• অ্যাশেজ ২০১৭-১৮
  • " />

     

    সংখ্যায় সংখ্যায় এবারের অ্যাশেজ

    প্রথম তিন টেস্টে হারের পর জেগেছিল ধবলধোলাইয়ের শঙ্কা। শেষ পর্যন্ত এই ‘লজ্জা’ থেকে রেহাই পেলেও ৪-০ ব্যবধানে অ্যাশেজ হেরেছে ইংল্যান্ড। ব্যাটিং, বোলিং কিংবা ফিল্ডিং; পুরো সিরিজজুড়েই ছিল অস্ট্রেলিয়ানদের আধিপত্য। অজি অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ একাই ভাগ বসিয়েছেন বেশ কিছু রেকর্ডে। 

     

     

     

    ৬৮৭ঃ

    এই অ্যাশেজে ৫ ম্যাচে ৭ ইনিংসে স্মিথের রান ৬৮৭। অ্যাশেজে অধিনায়ক হিসেবে যা তৃতীয় সর্বোচ্চ। ১৯৩৬-৩৭ মৌসুমে ৯ ইনিংসে ৮১০ রান করে সবার ওপরে আছেন স্যার ডন ব্র্যাডম্যান। ১৯৮৫ সালে ইংলিশ অধিনায়ক ডেভিড গোয়ার ৯ ইনিংসে করেছিলেন ৭৩২ রান। চতুর্থ স্থানেও আছেন  ব্র্যাডম্যান, ১৯৪৬-৪৭ সালের অ্যাশেজে ৮ ইনিংসে তাঁর রান ছিল ৬৮০।

     

    ৬৬২ঃ

    এবারের সিরিজের পার্থ টেস্টের প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া করেছিল ৯ উইকেটে ৬৬২ রান। এটাই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অ্যাশেজে কোনো দলের সর্বোচ্চ রান। ১৯৪৬-৪৭ অ্যাশেজে সিডনিতে ইংল্যান্ড করেছিল ৮ উইকেটে ৬৫৯ রান। তৃতীয় সর্বোচ্চ রানও এসেছে এবারের অ্যাশেজে। শেষ টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেটে ৬৪৯ রান করে অস্ট্রেলিয়া।

     

    ৫০০ঃ

    পরপর দুই অ্যাশেজ সিরিজেই কোনো ব্যাটসম্যানের ৫০০র বেশির রান করার ঘটনা আছে মাত্র ৮ টি। এবারের সিরিজে ৬৮৭ রান করা স্মিথ ২০১৫ অ্যাশেজেও করেছিলেন ৫০৮ রান। ডন ব্র্যাডম্যান এই কীর্তি করেছেন দুবার, ১৯৩৪ ও ১৯৩৬-৩৭ অ্যাশেজ এবং ১৯৪৬-৪৭ ও ১৪৮ অ্যাশেজে ৫০০ রানের বেশি করেছিলেন। এছাড়াও ১৯৪৬-৪৭ ও ১৯৪৮ সালের অ্যাশেজে অস্ট্রেলিয়ার আর্থার মরিস, ১৯৬২-৬৩ ও ১৯৬৪ অ্যাশেজের ইংল্যান্ডে কেন ব্যারিংটন, ১৯৬৮ ও ১৯৭০ সালের অ্যাশেজে ইংল্যান্ডে জন এডরিচ, ১৯৮৬-৮৭ ও ১৯৮৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার ডিন জোনস, ১৯৯০-৯১ ও ১৯৯৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড বুন পরপর দুই অ্যাশেজে ৫০০ রানের বেশি করেছিলেন।

     

    ১০০ঃ

    অস্ট্রেলিয়ার ৫ ভেন্যুতে সেঞ্চুরি করা দ্বিতীয় সফরকারী দলের ব্যাটসম্যান হলেন অ্যালিস্টার কুক। ব্রিসবেন, অ্যাডিলেড, পার্থ, মেলবোর্ন ও সিডনিতে সেঞ্চুরি আছে তাঁর। ব্রিসবেন ও মেলবোর্নে সফরকারী ব্যাটসম্যানদের মাঝে সর্বোচ্চ ইনিংস কুকেরই, ব্রিসবেনে ২৩৫*(২০১০) ও ২৪৪ মেলবোর্ন (২০১৭)।


     

    ২০ঃ

     

    মিচেল স্টার্ক (২২ উইকেট) , প্যাট কামিন্স(২৩), জস হ্যাজলউড(২১)  ও নাথান লায়ন(২১); চার অস্ট্রেলিয়ান বোলারই সিরিজে পেয়েছে ২০ উইকেটের বেশি। এক সিরিজে কোনো দলের চার বোলারের ২০ উইকেট পাওয়ার ঘটনা আগে ঘটেছে মাত্র ২ বার। ১৯৯৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোর্টলি অ্যামব্রোস(২১) , কোর্টনি ওয়ালস(২৬), ইয়ান বিশপ(২৭) ও কেলভিন বেনজামিন(২৩) পেয়েছিলেন ২০ উইকেটের বেশি। ২০০৬-৭ অ্যাশেজে অস্ট্রেলিয়ার গ্লেন ম্যাকগ্রা (২১ উইকেট), ব্রেট লি(২০), স্টুয়ার্ট ক্লার্ক(২৬) ও শ্যেন ওয়ার্ন(২৩) পেয়েছিলেন ২০ উইকেটেরও বেশি।

     

    ১৫ঃ

    অস্ট্রেলিয়াতে খেলা ২০ টেস্টের ১৫ টি পরাজয়ের সাক্ষী হলেন অ্যালিস্টার কুক। সফরকারী কোনো দলের মাঝে এটাই সবচেয়ে বেশি। এর আগে জ্যাক হবস ও শচীন টেন্ডুলকার অস্ট্রেলিয়ার এসে ১৪ টি হারের মুখ দেখেছিলেন।

     

    ৮ঃ

    পার্থের ওয়াকাতে এবারের টেস্টেও হেরেছে ইংল্যান্ড। এই নিয়ে পার্থে টানা ৮ ম্যাচ হারল ইংলিশরা। একই ভেন্যুতে টানা এত ম্যাচ হারার রেকর্ড আছে আর একটাই। ২০০৫ সাল থেকে ২০১৭ সালের মাঝে বুলাওয়েতে টানা ৮ টেস্ট হেরেছে জিম্বাবুয়ে।

     

    ৫ঃ

    এবারের অ্যাশেজের ৫ টি ম্যাচই গেছে শেষ দিনে। ১৯৯৪-৯৫ অ্যাশেজের পর এই প্রথম ঘটল এমন ঘটনা। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ২০১৫ সালের অ্যাশেজের ৫ ম্যাচের মোট স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ১৮ দিন, একটি ম্যাচও গড়ায়নি শেষ দিনে।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন