• বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ ২০১৫
  • " />
    X
    GO11IPL2020

     

    বাংলাদেশ বলেই অস্ট্রেলিয়ার "না"?

    নিরাপত্তা ঝুঁকিতে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর বাতিল হয়ে গেছে সপ্তাহখানেক আগেই। আন্তর্জাতিক প্রভাব কিংবা ক্রিকেটীয় প্রতিপত্তি - যে বিচারেই হোক না কেন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ওই ‘একতরফা’ সিদ্ধান্ত অসহায়ভাবেই মেনে নিয়েছে বিসিবি। তবে এমন প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াচ্ছেন অনেকেই। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান শাহরিয়ার খান, সে দেশের অন্যতম বড় তারকা ক্রিকেটার শহীদ আফ্রিদি স্পষ্ট করেই বলেছেন ‘ছোটখাটো’ ইস্যুতে এভাবে সফর বাতিল করে দেয়ার কোন যৌক্তিকতা নেই।


    আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াচ্ছেন আফ্রিদি


     

    এ যাত্রায় বাংলাদেশের পক্ষ নিয়ে নিজ দেশের ক্রিকেট বোর্ডের এমন ‘হঠকারী’ সিদ্ধান্তের সমালোচনায় মুখর হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক ইয়ান চ্যাপেল। ক্রিকইনফোর সাথে নিয়মিত এক সাক্ষাৎকারে সাবেক অজি তারকা উল্টো প্রশ্ন রেখেছেন, একই ঘটনা ভারতের সাথে ঘটানোর সাহস তাঁর দেশের হতো কিনা।

     

     

    উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইসিসিকে নিরাপত্তা বিষয়ক একটি কমিটি গঠনের তাগিদ দিয়েছেন চ্যাপেল, “আইসিসির উচিৎ যেসব ক্রিকেট বোর্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে অতীত ঘটনা আছে তাঁদেরকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা। ওই কমিটি সব বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছ থেকে তথ্য নিয়ে একটি সিদ্ধান্তে আসবে। একটি বিশেষ বোর্ডের হাতে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভার থাকতে পারে না। কেননা বিভিন্ন পরিস্থিতি একাধিক বোর্ড একাধিক দৃষ্টিতে দেখে থাকে।”

     

    মি. চ্যাপেল মানছেন সরকারের তরফে দেয়া পরামর্শ উপেক্ষা করা কঠিন। তবে তিনি পাল্টা প্রশ্ন রেখেছেন যে বাংলাদেশকে যতটা সহজে ‘না’ বলে দিল তাঁর দেশ ততো সহজে ভারতকে ‘না’ করে পার পাওয়া যেত কিনা, “আমার প্রশ্ন হচ্ছে যদি একই পরিস্থিতি ভারত সফরের ক্ষেত্রে তৈরি হত তাহলে কী হত? ভাবতে অবাক লাগছে যে তখন বিষয়টা একটু হলেও অন্যরকম হত। কারণ ভারত সফরে না যেতে কেউ চায় না। যখন একটা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভার একটা বোর্ডের হাতে ছেড়ে দেয়া হয় তখন -আমরা চাই বা না চাই- বাংলাদেশকে ‘না’ বলে দেয়াটা খুব সহজ। কিন্তু ভারত সফরের ক্ষেত্রে ‘না’ বলাটা এতো সহজ নয়। এখানে এতো সহজে পার পাওয়া যাবে না। আইপিএলের কথাই ধরুন না। যদি ওখানে খেলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভার খেলোয়াড়দের উপর ছেড়ে দেয়া হত তা হলে কিরকম সিদ্ধান্ত আসতো সেটা একটা দেখার বিষয়।”

     

     

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের তরফে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলকে ‘অভূতপূর্ব’ নিরাপত্তা প্রদানের আশ্বাস দেয়া হয়েছিল। সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন অপ্রীতিকর ঘটনাকে বর্তমান যুগের দুর্ভাগ্যজনক বাস্তবতা আখ্যা দিয়ে বলেছিলেন এসব ঘটনা পৃথিবীর যে কোন স্থানেই ঘটতে পারে। তাই বলে সন্ত্রাসের কাছে ক্রিকেট হেরে যেতে পারে না। বিসিবি প্রধানের ওই বক্তব্য সমর্থন করছেন ইয়ান চ্যাপেলও, “খুবই সত্য কথা। সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রেলিয়াতেও আমরা কিছু সন্ত্রাসবাদী ঘটনা দেখেছি। দুনিয়া এখন এসব সাথে নিয়েই চলছে।”

     

    ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এমন আচরণ যে নতুন নয় সেটা বোঝাতেই যেন পুরনো উদাহরণ টানলেন অজি কিংবদন্তী, “১৯৯৬ বিশ্বকাপেও অস্ট্রেলিয়া দল শ্রীলংকা যেতে অপারগতা প্রকাশ করেছিল। তখন তাঁদেরকে রাষ্ট্রপ্রধানের মানের নিরাপত্তা প্রদানের নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছিল। এমনকি সকালে গিয়ে খেলে বিকালে চলে আসার প্রস্তাবও ছিল। তারপরও তাঁরা খেলতে যায় নি।”

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন