শুরু বাংলাদেশ সময় সকাল ১০.০০টা।
সিরিজের বর্তমান ফল : বাংলাদেশ ১-০ তে এগিয়ে
ফতুল্লা, ২০০৬। রিকি পন্টিং বা অ্যাডাম গিলক্রিস্ট মিলে জয়টা ছিনিয়ে নিয়ে গেলেন বাংলাদেশের থেকে। পরের টেস্ট চট্টগ্রামে, বাংলাদেশ ফতুল্লা থেকে লড়াইয়ের শক্তি পাবে কই, উলটো হারলো ইনিংস ব্যবধানে। নাইটওয়াচম্যান হিসেবে নেমে সেঞ্চুরি করলেন জ্যাসন গিলেস্পি।
মিরপুর, ২০১৭। টেস্টটা জিতে গেল বাংলাদেশে। চট্টগ্রামে লড়াইয়ের শক্তি শুধু সঙ্গী নয়, সঙ্গী ইতিহাস গড়ার হাতছানিও। বাংলাদেশ আর যাই করুক, সিরিজটা হারবে না। অস্ট্রেলিয়া যেটাই করুক, জিততে পারবে না সিরিজ। চট্টগ্রামে দ্বিতীয় টেস্ট শুরুর আগের সমীকরণটা সেদিক দিয়ে সরলই। সিরিজ জিততে নামবে বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া নামবে সিরিজটা বাঁচাতে।
বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ঐতিহাসিক জয়টা অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গেই এসেছে কিনা, সেটা নিয়েও আলোচনার সুযোগ থাকতে পারে। তবে সে জয়ের তাৎপর্যকে ছাপিয়ে যাওয়ার একটা সুযোগ বাংলাদেশের সামনে।
শ্রীলঙ্কার সঙ্গে জয়টা ছিল সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে, ইংল্যান্ডের সঙ্গেও তাই। সিরিজে ফিরে আসার চাপ ছিল, সিরিজ জয়ের নয়। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে আছে সেটাই। ‘চাপ’ শব্দটার অযাচিত ব্যবহার হয়ে গেল কিনা, সেটা একটা প্রশ্ন।
শুধুই উপভোগের মন্ত্র নিয়ে বাংলাদেশ নামবে না, অন্তত এটা নিশ্চিত। তবে এ টেস্টে জয় এনে দিতে পারে অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশের সুযোগ, সার্বক্ষণিক এ চিন্তাটাও হয়ে যেতে পারে বুমেরাং।
শুধুই আরেকটি টেস্ট, যে টেস্টে হতে পারে ইতিহাস। এ দুইয়ের সাম্য রেখেই নামতে হবে বাংলাদেশকে।
রঙ্গমঞ্চ
চট্টগ্রাম, বাংলাদেশের জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনে যা। প্রথম টেস্ট জয় এখানে(ভেন্যু আলাদা), আছে আরও অনেক সাফল্যের সুখস্মৃতি। জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়াম অবশ্য গত ইংল্যান্ড সিরিজ দিয়েছিল বাংলাদেশকে ‘এত কাছে তবু এতদূর’-এর আক্ষেপ। ভারী বর্ষনের আশঙ্কা আছে, সংশয় আছে দ্বিতীয় টেস্টের ভাগ্য নিয়ে। তবে আরেকটি ইতিহাস গড়ার হাতছানিটা মিলিয়ে যাচ্ছে না, আগামী পাঁচদিন চট্টগ্রাম হয়ে উঠতে পারে শুধু বাংলাদেশের কেন, ক্রিকেট বিশ্বেরই আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।
যাদের ওপর চোখ
তামিম ইকবাল
খুব অল্প কথায় বললে, ঘরের ছেলে। তামিম ইকবাল চট্টগ্রামে খেললে আলাদা করে নজর তার ওপর থাকেই। প্রথম টেস্টের দুই ইনিংসেই গুরুত্বপূর্ণ দুই ফিফটি করেছেন, দলের জয়ে আছে বড় অবদান। সাকিবের পারফরম্যান্স হয়তো আড়াল করে নিয়ে গেছে তাকে একটু, তবে তামিম চট্টগ্রামকেই আলো কেড়ে নেয়ার উপলক্ষ্যটা আনবেন না, সেটা জোর গলায় বলবেন কে!
ডেভিড ওয়ার্নার
অস্ট্রেলিয়ার আর সবার চেয়ে আক্ষেপটা বোধহয় তারই বেশি ছিল প্রথম টেস্টের পর। দ্বিতীয় ইনিংসে লড়াকু এক সেঞ্চুরির পরও জেতাতে পারেননি দলকে, তার উইকেটের পরই নেমেছে ধ্বস। এশিয়ার ট্র্যাকে রেকর্ডকে অন্যদিকে ছুটানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন ওয়ার্নার, নিশ্চয়ই চাইবেন সেটার বেগটা বাড়িয়ে দিতে!
সংখ্যার খেলা
- ২০০৫, ২০০৯ ও ২০১৪। বাংলাদেশের তিন টেস্ট সিরিজ জয়ের সাল। জিম্বাবুয়ে দুইবার প্রতিপক্ষ, ২০০৯-এর প্রতিপক্ষ ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সিরিজ জয়ের সংখ্যাটা হয়ে যেতে পারে চার, জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের পাশে বসতে পারে অস্ট্রেলিয়ার নাম।
- পাকিস্তান(আরব আমিরাত), শ্রীলঙ্কা, ভারত, এশিয়ার তিন দেশের সঙ্গেই নিজের সর্বশেষ সফরে সিরিজ হেরেছে অস্ট্রেলিয়া। সে চক্রের শেষে বাংলাদেশ সফর, সিরিজ হারের চক্রটাও তাই হয়ে যেতে পারে পূর্ণ।