• " />

     

    এসকোবারকে মনে পড়ে...

    লেখাটা শুরু করছি একটা ব্যক্তিগত ঘটনার স্মৃতিচারণ দিয়ে।

     

    ১৯৯৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ চলছিল তখন। তারিখটা ৪ অথবা ৫ জুলাই। দুপুরে খাওয়ার পরে আম্মু পেপার পড়ছিলেন। আর আমার বড় ভাই খেলার পাতাটা পড়ছিলো খুব মনোযোগের সাথে। আমি পড়ি তখন ক্লাস ওয়ানে। ঘুম ঘুম লাগছে এমন সময়ে আমি দেখতে পেলাম আমার বড়ভাইয়ের চোখ বিস্ময়ে বড় বড় হয়ে যাচ্ছে। কি হয়েছে জিজ্ঞাসা করতেই উত্তর পেলাম, সেদিন কলম্বিয়ার একজন খেলোয়াড় আত্মঘাতী গোল দিলো না? ঐ খেলোয়াড়কে মেরে ফেলেছে।

     

     

    দুর্ভাগা এই খেলোয়াড়ের নাম আন্দ্রেস এসকোবার। ১৯৯৪ সালের ২ জুলাই কলম্বিয়ার মেডেলিনে যাকে গুলি করে খুন করা হয়। বিশ্বকাপে আমেরিকার বিরুদ্ধে খেলতে গিয়ে নিজের দলের গোলপোস্টেই বল ঢুকিয়ে দেন এসকোবার। বিশ্বকাপের লড়াই থেকে ছিটকে গিয়েছিল কলম্বিয়া। সেই রোষেই মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে গুলি করে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছিল ২৭ বছরের ওই খেলোয়াড়কে।

     

    যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরার পাঁচ দিন পর ২ জুলাই রাতে কিছু বন্ধু-বান্ধব নিয়ে বারে যান এসকোবার। সেখান থেকে বের হওয়ার পর বাইরের কিছু লোকের সাথে বাক-বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। তারপর এক উচ্ছৃঙ্খল ফুটবলভক্ত তাঁকে এক নাইট ক্লাবের গাড়ি পার্কিংয়ের স্থানে ৬ টা গুলি করে আর প্রত্যেকবার গুলি করার সময় একবার করে কমেন্টেটরের নকল করে বলে গো-ও- ও-ও-ও-ও-ল। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর মৃত্যুবরণ করেন এই তারকা ফুটবলার। যে গুলি করে তার নাম ছিল হামবার্তো ক্যাস্ট্রো মুনোজ। তার ক্ষোভের কারণ ছিল কলম্বিয়া ঐ ম্যাচ হেরে যাওয়ার কারনে বাজিতে সে অনেক টাকা হেরে যায়। তাকে ১৯৯৫ সালে ৪৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও ভালো ব্যবহারের কারণে ১১ বছর জেল খাটার পর মুক্তি পায়।

    বিশ্বসেরা হওয়ার সকল উপাদানই ছিল এসকোবারের মধ্যে। তাঁর জার্সি নাম্বার ছিল ২। এমনিতে তাঁর ডাকনাম “দ্য জেন্টলম্যান অব ফুটবল” হলেও আততায়ীর গুলিতে মারা যাওয়ার পরে তাঁর নাম হয়ে যায় “দ্য ইমমরটাল নাম্বার ২।” খেলেছেন কলম্বিয়ার অ্যাটলেটিকো ন্যাশনাল আর সুইস ক্লাব ইয়ং বয়েজের হয়ে। ১৯৯৪ বিশ্বকাপের পরই তাঁর যোগ দেওয়ার কথা ছিল এসি মিলানে। তার আগেই তিনি পাড়ি জমালেন অন্য জগতে।

     

    তাঁর মৃত্যুর পরে, তাঁর পরিবারের সদস্যরা প্রতিষ্ঠা করেন ‘আন্দ্রেস এসকোবার প্রজেক্ট’। যার উদ্দেশ্য সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ফুটবল শেখানো। আসলে গ্রেটরা এমনই হন। অন্য জগত থেকেও জ্বালিয়ে যান আলোর দীপশিখা।

     

    এসকোবারের মৃত্যুর পরে কলম্বিয়া ফুটবল থেকে একরকম হারিয়েই যায়। তরুণেরা আতঙ্কে হয়ে পড়েন ফুটবলবিমুখ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে হামেস রড্রিগুয়েজ, রাদামেল ফ্যালকাও এদের হাত ধরে ফুটবল আবার স্বমহিমায় ফিরেছে কলম্বিয়ায়। কলম্বিয়ার গোল্ডেন জেনারেশন বলে খ্যাত এই দলটি খেলে দারুণ, কিন্তু এখনো কোন বৈশ্বিক শিরোপা জেতা হয়ে ওঠেনি তাঁদের।

     

    কে জানে, কোন শিরোপা জিতলে হয়তো আন্দ্রেস এসকোবারকেই উৎসর্গ করবেন হামেস-ফ্যালকাওরা।

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন