• বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া
  • " />

     

    ফিরে পাওয়ার দিনেও 'চেনা' মুস্তাফিজ

    ফিরে পাওয়ার দিনেও 'চেনা' মুস্তাফিজ    

    মুস্তাফিজুর রহমান কথার চেয়ে কাজটাই সবসময় বেশি করেন। সংবাদ সম্মেলনে উত্তরগুলো শেষ হয়ে যায় কয়েকটা শব্দেই। এই টেস্টে প্রথমবারের মতো নিজেকে ফিরে পাওয়ার দিন, তাও আবার নিজের ২২তম জন্মদিনেই! কিন্তু মুস্তাফিজুর রহমানের তাতেও খুব একটা ভাবান্তর নেই। বরং শুধু বললেন, ‘আগের চেয়ে ভালো করার চেষ্টা করছেন।’

    সেই চেষ্টার ছাপ মিরপুর টেস্টেও ছিল। পরিসংখ্যান দেখে সেটা বুঝতে গেলে অবশ্য ভুল করবেন। দুই ইনিংস মিলে মোটে নয় ওভার বল করেছেন, উইকেট নেই একটিও। তবে পরিসংখ্যান বলবে না, প্রথম ইনিংসে চার ওভারের প্রথম স্পেলে প্রতিপক্ষকে অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছিলেন বেশ। ক্রিজে তখন ব্যাট করছিলেন অস্ট্রেলিয়ার পিটার হ্যান্ডসকম্ব ও ম্যাট রেনশ। মুস্তাফিজের ওটাই ছিল ম্যাচের প্রথম স্পেল, চার ওভারে দিয়েছিলেন দুই রান। সবচেয়ে বড় কথা, একদিক থেকে যে চাপটা দিয়েছিলেন, তাতেই তাইজুল পেয়েছিলেন হ্যান্ডসকম্বের ব্রেকথ্রু। বাংলাদেশের জন্য ওই পরিস্থিতিতে যেটি ছিল দারুণ মহার্ঘ্য।

    তবে চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ঠিক বিপরীত পরিস্থিতি ছিল। এদিন মুস্তাফিজ শুরুতেই রেনশর উইকেট পেয়েছেন, তবে নিজের চেয়ে তাতে উইকেটকিপার মুশফিকুর রহিমেরই কৃতিত্ব বেশি। কাল নিজের লাইনও যেন ঠিকমতো খুঁজে পাচ্ছিলেন না, ১০ ওভারে বেশ কিছু বাজে বল দিয়ে গুণতে হয়েছিল ৪৫ রান। উইকেট পেলেও মুস্তাফিজকে যে ভীষণ বিবর্ণ দেখাচ্ছিল!

    তবে তৃতীয় দিনে মুস্তাফিজ অনেক বেশি সুশৃঙ্খল, অনেক বেশি ধ্যানী। উইকেট পেতে পারতেন নিজের দ্বিতীয় ওভারেই, কিন্তু ম্যাক্সওয়েলের সহজ ক্যাচটাই নিতে পারেননি মিরাজ।  পরে জানিয়েছেন, কোচ ও অধিনায়ক বলেছেন তাঁকে আজ আরেকটু বেশি ‘এফোর্ট’ দিতে।

    আজ শুরু থেকেই শর্ট বল দিয়ে, নিয়মিত লেংথ চেঞ্জ করে বার বার ব্যাটসম্যানদের পরীক্ষা নিয়েছেন। মুস্তাফিজের ভাষায়, ‘ ওভারের চারটা বল ঠিক জায়গায় হয়েছে, দুইটি বল চলে গেছে সামনে পিছনে।’ শেষ পর্যন্ত ওয়ার্নারকে শর্ট বলে ফিরিয়ে পেয়েছেন নিজের প্রথম সাফল্য। প্রতি ওভারেই বাউন্সার দিচ্ছিলেন, একটি ওয়াইডও হয়ে গেছে। তবে দারুণ বোলিংয়ের পুরস্কার পেয়েছেন আরও, ম্যাথু ওয়েডকে ভেতরে দিকে ঢোকা বলে এলবিডব্লুতে ফিরিয়ে দিয়ে পেয়েছেন নিজের তৃতীয় উইকেট।

     

     

    তিন উইকেট এমনিতে এমন কিছুই নয়। তবে অর্জনটা কত বড়, সেটার কিছুটা আঁচ পাওয়া যাবে একটা পরিসংখ্যান থেকে। দেশের মাটিতে গত ২৪টি টেস্টে বাংলাদেশের পেসাররা মাত্র দুইবার ইনিংসে দুইটির বেশি উইকেট পেয়েছেন। দুবারই সেটি পেয়েছেন মুস্তাফিজ। গত তিন বছরে এক তিনাশে পানিয়াঙ্গারা ছাড়া বাংলাদেশে আর কোনো পেসারই ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিতে পারেননি।

     

    তাহলে নতুন কোচ কোর্টনি ওয়ালশের পাঠশালায় ক্লাস ভালোই হয়েছে মুস্তাফিজের? এখানেও একদমই স্বল্পবাক মুস্তাফিজ, শুধু জানালেন, এখনো মাত্র ‘অর্ধেক’ শিখতে পেরেছেন। শর্ট বল নিয়ে প্রসঙ্গে তাও একটু ‘বিস্তারিত’ বললেন, আমি এমনিতে বাউন্সার কম মারি। দুই বছরের বছরের ক্যারিয়ারে খুব কম। এখন চেষ্টা করছি ওভারে দুইটা বাউন্সার যদি ভালো জায়গায় করতে পারি।‘ 

    বরং মুস্তাফিজ প্রসঙ্গে ডেভিড ওয়ার্নারই অনেক কথা একসঙ্গে বলে দিলেন, ‘আমার মনে হয় ও খুব ভালো বোলার। খুবই অসাধারণ একজন প্রতিভা।’ তবে ওয়ার্নার সেই সঙ্গে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা উপদেশও দিয়ে গেলেন, ‘দেখুন, আমার মনে হয় বাংলাদেশকে ওর দিকে ভালোমতো নজর রাখতে হবে। ও এক নম্বর স্ট্রাইক বোলার। টেস্ট , ওয়ানডে না টি-টোয়েন্টি কোথায় ওর মনযোগটা বেশি হবে সেটাও ঠিক করতে হবে। সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ওকেও ভাবতে হবে।’


    ওয়ার্নার অবশ্য অভিভাবক হয়ে এভাবে উপদেশ দেওয়ার আলাদা একটা কারণও আছে। আইপিএলে হায়দরাবাদ সানরাইজার্সে যে তাঁর অধিনায়কত্বেই প্রথম আলো ছড়িয়েছেন মুস্তাফিজ। যেখান থেকে তাঁর ডাক নামই হয়ে গেছে ফিজ। জন্মদিনে হায়দরাবাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যে ওয়ার্নারের কাছ থেকে শুভেচ্ছা পেয়েছেন , সেটাও জানালেন। তখন কি ভেবেছিলেন, বিশেষ দিনের সবচেয়ে বড় উপহারটা অধিনায়কের কাছ থেকেই পাবেন?

    মুস্তাফিজ অবশ্য এসব নিয়ে মাথা ঘামাবেন বলে মনে হয় না। নিজের কাজটা ঠিকঠাক করাতেই তো তাঁর আনন্দ!