• ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
  • " />

     

    • ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ

    সিজন প্রিভিউ: প্রিমিয়ার লিগে গার্দিওলার 'হ্যাটট্রিক' হাতছানি

    গত মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটিকে রীতিমত অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি। একই মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ এবং ইএফএল কাপ জিতে ‘ট্রেবল’ পূরণ করেছে পেপ গার্দিওলার দল। টানা দু'বার প্রিমিয়ার লিগ জেতা সিটিকে হাতছানি দিচ্ছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পর দ্বিতীয় ক্লাব হিসেবে লিগ জেতার 'হ্যাটট্রিক' পূরণ।কমিউনিটি শিল্ডে লিভারপুলকে হারিয়ে নতুন মৌসুমের শুরুটা শিরোপা দিয়েই করেছে ‘সিটিজেন’রা। ইংল্যান্ডের সেরা দল তারা, কিন্তু ইউরোপে এখনও সাফল্যের মুখ দেখেনি সিটি। নতুন মৌসুমের আগে তাই সিটির লক্ষ্য হয়তো ইংল্যান্ডের মত ইউরোপেও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করা।

     

    যারা এলেন, যারা গেলেন

    এবারের গ্রীষ্মকালীন দলবদলটা দুর্দান্ত কেটেছে সিটির। ট্রান্সফার রেকর্ড ভেঙ্গে ৭০ মিলিয়ন ইউরোতে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ থেকে রদ্রিকে দলে নিয়েছে তারা। স্পেনে ’নতুন বুস্কেটস’ ভাবা হচ্ছে তাকেই। দলে এসেছেন পর্তুগিজ রাইটব্যাক হোয়াও ক্যান্সেলো। সিটির একাদশে তেমন সুযোগ না পাওয়া দানিলোর সাথে ৩০ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে তাকে দলে এনেছে সিটি। কুরবানির সময়ে এমন ট্রান্সফারে সিটিকে তাই ‘ভাই জিতসেন’ বলাই যায়। বেনজামিন মেন্ডির ইনজুরি সমস্যার কারণে পিএসভি আইন্দহোভেনের লেফটব্যাক অ্যাঞ্জেলিনোকে এনেছেন গার্দিওলা। ডেডলাইন ডে-তে ডার্বি কাউন্টি গোলরক্ষক স্কট কার্সন। সিটির সাথে ১১ বছরের গাঁটছাড়া ছিন্ন করে আন্ডারলেখটে প্লেয়ার-ম্যানেজার হিসেবে ফিরে গেছেন অধিনায়ক ভিনসেন্ট কম্পানি।

     

     

    যা জানা আছে

    সিটির স্কোয়াড এবং গার্দিওলার ক্ষুরধার ট্যাকটিক্যাল মস্তিষ্ক। প্রিমিয়ার লিগে স্কোয়াড ডেপথ এবং ফুটবলারদের সামর্থ্যের বিচারে খুব সম্ভবত সবচেয়ে শক্তিশালী সিটিই। ইলকে গুন্ডোয়ানের ইনজুরি এবং ফার্নান্দিনহোর বয়সের কথা মাথায় রেখেই রদ্রিকে এনেছে তারা। কমিউনিটি শিল্ডে সিটির হয়ে অভিষেকেই নিজেকে চিনিয়েছেন রদ্রি। গত মৌসুমে সাবেক অধিনায়ক ভিনসেন্ট কম্পানি ইনজুরিতে থাকার সময় ফার্নান্দিনহোকে সেন্টারব্যাকেও খেলিয়েছেন গার্দিওলা। রদ্রি আসায় এবার একই পদ্ধতি আবারও অবলম্বন করতে পারবেন তিনি। সিটির ফুটবলারদের একাধিক রোলে খেলে পারার সামর্থ্য সিটির স্কোয়াডে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। এই কৃতিত্বও অবশ্য অনেকাংশে গার্দিওলারই। বায়ার্ন মিউনিখেও হাভি মার্টিনেজকে রক্ষণে এবং ফিলিপ লামকে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে খেলিয়েছিলেন তিনি। সেন্টারব্যাক বা লেফটব্যাক- দু’খানেই খেলতে পারেন আয়মেরিক লাপোর্তে এবং ওলেগজান্ডার জিনচেঙ্কো। মেন্ডির ইনজুরি সেজন্য হয়তো খুব একটা ভোগাবে না তাদের।

    লিগামেন্ট ইনজুরিতে পড়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য মাঠের বাইরে চলে যাওয়া লিরয় সানের পজিশন নিয়েও চিন্তায় ভুগতে হচ্ছে না সিটিকে। বের্নার্দো সিলভা এবং রিয়াদ মাহরেজের দুজনই খেলতে পারেন যেকোনও উইংয়েই। সেন্টারব্যাক হিসেবে খেলার সম্ভাবনা বেশি লাপোর্তে এবং নিকোলাস অটামেন্ডির। মেন্ডির অনুপস্থিতিতে জিনচেঙ্কো বা অ্যাঞ্জেলিনোরই লেফটব্যাকে খেলার সম্ভাবনা বেশি। রাইটব্যাকে অদলবদল করে খেলবেন কাইল ওয়াকার এবং ক্যান্সেলো। গত মৌসুমে সিটির হয়ে নজর কেড়েছিলেন ফিল ফোডেন। লিওনেল মেসি বা আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা নয়, কোচিং করানো ফুটবলারদের মধ্যে ফোডেনকেই সবচেয়ে প্রতিভাবান বলেছেন গার্দিওলা। প্রাক-মৌসুমেও সিটির হয়ে নিয়মিত চিলেন তিনি।গার্দিওলার দলে এই মৌসুমে হয়তো আরও ধারাবাহিকভাবে দেখা যাবে তাকে।

    গার্দিওলার ট্যাকটিক্স নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। স্টার্লিংয়ের উত্থানের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান তারই। ৪-৩-৩ ফর্মেশনে দল সাজালেও রক্ষণে ৪-৫-১ এবং আক্রমণে ৩-৪-২-১ এর মত কুশলী ফর্মেশন ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করে আসছেন। ইয়ুর্গেন ক্লপ ছাড়া সিটিকে আটকানোর সামর্থ্য হয়তো কারো নেই এবারও। আর দল যত ধারাবাহিকই থাকুক, যত শিরোপাই জিতুক; প্রতি ম্যাচেই ফুটবলারদের সেরাটাই বের করতে আনতে চান গার্দিওলা। সেক্ষেত্রে ভাল না করলে একাদশ থেকে ছিটকে যেতেও সময় লাগবে না কারোই। সিটির ধারাবাহিকতার এই রহস্য আগামী মৌসুমেও বজায় থাকার সম্ভাবনা প্রবল।

     

     

    যা নিয়ে সংশয়

    প্রিমিয়ার লিগে সেরা দল হিসেবে নিজেদের আগেই প্রতিষ্ঠিত করেছে তারা। কিন্তু চ্যাম্পিয়নস লিগে এখনও সেরকম কোনও সাফল্য নেই তাদের। নতুন মৌসুমের আগে ইউরোপে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দেওয়াই হয়তো সিটির অন্যতম লক্ষ্য। কিন্তু গার্দিওলার ইতিহাস বলছে অন্য কথা। চ্যাম্পিয়নস লিগের চেয়ে নিজেদের লিগের প্রতিই কিছুটা হলেও বেশি মনযোগী ছিল বার্সেলোনা এবং বায়ার্ন মিউনিখ। সিটিতেও গত তিন বছরেও লিগই টার্গেট করেছিলেন তিনি।

    কিন্তু টানা দু’বার লিগ জেতায় আর চ্যাম্পিয়নস লিগে ভাল করার চ্যালেঞ্জ থাকায় সিটির ফুটবলারদের ফোকাস হয়তো ঝুঁকতে পারে ইউরোপের দিকেই। স্কোয়াড, ট্যাকটিক্সের চেয়ে এদিকটা নিয়ে হয়তো বেশি সংশয় থাকবে সিটিকে নিয়ে।

     

    শেষ পাঁচ মৌসুমের সিটি

    ২০১৪-১৫: ২য়

    ২০১৫-১৬: ৪র্থ

    ২০১৬-১৭: ৩য়

    ২০১৭-১৮: চ্যাম্পিয়ন

    ২০১৮-১৯: চ্যাম্পিয়ন

     

     

    গার্দিওলার অধীনেই ১০০ পয়েন্ট নিয়ে প্রিমিয়ার লিগ জেতা একমাত্র দল বনে গিয়েছিল সিটি। গত দুই মৌসুমে শুধু শিরোপা নয়, মাঠের ফুটবলের বিচারেও তাদের ধারেকাছে ছিল কেবল লিভারপুল। এবারও আরও নিজেদের স্কোয়াডকে আরও শক্তিশালী করেছে সিটি, লক্ষ্য প্রিমিয়ার লিগের মত চ্যাম্পিয়নস লিগেও সাফল্য পাওয়া। বার্সার হয়ে ট্রেবল আগেও জিতেছেন গার্দিওলা, এবার দেখার বিষয়; সিটির হয়ে ইতিহাস পুনরাবৃত্তি করতে পারেন কি না।

     

    প্যাভিলিয়নের প্রেডিকশন: দ্বিতীয় (টানা দু’বার প্রিমিয়ার লিগ জেতায় এবার চ্যাম্পিয়নস লিগের দিকে ফোকাস কিছুটা হলেও ঝুঁকে যেতে পারে সার্জিও আগুয়েরোদের। এই সুযোগটাই হয়তো নেবে লিভারপুল। গতবার অল্পের জন্য লিভারপুলকে টপকে গিয়েছিল সিটি, এবার হয়তো আর শেষ হাসি হাসা হচ্ছে না গার্দিওলার দল)।