• বাংলাদেশের শ্রীলংকা সফর
  • " />

     

    নেট সেশন : বাংলাদেশের 'সান্ত্বনা পুরষ্কার'-এর ম্যাচ

    ৩য় ওয়ানডে
    শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশ

    কবে, কখন
    ৩১ জুলাই, ২০১৯
    বাংলাদেশ সময় ১৫০০ (বিকাল ৩.০০)


    বিশ্বকাপের পর এ সিরিজ হতে পারত নতুন করে শুরুর, আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার। এক ম্যাচ বাকি রাখতেই সিরিজ হেরে সেরকম কিছুর দেখা পায়নি বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও মোটামুটি উড়ে গেছে তারা, শেষ ম্যাচটা তাই ডেড-রাবার, বাংলাদেশের সান্ত্বনা পুরষ্কার পাওয়ার সুযোগ। ২০১৭ সালে টানা চার ম্যাচ হারের পর সেই খরাটা আবার ফিরে এসেছে বাংলাদেশের সামনে। 

    দুই ম্যাচ মিলিয়ে যা কিছু প্রাপ্তি, তা মুশফিকুর রহিমের ব্যাটিংয়েই। টপ অর্ডারের অবস্থা নড়বড়ে, প্রথম দুই ম্যাচে বাংলাদেশ প্রথম ৩ উইকেট হারিয়েছে যথাক্রমে ৩০ ও ৫২ রানে। দুই ম্যাচে বড় জুটি দুটি, দুটিরই অংশ ছিলেন মুশফিক। শ্রীলঙ্কার চ্যালেঞ্জ টপকে যাওয়া বা শ্রীলঙ্কাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো স্কোরও তাই পায়নি বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচের উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য খুব সহজ ছিল না, তবে বোলিং-ফিল্ডিংয়ে শ্রীলঙ্কাকে চাপে ফেলেও সেটা ধরে রাখা হয়নি। 

    বোলিংয়ে মোস্তাফিজুর রহমান দুই ম্যাচেই নিয়েছেন দুটি করে উইকেট, তবে ছিলেন খরুচে। দ্বিতীয় ম্যাচে তাইজুল ইসলাম আঁটসাঁট বোলিং করলেও অন্যপ্রান্ত থেকে সে চাপ ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। ব্যাটিং-বোলিংয়ের মতো অথবা এর চেয়ে বেশি বাজে অবস্থা ফিল্ডিংয়ে, বিশ্বকাপ থেকে বাজে ফিল্ডিংয়ের ভূত পিছু ছাড়েনি বাংলাদেশকে। 

    শ্রীলঙ্কার অবস্থা সেক্ষেত্রে বিপরীতই বলা যায়। প্রথম ম্যাচ দিয়ে অবসরে যাওয়া লাসিথ মালিঙ্গার অভাবটা ঠিক পরের ম্যাচে টের পায়নি শ্রীলঙ্কা, ইসুরু উদানা ও নুয়ান প্রদিপ সেটা আপাতত পুষিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিতই দিয়েছেন। দুই ম্যাচে ব্যাটিংয়ে জ্বলে উঠেছেন আলাদা দুজন- কুসাল পেরেরা ও আভিশকা ফার্নান্ডো। দ্বিতীয় ম্যাচে কম রানের ব্যবধানে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া শ্রীলঙ্কাকে এগিয়ে নিয়েছিলেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস ও কুসাল মেন্ডিস। 

    পার্থক্য আছে অধিনায়কের পারফরম্যান্সেও। দিমুথ করুনারত্নেকে হুট করে বিশ্বকাপের আগে দেওয়া হয়েছিল শ্রীলঙ্কার অধিনায়কত্ব, সেটিতে তিনি থিতু হচ্ছেন ভালভাবেই। আর নিয়মিত অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার অনুপস্থিতিতে এ সিরিজের আগে দায়িত্ব পাওয়া তামিম ব্যস্ত তার বোল্ড-রহস্য সমাধানে। 

    সব কিছু মিলিয়ে শেষ ওয়ানডের জয় বাংলাদেশকে দিতে পারে সান্ত্বনা। সেটা পাবে তারা? 


    রঙ্গমঞ্চ
    আর প্রেমাদাসা, কলম্বো

    প্রথম দুই ম্যাচেও সম্ভাবনা ছিল বৃষ্টির, তবে সেটা বাগড়া বাধায়নি শেষ পর্যন্ত। তৃতীয় ম্যাচেও সম্ভাবনা আছে। আগেরদিন বেশ আত্মবিশ্বাসি হয়ে টসে জিতে ব্যাটিং নিয়েছিল বাংলাদেশ, তবে সেই পিচে ব্যাটিংটা সহজ ছিল না খুব একটা। শেষ ম্যাচটা ব্যবহৃত উইকেটে খেলা হলে টস হবে গুরুত্বপূর্ণ। 


    যাদের ওপর চোখ

    মুশফিকুর রহিম  

    প্রথম দুই ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের একমাত্র উজ্জ্বল দিক তিনি। দ্বিতীয় ম্যাচে অল্পের জন্য সেঞ্চুরি পাননি। তবে দুই ম্যাচ মিলিয়ে তাকে সঙ্গ দেওয়ার মতো ছিলেন দুজন- প্রথম ম্যাচে সাব্বির রহমান, পরের ম্যাচে মেহেদি হাসান মিরাজ। এ ম্যাচেও নিজের ফর্মটা ধরে রাখলেন ওপ্রান্তে যুতসই সঙ্গী পাবেন তো তিনি? 

    আকিলা দনঞ্জয়া
    প্রথম ম্যাচে খেলেননি, দ্বিতীয় ম্যাচে সুযোগ পেয়েই দেখিয়েছেন ঝলক। তার আন-অর্থোডক্স বোলিংয়ের বৃত্তে ঘুরপাক খেয়েছে বাংলাদেশ। 

    সম্ভাব্য একাদশ

    ডেড রাবার বলে স্কোয়াডের কিছু ক্রিকেটারকে এ সিরিজে বাজিয়ে দেওয়ার সুযোগটা নিতে পারে শ্রীলঙ্কা।  

    শ্রীলঙ্কা (আগের ম্যাচের একাদশ)- দিমুথ করুনারত্নে (অধিনায়ক), আভিশকা ফার্নান্ডো, কুসাল পেরেরা, কুসাল  মেন্ডিস, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস, ধনঞ্জয়া ডি সিলভা, লাহিরু থিরিমান্নে, ইসুরু উদানা, নুয়ান প্রদিপ, আকিলা দনঞ্জয়া, লাহিরু কুমারা

    এ সিরিজে এখন পর্যন্ত ম্যাচ খেলেননি বাংলাদেশের তিনজন- ফরহাদ রেজা, তাসকিন আহমেদ ও এনামুল হক। 

    বাংলাদেশ (আগের ম্যাচের একাদশ)- তামিম ইকবাল (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ মিঠুন, মুশফিকুর রহিম (উইকেটকিপার), মাহমুদউল্লাহ, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন, মেহেদি হাসান, শফিউল ইসলাম, তাইজুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান

    সংখ্যার খেলা 

    • ২৮- ৩ বা এর অধিক ম্যাচ হয়েছে এমন ২৮টি সিরিজে এর আগে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে বাংলাদেশ, শেষ এ বছর নিউজিল্যান্ডের মাটিতে
    • ১১০- সিরিজ শুরুর আগে ৭০০০ রান পূর্ণ করতে তামিমের প্রয়োজন ছিল ১২৯ রান, দুই ম্যাচ মিলিয়ে তিনি করতে পেরেছেন ১৯ রান। ফলে মাইলফলক ছুঁতে তার প্রয়োজন আরও ১১০ রান। 


    তারা বলেন 

    Image may contain: one or more people and text
    নিজের ফর্ম নিয়ে বলছেন তামিম