• ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯
  • " />

     

    ফিটনেসই তাহলে দুর্বার সাকিবের রহস্য!

    ফিটনেসই তাহলে দুর্বার সাকিবের রহস্য!    

    সাকিব আল হাসানের জন্য একটা জিনিস বেশ একঘেয়ে হয়ে যাচ্ছে। এই বিশ্বকাপে তিন বার হয়েছেন ম্যাচসেরা, সংবাদ সম্মেলনে কথাও বলতে হলো তিন বার। এমন দুর্দান্ত সাকিবের রহস্য কী, নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন কি না এমন প্রশ্নও ঘুরেফিরে বার বার আসছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে যেমন দারুণ কিছু কথা বলেছিলেন। আফগানিস্তানের সঙ্গে জয়ের পর সেরকম ‘বাইট’ পাওয়া গেল না, এক কথা আর কতই বা যায়! তবে আগের ম্যাচেই একটু করে যা বলেছিলেন, আজ সেটা আরেকটু বিস্তারিত বললেন। ফিটনেস নিয়ে কাজ করাটাই নিজের এই অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের জন্য আলাদা করে উল্লেখ করলেন।


    আরও পড়ুন 

    টুইটার যখন সাকিবময়

    সাকিবের রেকর্ড, রেকর্ডের সাকিব

    সাউদাম্পটনে সাকিব-অতলান্তে ডুবে গেল আফগানিস্তান


    এই বিশ্বকাপের আগেই সাকিবকে দেখে চমকে দিয়েছিলেন অনেকে। ওজন কমিয়ে একেবারে ঝরঝরে হয়ে গেছেন, যেন বয়স কমে গেছে অন্তত বছর সাতেক। আইপিএলে যে সময়টা খেলতে পারেননি, বাইরে বসে থাকতে হয়েছিল, ওই সময় কাজ করেছিলেন ফিটনেস নিয়ে। নিজের এমন বদলে যাওয়ার পেছনে সেই ফিটনেসের কথাও বললেন আলাদা করে, ‘আমি যেটা বললাম, আমার ওই ফিটনেসের যে কাজটা করেছি এক দেড় মাস সেটা আমাকে অনেক হেল্প করেছে। যে কোনো কঠিন পরস্থিতিতে ফিজিক্যাল ফিটনেসটা দরকার হয়, তাহলে সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হয়। যেটা আমি নিতে পারছি ওই ফিটনেসের জন্য। এছাড়া আমার কাছে মনে হয় খুব বেশি কিছু নেই, কারণ খুব বেশি কিছু চেঞ্জও করিনি।’

    মানসিকভাবে নিজেকে বদলানোর কথা বলেছিলেন আগেই। অনেক কিছু না পাওয়ার আক্ষেপের আগুনে পুড়ে যে আরও খাঁটি হয়েছেন, সেটাও বলেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয়ের পর। আজ আর ওদিকে গেলেন না সাকিব, বরং বললেন শারীরিকভাবে এতো পরিশ্রম তাকে মানসিকভাবে আরও বেশি সাহায্য করছে। আজ অবশ্য প্রশ্ন হলো আরও অনেক কিছু নিয়ে। নিজের এতো এতো সব রেকর্ড মনে করিয়ে দেওয়া হলে সাকিব বললেন, এসবই আগে থেকে জানতেন। এমনিতে পরিসংখ্যান নিয়ে খুব একটা মাথাব্যথা না থাকলেও বিশ্বকাপের মতো আসরে এত দুর্দান্ত সব অর্জন সাকিবকে কেউ না কেউ মনে করিয়ে দিচ্ছেই।

    তবে রেকর্ড তো রেকর্ডই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এতই যে তুমুল স্তুতি, প্রশংসার বন্যা- এসবের আঁচ কতটা গায়ে লাগছে? সাকিব তখন সাকিবীয় ভঙ্গিতেই বললেন, এসব কিছু তিনি জানেনই না! নিজেকে কিংবদন্তির পর্যায়ে দেখেন কি না এমন প্রশ্নেও বললেন, ‘সেটা আপনারাই ভালো বলতে পারবেন!’ এত এত অর্জনের পরও সাকিব একদম নিস্পৃহই!  

    সাকিবের সামনে চ্যালেঞ্জ বাকি আছে আরও। সম্ভবত পরেরটাই সবচেয়ে কঠিন। ভারত এখনো হারেনি বিশ্বকাপে, আর বাংলাদেশের আশা বাঁচিয়ে রাখতে হলে তাদের সঙ্গে জয় ছাড়া উপায় নেই। সাকিব অবশ্য নিজেদের সম্ভাবনা বাদ দিচ্ছেন না, ‘গাণিতিকভাবে এখনো আমাদের আশা আছে। সেজন্য আমাদের তিনটি ম্যাচই জিততে হবে। আর কে না জানে ক্রিকেটে যে কোনো কিছুই সম্ভব হতে পারে।’

    আপাতত সেই স্বপ্নেই সাকিবের সঙ্গে বিভোর হচ্ছে বাংলাদেশ।