• এফএ কমিউনিটি শিল্ড
  • " />

     

    নতুন মৌসুমে প্রথম শিরোপা 'পুরনো' সিটির

    ৭৯ মিনিটে যখন তাকে তুলে নিলেন পেপ গার্দিওলা, ততক্ষণে নিশ্চিত হয়ে গেছে ফলাফল। ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে উপস্থিত সিটি সমর্থকদের ‘সার্জিও! সার্জিও!’ চিৎকারে তখন কান পাতা দায়। সার্জিও আগুয়েরো হাত নেড়ে অভ্যর্থনার জবাব দিলেন মাথা নিচু করে। কিন্তু ম্যাচে তিনি যা করেছেন, তাতে তার বা ম্যানচেস্টার সিটির নয়; বরং মাথা নিচু হয়ে গেছে প্রতিপক্ষ চেলসিরই। জোড়া গোল করে ছুঁয়েছেন ‘সিটিজেন’দের হয়ে গোলের ‘ডাবল সেঞ্চুরি’র মাইলফলক। মৌসুমের প্রথম প্রতিযোগীতামূলক ম্যাচে চেলসিকে ২-০ গোলে হারিয়ে এফএ কমিউনিটি শিল্ড জিতে নিল সিটি।

    ওয়েম্বলিতে ম্যাচটি যে ঠিক কতটা একপেশে ছিল- স্কোরবোর্ড দেখে অবশ্য বোঝার অবকাশ নেই। পুরোটা ম্যাচই চেলসিকে রীতিমত নাচিয়ে ছড়েছে গার্দিওলার দল। ৩-৪-৩ ফর্মেশনে দারুণ আক্রমণাত্মক এক দল সাজিয়েছিলেন গার্দিওলা। রাইট উইংব্যাক হিসেবে খেলিয়েছেন সিটির রেকর্ড সাইনিং রিয়াদ মাহরেজ। আর রক্ষণে ৪-৩-৩ এর বিপক্ষে একেবারেই সুবিধা করতে পারেননি মরিসিও সারির দল। চেলসিকে দমিয়ে রেখে লিড নিতে মাত্র ১০ মিনিট লেগেছে সিটির। চেলসির দুই মিডফিল্ডারকে কাটিয়ে ডিবক্সের সামনে এসে আগুয়েরোকে পাস দেন ফিল ফোডেন। তরুণ উইঙ্গার পাস নিয়ন্ত্রণে আনা আগুয়েরোকে প্রেসই করেনি চেলসির ডিফেন্ডাররা। সুযোগটাও লুফে নিয়েছেন তিনি। বাঁ-পায়ের জোরাল শটে উইলি কাবায়েরোকে পরাস্ত করেন আগুয়েরো। প্রথমেই গোল খেয়ে খেই হারিয়ে ফেলা চেলসি নিজেদের কিছুটা গুছিয়ে নিলেও স্টোনস-ওয়াকারদের সাথে পেরে উঠছিল না একেবারেই। গোলের পর কিছুটা প্রতি-আক্রমণ নির্ভর ট্যাকটিক্সে খেলতে থাকে সিটি। প্রথমার্ধে এ কারণেই ৪৭ ভাগ বল পজেশন ছিল তাদের। কিন্তু গোলের উল্লেখযোগ্য সুযোগগুলো পেয়েছে গার্দিওলার দলই। বের্নার্দো সিলভাকে ‘ফ্রি রোল’-এ খেলানোর ‘জুয়া’টা কাজে দিয়েছে সিটির। প্রতি-আক্রমণে তার মুভমেন্ট, ড্রিবলিংয়ের সামনে রীতিমত অসহায় হয়ে পড়েছিল জর্জিনহো-বার্কলিরা। ২১ মিনিটে তার পাস লিরয় সানে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে হয়ত তখনই ব্যবধান দ্বিগুণ করতে পারত সিটি।

    শুধু সানে নন, প্রথমার্ধে সিলভার পাসে গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেছেন মাহরেজও। ২৮ মিনিটে সিলভার পাস নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে গোলরক্ষককে একা পেয়ে যেতেন আলজেরিয়ান ফরোয়ার্ড। প্রথমার্ধে সিটিকে আটকাতেই ব্যস্ত থাকা চেলসির একমাত্র সুযোগ এসেছিল তরুণ উইঙ্গার ক্যালাম হাডসন-ওদয়ের পা থেকে। কিন্তু তার শট ঠিকই ফিরিয়ে দিয়েছেন সিটির গোলরক্ষক ক্লদিও ব্রাভো। ক্লিনশীট রেখে ম্যাচ শেষ করলেও এডারসনের বদলি হিসেবে তাকে নামানোর সিদ্ধান্তের সুবিচার করতে পারেননি তিনি। প্রথমার্ধের শেষদিকে মার্কোস আলোন্সোর পাস নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি, তবে ওয়াকার ক্লিয়ার করায় সে যাত্রায় বেঁচে যান চিলিয়ান গোলরক্ষক।

    প্রথমার্ধের মত দ্বিতীয়ার্ধেও বজায় ছিল সিটির আধিপত্য। ৪৯ মিনিটে আবারও সেই ফোডেন-আগুয়েরো জুটির বোঝাপড়ায় লিড দ্বিগুণের দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছিল সিটি। কিন্তু কাবায়েরোকে একা পেয়েও বল জালে পাঠাতে পারেননি আগুয়েরো। তবে এজন্য অবশ্য বেশিক্ষণ পুড়তে হয়নি সিটিকে। ৫৮ মিনিটে সিলভার পাস থেকে ঠিকই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আগুয়েরো। ম্যাচে ফেরার লড়াকু মনোভাব যতটুকুই বাকি ছিল চেলসির, দ্বিতীয় গোলের পর মিলিয়ে যায় তা-ও। গোলের চেয়ে মাঝমাঠে পাসিংয়েই বেশি মনোযোগী ছিলেন জর্জিনহোরা। এজন্য ওয়েম্বলিতে উপস্থিত ‘ব্লুজ’ সমর্থকদের থেকে দুয়োও শুনতে হয় তাদের।

    গোলের আশায় উইলিয়ান-আব্রাহামকেও নামিয়ে দেন সারি। তবে শেষরক্ষা আর হয়নি। প্রথমার্ধের মতই গোলের পর প্রতি-আক্রমণে খেলতে থাকে সিটি। চেলসির পায়ে বল, কিন্তু সিটির ইস্পাতদৃঢ় রক্ষণের সামনে পাত্তাই পায়নি তারা। সিলভা-ফোডেন-মাহরেজে নাকানিচুবানিই খেতে হচ্ছিল ডেভিড লুইজদের। কিন্তু এবারও ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় ব্যবধান বাড়ানো হয়নি সিটির। আগুয়েরো-মাহরেজদের মতই মিসের মহড়ায় শামিল হন বদলি দুই ফরোয়ার্ড ব্রাহিম দিয়াজ এবং গ্যাব্রিয়েল হেসুস। অবশ্য কাবায়েরোর কৃতিত্বও কম নয়। ভুলে যাওয়ার মত এক বিশ্বকাপের পর আজ দুর্দান্ত কিছু সেভ করে সারিকে যেন জানিয়ে রাখলেন, কর্তোয়া রিয়াল মাদ্রিদে পাড়ি জমালেও গোলরক্ষক নিয়ে হয়ত খুব একটা ভাবতে হবে না তাকে।

    গোলরক্ষক নিয়ে না ভাবলেও ফরোয়ার্ডদের নিয়ে অবশ্যই ভাবতে হচ্ছে সারিকে। প্রাক-মৌসুমের মত প্রতিযোগীতামূলক ম্যাচেও গোলের সামনে বেশ নিষ্প্রভই ছিলেন মোরাতারা। কমিউনিটি শিল্ডের ম্যাচ দেখেই হয়ত খুব একটা মাথা ঘামাচ্ছেন না ইতালিয়ান কোচ। তবে হ্যাজার্ড-উইলিয়ানরা ফিরলে আক্রমণের ধার বাড়বে- এই প্রত্যাশাই সারি এবং চেলসি সমর্থকদের। ২০১৩-এর পর এবারই প্রথম লিগ জেতা কোনো দল কমিউনিটি শিল্ডের শিরোপা ঘরে তুললো।