• অস্ট্রেলিয়ার আরব আমিরাত সফর
  • " />

     

    ইমাদ-ফাহিমদের তোপে ৮৯ রানেই গুটিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া

    ইমাদ-ফাহিমদের তোপে ৮৯ রানেই গুটিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া    

    প্রথম টি-টোয়েন্টি, আবুধাবি 
    পাকিস্তান ১৫৫/৮, ২০ ওভার (বাবর ৬৮*, হাফিজ ৩৯, স্ট্যানলেক ৩/২১, টায় ৩/২৪)
    অস্ট্রেলিয়া ৮৯ অল-আউট, ১৬.৫ ওভার (কোল্টার-নাইল ৩৪, অ্যাগার ১৯, ইমাদ ৩/২০, ফাহিম ২/১০) 
    পাকিস্তান ৬৬ রানে জয়ী


    পাকিস্তান বোলিং ভাল করলো। তারা টি-টোয়েন্টি র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষ দল, ভাল বোলিং করবেই। তবে তিন নম্বর দল হয়ে অস্ট্রেলিয়া যে ব্যাটিংটা করলো, তাতে আপনার মনে হতেই পারে, অস্ট্রেলিয়া বোধহয় ব্যাটিং-ট্যাটিং ভুলেই গেছে। আরব আমিরাতের পিচ অস্ট্রেলিয়ার জন্য হয়ে উঠলো উত্তপ্ত মরুর বুক, পিপাসায় কাতর হয়ে একেকজন ব্যাটসম্যান যেন ভুলেই গেলেন কখন শট খেলতে হয়! নিজেদের সর্বনিম্ন ৭৯ রান পেরিয়ে অস্ট্রেলিয়া যে ৮৯ রান করলো, সেটাই যেন অবাক করার মতো বিষয়। ২২ রানে ৬ উইকেট তারা যে গতিতে হারিয়েছে, সর্বনিম্ন রানের বিশ্ব রেকর্ডটাই একসময় চোখ রাঙাচ্ছিল অস্ট্রেলিয়াকে। 

    ১৫৬ রানের লক্ষ্য, প্রথম ওভারেই নেই অস্ট্রেলিয়ার ২ উইকেট। এক বছর পর ফিরে আসা ইমাদ ওয়াসিমের বলে বোল্ড অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ ও ডারসি শর্ট। ফিঞ্চ জায়গা বানিয়ে তেঁড়েফুঁড়ে খেলতে গিয়ে পরিষ্কার বোল্ড, আর স্টাম্পে বল ডেকে আনলেন শর্ট। ইমাদ দেখালেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর উদযাপন। 

    এরপর এলেন ফাহিম আশরাফ, এবার বোল্ড গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। তিনিও লাইন ছেড়ে সরে গিয়ে বড় শট খেলতে চেয়েছিলেন। বেন ম্যাকডারমট শিকার ফাখার জামানের দারুণ ফিল্ডিংয়ের, মিড-অফ থেকে ছুটে এসে তিনি তাক করেছেন একস্টাম্প। ১৬ রান অস্ট্রেলিয়ার, নেই ৪ উইকেট। 

    অ্যালেক্স ক্যারি ইমাদের বেরিয়ে যাওয়া বলে আউট সাইড-এজড, ক্রিস লিন ফাহিমের বলে হারালেন অফস্টাম্প। অস্ট্রেলিয়ার রান ২২, নেই ৬ উইকেট, পাওয়ারপ্লে শেষ হয়নি তখনও। এর আগে পাওয়ারপ্লেতে পাকিস্তান এতো উইকেট নেয়নি কখনোই। এ সময় হয়তো আপনি রেকর্ড দেখছেন। দেখে জানতে পারছেন, টি-টোয়েন্টিতে সর্বনিম্ন রানে অল-আউট হওয়ার রেকর্ড নেদারল্যান্ডসের, ৩৯। 

    তবে সেসব শঙ্কা দূর করলেন ন্যাথান কোল্টার-নাইল ও অ্যাশটন অ্যাগার। কোল্টার-নাইল দেখালেন, কিভাবে ব্যাটিং করা উচিৎ ছিল তাদের ব্যাটসম্যানদের। বলকে ব্যাটে আসার সময় দেওয়া উচিৎ ছিল তাদের, আগেভাগেই অতি-আক্রমণাত্মক হওয়ার দরকার ছিল না তাদের। 

    অ্যাগারকে ফেরালেন হাসান আলি, অফকাটারে সরফরাজের হাতে ক্যাচ বানিয়ে। এরপর শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে অ্যাডাম জ্যমাপার সহজ ক্যাচটা লং-অনে কঠিন করে ধরলেন হাসান। অ্যান্ড্রিউ টায় বোল্ড আফ্রিদির বলে, তার উড়লো অফস্টাম্প। 

    বাকি ছিলেন শুধু কোল্টার-নাইল, শাদাবকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে উড়ে গেল তার ব্যাট, আর ভাঙল স্টাম্প। আবুধাবিতে অস্ট্রেলিয়া হারলো ৬৬ রানে। নিজেদের তৃতীয় সর্বনিম্ন স্কোর এটি অস্ট্রেলিয়ার। আর পাকিস্তান রেকর্ড ২৯ বার টি-টোয়েন্টিতে অল-আউট করলো প্রতিপক্ষকে। 

    এর আগে পাকিস্তান ইনিংসেও নেমেছিল ধস, তবে সেটা ইনিংসের শেষভাগে। ৩২ রানে ফাখার জামানকে হারানোর পর দ্বিতীয় উইকেটে মোহাম্মদ হাফিজ ও বাবর আজম যোগ করেছেন ৭৩ রান। ৩৯ রান করে হাফিজ ক্যাচ দিয়েছেন শর্টের বলে, খানিক বাদে আসিফ আলি এলবিডব্লিউ জাম্পার বলে। ১৩০ থেকে ১৩৩- এই ৩ রানের ব্যবধানে পাকিস্তান হারিয়েছে ৫ উইকেট, বেন স্ট্যানলেক ও টায়-এর বলে। 

    হাসান আলির ৮ বলে ১৭ রানে এরপর ১৫০ পেরিয়েছে পাকিস্তান। আর একদিকে শুরু থেকে টিকে ছিলেন বাবর, ৫৫ বলে ৬৮ রানে তিনি ছিলেন অপরাজিত। টি-টোয়েন্টি টানা তৃতীয় ফিফটি এটি তার। 

    শেষ পর্যন্ত যথেষ্টর চেয়ে বেশি হলো সেটাই। আর পাকিস্তান বসালো বিস্কুটে প্রথম কামড়।


     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন