• ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
  • " />

     

    সিজন প্রিভিউ: এবার পা হড়কানোর সুযোগ নেই এমেরির আর্সেনালের

    আর্সেন ওয়েঙ্গারের অধীনে একটা সময় চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলা রুটিনই বানিয়ে ফেলেছিল আর্সেনাল। কিন্তু গত দুই মৌসুমে ইউরোপা লিগই হয়েছে ‘গানার’দের গন্তব্য। ওয়েঙ্গার পরবর্তী যুগে নিজের প্রথম মৌসুমে আর্সেনালকে ইউরোপা লিগের ফাইনালেও নিয়ে গিয়েছিলেন উনাই এমেরি, কিন্তু ফিরতে হয়েছে খালি হাতেই। নতুন মৌসুমের আগে চ্যাম্পিয়নস লিগে আর্সেনালকে ফিরিয়ে আনাই হয়তো এমেরির মূল চ্যালেঞ্জ। 

     

    যারা এলেন, যারা গেলেন

    এবারের গ্রীষ্মকালীন দলবদলে সবচেয়ে বড় চমকের নাম খুব সম্ভবত আর্সেনাল। দলবদলের শুরুতে এমেরিকে খরচ করার জন্য মাত্র ৫০ মিলিয়ন ইউরো দেবে আর্সেনাল, জানিয়েছিল দ্য গার্ডিয়ান এবং বিবিসি। কিন্তু সেসব গুজব উড়িয়ে নিজেদের ট্রান্সফার রেকর্ড ভেঙ্গে লিলে থেকে ৮০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে ফরোয়ার্ড নিকোলাস পেপেকে এনেছে তারা। দলে এসেছেন ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি। রিয়াল মাদ্রিদ থেকে দানি সেবায়োসকে ধারে এনেছে ‘গানার’রা। এতদিন রক্ষণ নিয়ে রক্ষণ নিয়ে দুশ্চিন্তায়ই ভুগতে থাকা আর্সেনাল এবার নিজেদের রক্ষণভাগ শক্তিশালী করেছে বেশ ভালমতই। ডেডলাইন ডে-তে যোগ দিয়েছেন স্কটিশ ফুলব্যাক কিয়েরন টিয়েরনি এবং সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার ডেভিড লুইজ। ৩০ মিলিয়ন ইউরোতে সেন্ট এঁতিয়েন থেকে ফ্রেঞ্চ ডিফেন্ডার উইলিয়াম সালিবাকেও দলে নিয়েছে তারা, অবশ্য আগামী মৌসুম সেন্ট এঁতিয়েনেই তাকে ধারে পাঠিয়েছে এমেরির দল। 

    প্রায় ১৫ বছর আর্সেনালে কাটানোর পর এবার এভারটনে যোগ দিয়েছেন অ্যালেক্স ইওবি। ডার্বি কাউন্টিতে পাড়ি জমিয়েছেন ক্রিশ্চিয়ান বিয়েলিক, আর্সেনাল ছেড়ে বোর্দোতে যোগ দিয়েছেন লঁরেন্ত কসিয়েলনি। ফ্রি ট্রান্সফারে ক্লাব ছেড়েছেন অ্যারন রামসি এবং ড্যানি ওয়েলবেক। গত মৌসুম নাপোলিতে ধারে কাটানোর পর এবার কার্লো আঞ্চেলত্তির দলে পাকাপাকিভাবেই যোগ দিয়েছেন ডেভিড ওসপিনা। 

     

     

    যা জানা আছে

    গত মৌসুমে আর্সেনালের (৭৩) চেয়ে বেশি গোল করেছিল কেবল লিভারপুল (৮৯) এবং ম্যানচেস্টার সিটি (৯৫)। পেপেকে দলে নিয়ে আক্রমণভাগের শক্তি আরও বাড়িয়েছে ‘গানার’রা। দলে যোগ দিয়েছেন সেবায়োসের মত কুশলী মিডফিল্ডার। গোল করা নিয়ে এবার হয়তো খুব একটা ভাবতে হবে না আর্সেনালকে। এবারের প্রাক-মৌসুমেও গোল করা নিয়ে খুব একটা ভুগতে হয়নি তাদের, অবামেয়াং-লাকাজেতরা ফর্মে থাকায় বায়ার্ন মিউনিখকেও হারিয়েছে তারা। গত মৌসুমে মোহামেদ সালাহ এবং সাদিও মানের সাথে প্রিমিয়ার লিগের গোল্ডেন বুট জেতা অবামেয়াং ধার হারাননি এতটুকু। তার গোলেই প্রিমিয়ার লিগের প্রথম ম্যাচে নিউক্যাসেল ইউনাইটেডকে হারিয়েছিল এমেরির দল।

    মিডফিল্ডের সমস্যা নিয়েও গত মৌসুমে বেশ ভুগতে হয়েছিল আর্সেনালকে। লুকাস তোরেইরা, গ্রানিত শাকা, মাতেও গুয়েনদুজি- তিনজনই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। সেবায়োস দলে আসায় মাঝমাঠে ওজিলের সাথে ক্রিয়েটিভ আরও একজনকে পেল আর্সেনাল। গোল করা, করানো, চকিত সুযোগসন্ধানী পাস বাড়ানো- সবদিক দিয়ে সমান পারদর্শী সেবায়োস। প্রথম ম্যাচে মাঠে না নামলেও মৌসুমে আর্সেনালের একাদশে ভালভাবেই সুযোগ পাবেন সেবায়োস, জানিয়েছেন এমেরি।

    সেবায়োস থাকায় রক্ষণের সামনে ‘ডিপ লাইং মিডফিল্ডার’ হিসেবে নিজেদের সেরাটাই হয়তো দিতে পারবেন শাকা বা তোরেইরা। আর দু’পাশে পেপে, অবামেয়াংয়ের মাঝে ওজিলের খেলার সম্ভাবনাই বেশি। সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবে রক্ষণে সাহায্য করার সাথে আক্রমণেও পাস বাড়ানোই হবে সেবায়োসের কাজ। এমেরির দুই পছন্দের ফর্মেশন ৪-৩-৩ বা ৪-২-৩-১; দুই ফর্মেশনেই মানিয়ে নিতে পারবেন সেবায়োস সহ অন্যান্যরা। গতবারের মত এই মৌসুমেও গোল করার তালিকার শুরুর দিকেই আর্সেনালের নাম থাকলে হয়তো অবাক হওয়ার অবকাশ থাকছে না খুব একটা।

     

     

    যা নিয়ে সংশয়

    আক্রমণে লাকাজেত, অবামেয়াংদের সাফল্য মুদ্রার এপিঠ হলে আর্সেনালের জন্য মুদ্রার ওপিঠ তাদের রক্ষণভাগ। ২০১৮-১৯ প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষ ১০ দলের মধ্যে আর্সেনালের (৫১) চেয়ে বেশি গোল খেয়েছিল কেবল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড (৫৪) এবং ওয়েস্ট হাম ইউনাইটেড (৫৫)। ফুলব্যাকদের চেয়ে সেন্টারব্যাকদের ফর্মই বেশি দুশ্চিন্তার কারণ ছিল এমেরির জন্য। রব হোল্ডিং বা স্কোদরান মুস্তাফিদের ব্যাপক সমালোচনাই সইতে হয়েছিল গতবার।

    দলে নতুন যোগ দেওয়া লুইজকে নিয়েও খুব একটা আশার আলো দেখছে না ‘গানার’ সমর্থকেরা। ক্যারিয়ারে সেন্টারব্যাক হিসেবে নিজের কাজটা ঠিকমত করতে প্রায়ই ব্যর্থ হয়েছেন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার, সুযোগ পাননি ব্রাজিলের কোপা আমেরিকা জেতা স্কোয়াডেও। রক্ষণ ছেড়ে ওপরে উঠে আসা, অহেতুক ফাউল করা- সেন্টারব্যাক লুইজের সমালোচনা করেছিলেন তারই দুই সাবেক ম্যানেজার আন্তোনিও কন্তে এবং মরিজিও সারি। এবার তাই হয়তো সেন্টারব্যাকে এমেরির প্রথম পছন্দ হবেন ক্যালাম চেম্বার্স এবং সক্রেটিস পাপাস্টাথোপুলাস। রক্ষণে কেবল লেফটব্যাক নিয়েই হয়তো তেমন ভাবতে হচ্ছে না এমেরিকে। টিয়েরনি, সিড কোলাসিনাচ থাকায় সেন্টার ব্যাকে দেখা যেতে পারে নাচো মনরেয়ালকেও। 

    ইনজুরির কারণে গত মৌসুমের প্রায় পুরোটাই বাইরে থাকতে হয়েছিল রাইটব্যাক হেক্টর বেলেরিনকে, এখনও মাঠে ফিরতে পারেননি তিনি। তার জায়গায় খেলছেন অ্যাইন্সলি মেন্টল্যান্ড-নাইলস, নিজেকে এখনও চেনাতে পারেননি তিনি। রক্ষণের সমস্যা সমাধান করতে গত মৌসুমে ৩-৪-৩ বা ৩-৪-১-২ ফর্মেশনেও দল সাজিয়েছিল এমেরি, কিন্তু লাভ হয়নি খুব একটা। ৩-৪-৩ ফর্মেশন খেলা ৪ ম্যাচে ১ জয়ের বিপরীতে আর্সেনাল গতবার হেরেছিল ২ ম্যাচ, অন্যটি হয়েছিল ড্র। সব মিলিয়ে নতুন মৌসুমেও তাই রক্ষণটাই হয়তো আর্সেনালের সবচেয়ে বড় দূর্বলতা। 

     

     

    শেষ পাঁচ মৌসুমের আর্সেনাল

    ২০১৪-১৫: ৩য়

    ২০১৫-১৬: ২য়

    ২০১৬-১৭: ৫ম

    ২০১৭-১৮: ৬ষ্ট

    ২০১৮-১৯: ৫ম

     

    শুধুমাত্র দলবদলের দিক দিয়ে চিন্তা করলে এবার ‘লেটার মার্কস’ই পেয়েছে আর্সেনাল। এবার অপেক্ষা মাঠের পারফরম্যান্সে দলবদলের সাফল্যের প্রতিফলন ঘটানো। গতবার ৫ম হয়ে এবং ইউরোপা লিগ ফাইনাল হেরে চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলার সুযোগ হারিয়েছিল আর্সেনাল। প্রিমিয়ার লিগে প্রথম মৌসুম হওয়ায় তেমন জবাবদিহি করতে হয়নি এমেরিকে। কিন্তু এবার আর পেছনে ফিরে তাকানোর সুযোগ নেই তার। এমেরি নিজেও জানেন, এবার চ্যাম্পিয়নস লিগে আর্সেনালকে ফেরাতে না পারলে হয়তো মাত্র দু’বছর পরই বেজে উঠবে বিদায়ঘণ্টা।

     

    প্যাভিলিয়নের প্রেডিকশন: চতুর্থ