• রাশিয়া বিশ্বকাপ ২০১৮
  • " />

     

    ইংল্যান্ডের জয়কে 'ডাকাতি' বললেন ম্যারাডোনা

    ইংল্যান্ডের জয়কে 'ডাকাতি' বললেন ম্যারাডোনা    

    কলম্বিয়া-ইংল্যান্ড শেষ ষোল ম্যাচের আগেই একটা ছবি পোস্ট করেছিলেন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে। ডিয়েগো ম্যারাডোনা সেই ছবি দিয়েই জানিয়ে দিয়েছিলেন, কাকে সমর্থন করছেন সেই ম্যাচে। অনুমিতভাবেই কলম্বিয়ার জার্সি পরেছিলেন আর্জেন্টাইন ফুটবল ঈশ্বর। ইংল্যান্ড তো তার পুরনো 'শত্রু'।

    কলম্বিয়ার হারটা তাই কোনোমতেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি। তার কাছে ম্যাচটা মনে হয়েছে 'ডাকাতি'। আর ডাকাতিটা হয়েছে কলম্বিয়ার বিপক্ষে, "আজ বিশাল এক ডাকাতি দেখলাম আমরা। একজন ভদ্রলোক যিনি সব সিদ্ধান্ত নিলেন। রেফারি কে, সেটা গুগল করুন। আপনি জেনে যাবেন, তিনি এরকম বড় ম্যাচ সামলানোর যোগ্যতাই রাখেন না। ঘটনাক্রমে গেইগার (ইংল্যান্ড-কলম্বিয়া ম্যাচের রেফারি) আবার একজন আমেরিকানও!"

     

     

    ৫৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকেই ম্যাচে এগিয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। ম্যারাডোনার কাছে ওই সিদ্ধান্তটাই মনে হয়েছে ভুল, "ওই পেনাল্টিটা পেনাল্টিই ছিল না। ওটা কেইনের ফাউল হওয়া উচিত ছিল।" 

    "আমি বেশি হতাশ কারণ ফিফা প্রেসিডেন্ট ইনফান্তিনোর আসার পর ফিফার সব চোর, বাজিকর পালিয়ে গিয়েছিল। আর আজকে দেখলাম বিরাট এক ডাকাতি।  কলম্বিয়ার মানুষের কাছে আমি ক্ষমা চাই। এই হারে খেলোয়াড়দের দোষ নেই, আমরা তো আর রেফারি বাছাই করি না।"        

    ভেনেজুয়েলার এক টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ম্যারাডোনা সমালোচনা করেছেন ফিফার রেফারি কমিটির প্রধান পিয়েরিলুইজি কলিনাকেও। মার্ক গেইগারকে এই ম্যাচ দেওয়াই উচিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি, "আমি আসলে কলম্বিয়ানদের জন্যই দুঃখবোধ করছি। কলম্বিয়ার গোল আমি এমনভাবে উদযাপন করেছি, মনে হয়েছে গোলটা আমিই করেছি।"

    পুরো ম্যাচে মোট ৮টি হলুদ কার্ড দেখিয়েছেন গেইগার। তার ৬ টিই কলম্বিয়াকে। কলম্বিয়ানদের অবশ্য প্রাপ্যই ছিল কার্ডগুলো। উলটো একটা লাল কার্ডও পেতে পারত পারত। কিন্তু গেইগারের বিরুদ্ধে অভিযোগটা পুরনো। এই বিশ্বকাপেও তার দিকে পক্ষপাতিত্বের তীর ছুটে গেছে। মরক্কো-পর্তুগাল ম্যাচের পর মরক্কোর নর্ডিন আম্রাবাত দাবি করেছিলেন, রেফারি গেইগার রোনালদোর কাছে তার জার্সি চেয়েছেন। পরে অবশ্য সেই মন্তব্যের জন্য আম্রাবাতকে জরিমানাও গুণতে হয়েছিল।

    ২০১৪ বিশ্বকাপে নাইজেরিয়ার কোচও গেইগারের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিলেন, ফ্রান্সের কাছে হারের পর স্টেফান কেইশি বলেছিলেন, "এই রেফারি বেইসবল সম্পর্কে অনেককিছু জানতে পারেন, কিন্তু ফুটবল সম্পর্কে তার জ্ঞানই নেই।"

    মাঠে কলম্বিয়ার খেলোয়াড়রা যেভাবে পেরেছে চেষ্টা করেছে বলে তাদের খেলার ধরনকে সমর্থন দিয়ে গেছেন ম্যারাডোনা, "তাদের প্রাণভোমরা হামেসই ছিল না দলে। ইংল্যান্ডও কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছিল না। কলম্বিয়া যেভাবে পেরেছে সেভাবেই চেষ্টা করেছে, হামেসকে ছাড়া।"

    কলম্বিয়ার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের খেলাও পছন্দ হয়নি ম্যারাডোনার, গ্যারেথ সাউথগেটের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছেন, "আমি জানিনা ইংল্যান্ড কীভাবে খেলতে চাইছিল। কোচ হিসেবে রাহিম স্টার্লিংকে বসিয়ে জেইমি ভার্ডিকে নামানো আর ড্যালে অ্যালিকে বসিয়ে এরিক ডায়ারকে নামানোর সিদ্ধান্তটা ছিল অদ্ভুত। এটা তো উলটো কলম্বিয়াকেই সাহায্য করছিল।"