• ফুটবল

গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারল না নাপোলিও

পোস্টটি ৪৯০৭ বার পঠিত হয়েছে

চ্যাম্পিয়নস লিগের পরের পর্বে ওঠার সমীকরণটা সহজ ছিল না নাপোলির। ডাচ চ্যাম্পিয়ন ফেইনুর্দকে হারাতে হত। অন্য ম্যাচে  শাখতার দনেৎস্কের বিপক্ষে জিততে হত ম্যানচেস্টার সিটিকে। কিন্তু এর কোনোটাই হয়নি। গতকাল অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের মত কোনো ফলাফলই নিজেদের পক্ষে যায়নি নাপোলির, তাই বেজে গেছে বিদায় ঘন্টা। নিজেদের মাঠে সিটিকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে দিয়ে শাখতার উঠে গেছে পরের পর্বে। আর ফেইনুর্দের বিপক্ষে একই ব্যবধানে হেরে গেছে নাপোলি।

 

নাপোলির বিদায়ের নিলেও রাতে নিজেদের খেলায় জয় পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ, লিভারপুল, টটেনহাম হটস্পার্স। রুদ্ধশ্বাস এক ম্যাচে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে জিনেদিন জিদানের দল। আজ গোল করে চ্যাম্পিয়নস লিগে আরও একটি রেকর্ড করেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে গ্রুপপর্বের প্রত্যেক ম্যাচেই গোল একমাত্র খেলোয়াড় এখন তিনি । সেই সাথে ইউসিএল-এর গ্রুপপর্বে লিওনেল মেসির সর্বোচ্চ গোলের (৬০) রেকর্ডেও ভাগ বসিয়েছেন তিনি।  

লিভারপুলকে অবশ্য জয়ের জন্য মোটেই বেগ পেতে হয়নি। স্পার্টাক মস্কোকে অ্যানফিল্ডে ৭-০ গোলে বিধ্বস্ত করে লিভারপুল নিশ্চিত করেছে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ ষোল-র টিকেট। মারিবোরের সাথে ১-১ গোলে ড্র করেও পরের রাউন্ডে লিভারপুলের সঙ্গী হয়েছে সেভিয়া। টটেনহামের গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা নিশ্চিত হয়ে ছিল আগেই। আজ অ্যাপোয়েল নিকোসিয়াকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ পর্বটা জয় দিয়েই শেষ করেছে তারা। ২০০৬-০৭ মৌসুমের পর এবারই প্রথম গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই পরের রাউন্ডে গেল চারটি ইংলিশ ক্লাব। ২০০৩-০৪ মৌসুমের পর এবারই প্রথম এক দেশের ৫টি ক্লাব গেল চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোল-তে।


ইউরোপা লিগে নাপোলিঃ

'বাঁচা-মরার' ম্যাচে দারুণ সূচনা করেছিল নাপোলিই। ম্যাচের মাত্র ২ মিনিটেই পিওতর জিয়েলিন্সকির গোলে এগিয়ে যায় মরিজিও সারির দল। বাঁ-প্রান্ত থেকে মারেক হামসিকের ফ্রিকিক ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হয় ফেইনুর্দের রক্ষনভাগ। ডিবক্সের মধ্যে বল পেয়ে ডাচ কিপার কেনেথ ভারমিরকে পরাস্ত করতে ভুল করেননি জিয়েলিন্সকি। প্রথমার্ধে ভারমির দুর্গকে আর ফাঁকি দিতে পারেননি লরেঞ্জো ইনসিনিয়ে, দ্রিস মার্টেন্সরা। ম্যাচের ৩৩ মিনিটে খেলার ধারার কিছুটা বিপরীতে সমতায় ফেরে ডাচ চ্যাম্পিয়নরা। ডানপ্রান্ত থেকে স্টিভেন বার্গির নিখুঁত ক্রসে হেড করে নাপোলির কাজটা আরও কঠিন করে দেন নিকোলাই ইয়োর্গেনসেন। ৮৩ মিনিটে টনি ভিলেনা দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় ফেইনুর্দ। ম্যাচের ৯০ মিনিটে কর্ণার থেকে হেড করে জয়সূচক গোল করেন জেরি সেন্ট জ্যু। গ্রুপে তিন নম্বরে শেষ করায় ইউরোপা লিগেই দেখা যাবে সারির দলকে।

 

 

গ্রুপের অন্য খেলায় শাখতারের বিপক্ষে নিয়মিত একাদশের অনেককে বিশ্রামে রেখে 'নতুন' এক দল নামিয়েছিলেন পেপ  গার্দিওলা। সুযোগটা ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছে শাখতার। প্রথমার্ধের ২৬ মিনিটে বার্নার্দ এবং ৩২ মিনিটে ইস্মাইলির ২-০ গোলে এগিয়ে যায় শাখতার। ম্যাচের একেবারে ৯০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে সার্জিও আগুয়েরোর গোলে ব্যবধান কমিয়েছে সিটি, কিন্তু হার এড়াতে পারেনি। ১৭-১৮ মৌসুমে তাই প্রথম হারের অভিজ্ঞতাটা চ্যাম্পিয়নস লিগেই পেল পেপ গার্দিওলার দল। চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের শততম ম্যাচটাও তাই স্মরণীয় করে রাখা হয়নি ম্যানসিটি কোচের।


কুতিনহোর হ্যাটট্রিকে সপ্তম স্বর্গে লিভারপুলঃ

'ই' গ্রুপে স্পার্টাক মস্কোকে নিয়ে রীতিমত ছেলেখেলা করেছে লিভারপুল। ঘরের মাঠে ১৯ মিনিটেই তিন গোলে এগিয়ে দিয়েছিল ইয়ুর্গেন ক্লপের দল। এর দুটিই ছিল ফিলিপ কুতিনহোর। পরে  ৫০ মিনিটে পূরণ করেছেন নিজের হ্যাটট্রিকও। লিভারপুলের জার্সি গায়ে এটিই কুতিনহোর প্রথম হ্যাটট্রিক। জোড়া গোল করেছেন সাদিও মানে। লিভারপুলের হয়ে অন্য গোল দুটি করেছেন মোহাম্মদ সালাহ এবং রবার্তো ফিরমিনো।

 


রিয়ালের রাত, রোনালদোর রাতঃ

'এইচ' গ্রুপে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ডর্টমুন্ডকে ৩-২ গোল হারিয়েছে রিয়াল। ম্যাচের ১২ মিনিটেই বোরহা মায়োরাল এবং রোনালদোর গোলে ২-০ গোলে এগিয়ে যায় 'লস ব্লাঙ্কোস'রা। তবে ৪৩ মিনিটে ডর্টমুন্ডকে ম্যাচে ফেরান পিয়ের-এমেরিক অবামইয়াং। দ্বিতীয়ার্ধের ৪৯ মিনিটেই তার গোলেই সমতায় ফেরে ডর্টমুন্ড। কিন্তু ৮১ মিনিটে লুকাস ভাজকেজের গোলে শেষমেশ ঠিকই জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে রিয়াল। গ্রুপের অন্য খেলায় অ্যাপোয়েলকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে স্পার্স। গোল করেছেন ফার্নান্দো ইয়োরেন্তে, হিউঙ-মিন সন এবং জর্জ এন'কদু।

 


ইউরোপ থেকেই বিদায় মোনাকোর!

'ই' গ্রুপে মোনাকোকে ৫-২ গোলে হারিয়ে বেসিকতাসের পাশাপাশি শেষ ষোল-র টিকেট নিশ্চিত করেছে পোর্তো। নিজেদের মাঠে বেসিকতাসের কাছে ২-১ গোলে হেরেছে আরবি লাইপজিগ। গ্রুপে ৩য় হওয়ায় ইউরোপা লিগে খেলবে তারা। গতবার চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে খেলা মোনাকোর তাই জায়গা হয়নি ইউরোপা লিগেও।