• চ্যাম্পিয়নস লিগ
  • " />
    X
    GO11IPL2020

     

    লন্ডন- থ্রিলারের রাতে জিতল বড়রাও

    স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে আজ জিতলেই পরের রাউন্ড নিশ্চিত হয়ে যেত চেলসির। দুই গোল দিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডের পথে অনেকটাই এগিয়েও গিয়েছিল তারা। কিন্তু সেখান থেকেই একটা সময় ৩-২ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল আন্তোনিও কন্তের দল। তবে শেষ পর্যন্ত চেলসিকে রক্ষা করেছেন এডেন হ্যাজার্ড। ৭৫ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে হার এড়িয়েছেন দলের। রোমার সাথে চেলসির ম্যাচ ড্র হয়েছে ৩-৩ ব্যবধানে।

    দুই দলের ম্যাচ ড্র করায় অবশ্য সবচেয়ে বেশি সুবিধাটা হয়েছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের। গ্রুপ ‘সি’ এর ম্যাচে কারাবাগের সাথে গোলশূন্য ড্র করে প্রথম রাউন্ড থেকেই বাদ পড়ার শঙ্কা ভর করেছে ডিয়েগো সিমিওনের দলের ওপর। তিন ম্যাচ থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র দুই পয়েন্ট পেয়েছে তার দল। গ্রুপের অন্য ম্যাচে চেলসি-রোমা ড্র করায় তাই পরের রাউন্ডে যাওয়ার ভাগ্যটা নিজেদের হাতেই থাকল অ্যাটলেটিকোর।

    লন্ডনে প্রথমেই দুই গোলের লিড নিলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল রোমার হাতেই। চেলসির হয়ে প্রথম গোল করেছিলেন ডেভিড লুইজ। ১১ মিনিটে ডিবক্সের বাইরে থেকে তার নেয়া জোরালো শট জালে জড়ালে এগিয়ে যায় কন্তের দল। এরপর ৩৭ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হ্যাজার্ড।

    দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও প্রথমার্ধ শেষের আগেই ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় রোমা। গোলটা পেতে পেতেও পাচ্ছিল তারা। শেষ পর্যন্ত ৪০ মিনিটে গোলের দেখা পায় রোমা। গোলের পুরো কৃতিত্বটা অবশ্য অ্যালেক্সান্ডার কোলারোভের। নিজেই বানিয়েছেন, নিজেই জালে জড়িয়েছেন বল; সাথে রোমাকেও ম্যাচে ফিরিয়েছেন সার্বিয়ান লেফটব্যাক। ওই গোলের সূত্র ধরেই দ্বিতীয়ার্ধে দারুণ শুরু করে রোমা। বারবার আক্রমণ করে চেলসিকে কোনঠাসা করে রাখার ফলটা পেতে খুব বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি এর পর। ৬৪ মিনিটে মনে রাখার মতো এক গোল করে দুই গোলে পিছিয়ে থাকা ম্যাচে সমতা ফেরান এডিন জেকো। ফ্রেডেরিকো ফাজ্জিওর লং বল থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত ভলিতে চেলসির জালে বল জড়ান বসনিয়ান স্ট্রাইকার। এর ছয় মিনিট পরই হেড করে ম্যাচে প্রথমবারের মতো রোমাকে এগিয়ে দেন জেকোই।



    তবে রোমার লিড বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। জেকোর জোড়া গোলের পর হ্যাজার্ডও করেন নিজের দ্বিতীয় গোল। ৭৫ মিনিটে স্কোরলাইন ৩-৩ করেন তিনি। শেষদিকে চেলসি আর তেমন সুযোগ না পেলেও, জেকোই পারতেন নিজের হ্যাটট্রিক তুলে নিতে। কিন্তু ডান দিক থেকে আসা ক্রসে ঠিক মতো মাথা ছোঁয়াতে পারেননি জেকো, না হলে হ্যাটট্রিকের সাথে নিজের দলের জয়টাও হয়ত নিশ্চিত করে ফেলতে পারতেন!

    চেলসি না পারলেও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড অবশ্য চ্যাম্পিয়নস লিগে শতভাগ জয়ের রেকর্ডটা ধরে রেখেছে। বেনফিকাকে হোসে মরিনহোর দল হারিয়েছে ১-০ ব্যবধানে। ৬৪ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে পাওয়া নিজের গোলটা অবশ্য প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক মাইল সভিলার দেয়া উপহার হিসেবেই দেখতে পারেন মার্কোস র‍্যাশফোর্ড। ম্যাচটা মনে রাখার মতো না হলেও সভিলার জন্য রাতটা ছিল একটু অন্যরকমই। সবচেয়ে কম বয়সী গোলরক্ষক হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে নাম লিখিয়ে ফেলেছেন আজকের ম্যাচ খেলতে নেমেই। 



    গ্রুপ ‘বি’ তে প্যারিস সেন্ট জার্মেইও ছুটছে দুরন্ত গতিতে। অ্যান্ডারলেখটকে ৪-০ ব্যবধানে হারিয়ে শতভাগ জয় ধরে রেখেছে নেইমারের দলও। বেলজিয়ামে মাত্র ৩ মিনিটেই পিএসজিকে এগিয়ে দিয়েছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। বিরতির ঠিক আগে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এডিনসন কাভানি। এই নিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা ৭ ম্যাচেই গোল করলেন উরুগুইয়ান স্ট্রাইকার। তার চেয়ে বেশি একটানা গোলের রেকর্ড আছে কেবল রুড ভ্যান নিস্টলরয় ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো!

    ৬৬ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে দারুণ এক গোল করে ম্যাচে অ্যান্ডারলেখটের সব আশা শেষ করে দেন নেইমার। এরপর বদলি হয়ে খেলতে নেমে কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকেন অ্যানহেল ডি মারিয়া।

    পিএসজির কাছে আগের ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারা বায়ার্ন মিউনিখ অবশ্য ইয়ুপ হেইংকেসের অধীনে ভালোভাবেই ফিরে এসেছে। সেল্টিককে ৩-০ গোলে হারিয়ে জয়ের ধারায় ফিরেছে বায়ার্ন। 

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন