• ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯
  • " />

     

    • ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯

    'ক্রিকেটে এমন কিছু হতে পারে কল্পনাতেও ভাবিনি'

    এমন নাটক বিশ্বকাপের কোনো ফাইনালই দেখেনি। সুপার ওভারের রোমাঞ্চে হোম অফ ক্রিকেটে শিরোপার অপেক্ষা ঘুচল ক্রিকেটের জনক ইংল্যান্ডের। গাপটিল যখন সুপার ওভারের শেষ বলে রান আউট হলেন, লর্ডসের তো কান পাতা দায়। অবিশ্বাস্য এক ফাইনালের পর ইংলিশ ক্রিকেটারদের বাঁধভাঙ্গা উল্লাসই দেখল ক্রিকেট বিশ্বকাপ। ফাইনালের নায়ক বেন স্টোকস বলছেন, চার বছরের কষ্টের ফল পেয়েছেন তারা। জস বাটলার তো বলেই দিলেন, ক্রিকেটে এমন কিছু হতে পারে, সেটা তিনি কল্পনাতেও ভাবেননি। বিশ্বকাপ জয়ের পর ইংলিশ ক্রিকেটারদের অনেকেই জানিয়েছেন নিজের এমন অনুভূতি। 

    বেন স্টোকসঃ 

    আমি আসলে ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। চার বছরের সব পরিশ্রমের পর বিশ্বকাপ জিতেছি, অনুভূতিটা অবিশ্বাস্য। এটার জন্যই আমাদের সব লড়াই ছিল। দারুণ একটা ম্যাচের পর শিরোপা জিতেছি, এর চেয়ে ভালো ফাইনাল আর হতে পারে না।  নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলাটা দুর্দান্ত ব্যাপার ছিল, তারা দারুণ মনের মানুষ। আমি তো ওই চারটার জন্য (যেটা স্টোকসের ব্যাটে লেগে বাড়তি চার রান হয়েছিল) আজীবন তাদের কাছে ক্ষমা চাইবো। শেষ পর্যন্ত আমার টিকে থাকার কথা কল্পনাই করিনি। এরকম মুহূর্তের জন্যই আপনি বেঁচে থাকেন। সুপার ওভার করার আগে আমি আর্চারের কাছে গিয়ে বলেছিলাম, যাই হোক না কেনো, এটা তোমার ক্যারিয়ারের সবকিছু না। কারণ আমিও ২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি ফাইনালে কঠিন সময় পার করেছি। দলের সবাইকে ছাড়াও পরিবারের সদস্যদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। বরাবরই তাদের সমর্থনটা অবিশ্বাস্য ছিল।’ 

    জস বাটলারঃ 

    এটা রীতিমত অবিশ্বাস্য! আমার তো মনে হতো ক্রিকেটের সবকিছুই দেখে ফেলেছি। ম্যাচটা পাগলাটে ছিল। এই মুহূর্তে আসলে কিছু বলার মতো অবস্থায় নেই। কী দারুণ একটা দিন গেলো। আমরা জানতাম শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা নিয়ে গেলে রান রেট খুব বেশি ইস্যু হবে না। আমরা শুধু একটা ভালো জুটি গড়তে চেয়েছিলাম যেটা নিউজিল্যান্ডকে চাপে ফেলবে।

    জনি বেইরস্টোঃ

    আমি আজ খুব বেশি আনন্দিত। নিউজিল্যান্ডের জন্য খুব খারাপ লাগছে। দুর্দান্ত একটা ফাইনাল ছিল। টুর্নামেন্টটাই দুর্দান্ত ছিল। সুপার ওভারে সবাই যেভাবে খেলেছে, এক কথায় অবিশ্বাস্য, বিশেষ করে স্টোকস। নিউজিল্যান্ড ভালো বোলিং করে চাপে রেখেছিল আমাদের। স্টোকস-বাটলার জুটিটাই দিনশেষে আমাদের ফাইনাল জিতিয়েছে। লর্ডসের এমন আবহটা সবার জন্য বিশেষ কিছু। লর্ডসে অন্য যেকোনো একটা ম্যাচ খেলা আর বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা, দুটার মাঝে অনেক তফাত। এমন মুহূর্তে পরিবার, বন্ধু, সমর্থকদের সাথে পেয়ে আনন্দটা আরও বেড়ে গেছে।

    জো রুটঃ

    এমন মুহূর্ত ব্যাখ্যা করা কঠিন। সবার যা যা করার দরকার ছিল সেটাই করেছে। গ্রুপ পর্বে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছিলাম আমরা। চাপে থেকেও ভালো পারফর্ম করেছি। স্টোকস ও তার পরিবার অনেক কঠিন সময়ের মাঝে দিয়ে গেছে। তাকে বিশ্বকাপ জিততে দেখে আমি সবচেয়ে বেশি খুশি। 

    লিয়াম প্লাংকেটঃ

    কী দারুণ এক সমাপ্তি ছিল! নিউজিল্যান্ডের সবাইকে অভিনন্দন জানাতে চাই, তারা দারুণ খেলেছে। আমরা সপ্তম স্বর্গে পৌঁছে গেছি! আমি শুরু থেকেই অনুভব করতে পারছিলাম, দিনশেষে জয়টা আমাদেরই হবে। 

    জফরা আর্চারঃ 

    আমি নিশ্চিত ছিলাম সুপার ওভারটা আমাকেই করতে হবে। এখনো আমার বুক ধড়ফড় করছে! এটাই সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট। এর চেয়ে বড় কিছু জীবনে আর জেতা হয়নি। এমন ম্যাচে হারলে খুব কষ্ট পেতাম। বোলিংয়ের আগে স্টোকস আমাকে শান্ত করে অনেক কিছু বুঝিয়েছে। আমরা একটা পরিবারের মতোই।