• " />

     

    জিরুর 'হ্যান্ড অব গড'

    পায়ের খেলায় হাতের ব্যবহারে ‘হ্যান্ড অব গড’ বা ‘ইশ্বরের হাত’ শব্দযুগল প্রথমবারের মতো জনপ্রিয় করেছিলেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তী দিয়েগো ম্যারাডোনা। আলবিসেলস্তেদের ‘৮৬ বিশ্বকাপ জয়ের পথে ম্যারাডোনার ‘হাত দিয়ে করা’ গোলটা ইতিহাসের পাতায় মোটা দাগে স্মরণীয় আছে নন্দিত এবং নিন্দিত দু’ভাবেই। পরবর্তীতে ম্যাচ পরিচালনাকারীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে অমন ‘ঐশ্বরিক’ সহযোগিতা নিয়েছেন অনেকেই। কেউ সগর্বে স্বীকার করেছেন, কেউবা বেমালুম চেপে গেছেন। আর্সেনাল স্ট্রাইকার অলিভার জিরু অবশ্য নাম লিখিয়েছেন প্রথম দলেই। গতকাল চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে তাঁর গোলটিতে ‘সৌভাগ্যের হাত’ ছিল বলে নিজে থেকেই দাবী করেছেন গানারদের এই ফ্রেঞ্চ ফরোয়ার্ড।

     

    ২৯ বছর বয়সী জিরু গত রাতে ঘরের মাঠের ম্যাচে ৭৭ মিনিটের মাথায় ব্যবধান গড়ে দেন। ডিবক্সের বাইরে থেকে সান্তি কাজোরলার ফ্রি কিক জটলার মধ্যে শুয়ে পড়ে বায়ার্ন গোলরক্ষক ন্যয়ারকে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়ান জিরু। পরবর্তীতে মেসুত ওজিলের গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে আর্সেনাল।

     

     

    আপাতদৃষ্টে জিরু মাথার ব্যবহারেই গোলটা করেছেন বলে মনে হলেও আদতে সেটা মাথা ছুঁয়ে তাঁর হাত স্পর্শ করে জালে জড়ায়। ব্যাপারটাকে ভাগ্যের সহায়তা হিসেবেই দেখছেন এই স্ট্রাইকার, “গত ক’দিনের দুরবস্থা বিবেচনায় এটাকে সৌভাগ্যই বলবো। আর আমি সেটার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহারই করেছি। স্ট্রাইকারদের জন্য ভাগ্যটা চক্রের মতোই। সুতরাং বাজে সময়ে নিজেকে নিয়ে সংশয়ে ভোগার কোন প্রয়োজন নেই।”

     

    ভাগ্যের ব্যবহার সবিস্তারেই বর্ণনা করছেন তিনি, “গুণমান সবই তো আছে- কেবল একটু ভাগ্যের সহযোগিতা দরকার ছিল। আজ রাতে সেটা ভালোভাবেই পেয়ে গেছি। আমার সবচেয়ে সেরা গোল বলবো না, তবে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তো বটেই।”

     

     

    থিও ওয়ালকটের কারণে প্রথম একাদশে নিয়মিত হতে পারছেন না জিরু। তবে তাঁর জন্য প্রশংসা করতে কুণ্ঠা নেই আর্সেনাল ম্যানেজার আর্সেন ওয়েঙ্গারের, “কিছু কৃতিত্ব তাঁকে দিন, ওর জন্য কাজটা খুব সহজ ছিল না। ফর্মে তাঁর কিছুটা ঘাটতি আছে, তবে সে নিজের সেরাটাতেই ফিরে আসছে। মনোযোগ আর উদ্যমের জায়গাটুকুতে সে নিঃসন্দেহে বিজয়ী। যখন মাটিতে কাজ হচ্ছে না, জিরু তখন বাতাসে ঠিকই বিকল্প বের করে নিচ্ছে।”

     

    ওয়ালকট আর জিরু দু’জনকেই সমান পছন্দ করেন দাবী করে ওয়েঙ্গার বলছেন সঠিক সময়ে সঠিকজনকে ব্যবহার করাটাই এখন তাঁর জন্য চ্যালেঞ্জ।

     

    এই ফলাফলের পরও অবশ্য গ্রুপ-এফে তলানিতেই থাকছে গানাররা। তবে এই জয়ের পর ডিনামো জাগ্রেবের সাথে সমান তিন পয়েন্ট আর্সেনালের। ছয় করে পয়েন্ট বায়ার্ন মিউনিখ ও অলিম্পিয়াকোসের।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন