• " />

     

    গ্রুপিং কেমন হলো ২৪ দলের ইউরোতে?

     

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মুখোমুখি হয়েছিলো জার্মানি আর পোল্যান্ড; এবারের ইউরোতেও একই গ্রুপে মুখোমুখি হচ্ছে দেশ দুইটি। একই গ্রুপে পড়েছে গ্রেট ব্রিটেনের দুই দেশ ইংল্যান্ড আর ওয়েলস। স্পেন-ক্রোয়েশিয়া-তুরস্ক-চেক প্রজাতন্ত্রের গ্রুপ 'ডি' আর ইতালি-বেলজিয়াম-সুইডেন-আয়ারল্যান্ডকে নিয়ে তৈরি গ্রুপ 'ই'-তেও দেখা যাবে জিভে জল এনে দেয়ার মতো বেশকিছু ম্যাচ! 

    আগামী বছর ১০ জুন ফ্রান্সে অনুষ্ঠিতব্য ইউরো ২০১৬-র ড্র হয়ে গেলো প্যারিসে। মাত্র ক’দিন আগেই সন্ত্রাসী আক্রমণের শিকার শহরটিতে আবার ফুটবলের হাওয়া। অবশ্য সহজ গ্রুপেই পড়েছে স্বাগতিক দেশটি। ফ্রান্স আর রোমানিয়ার ম্যাচ দিয়ে আগামী ১০ জুন স্ত্যাদে ডি ফ্রান্সে পর্দা উঠবে ইউরোপসেরা হওয়ার এই মাসব্যাপী টুর্ণামেন্টের।  

    প্রথমবারের মতো ২৪টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবারের ইউরো। বদলেছে টুর্ণামেন্ট ফরম্যাট-ও। ছয়টি গ্রুপের প্রতিটি থেকে প্রথম দুইটি দল সরাসরি যাবে নক-আউট রাউন্ডে। সাথে গ্রুপে তৃতীয় হওয়া ৬টি দল থেকে সেরা চার দল যোগ দিবে তাদের সাথে। প্রথমবারের মতো ইউরো তাই দেখবে 'রাউন্ড অফ সিক্সটিন'। 

    ইউরোপ সেরা হওয়ার এই লড়াইয়ে জিতবে কে এবার? কে কেমন গ্রুপে পড়লো? গ্রুপ অফ ডেথ কোনটি? জার্মানি কি পারবে বিশ্বকাপের পর ইউরো চ্যাম্পিয়ন-ও হতে? নাকি স্বাগতিক ফ্রান্স ২০০০ সালের পর আবার জিতবে ইউরো? নাকি পরপর তিনবার ইউরোপ সেরা হতে পারে স্পেন? চলুন এক নজরে দেখে নেয়া যাক গ্রুপগুলোর হালচাল। 



    গ্রুপ এঃ
    ফ্রান্স, রোমানিয়া, আলবেনিয়া, সুইজারল্যান্ড

    এই গ্রুপের ফেভারিট তো বটেই, পুরো টুর্নামেন্টেরই ফেভারিট দুইবারের ইউরোজয়ী স্বাগতিক ফ্রান্স। দিদিয়ের দেশম বাহিনী চাইবে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই পরের রাউন্ডে যেতে। তবে সুইজারল্যান্ডের সাথে তাদের লড়াইটা হাড্ডাহাড্ডি হতে পারে। গ্রুপের অন্য দুই দল রোমানিয়া আর প্রথম বারের মতো ইউরো খেলতে আসা আলবেনিয়ার টুর্ণামেন্টে বেশিদূর যাওয়ার সামর্থ্য নেই তেমন। 


    গ্রুপ বিঃ
    ইংল্যান্ড, রাশিয়া, ওয়েলস, স্লোভাকিয়া

    বাছাইপর্বের ১০ ম্যাচের সবক'টিতে জয় পাওয়া একমাত্র দল ইংল্যান্ড বেশ ছন্দেই রয়েছে। নতুন দুই স্ট্রাইকার জেমি ভার্ডি আর হ্যারি কেনের উপর ভরসা করে তাই প্রতিবারের মতো নতুন স্বপ্ন দেখতেই পারে কখনো ইউরো না জেতা ইংলিশরা। অন্যদিকে গ্যারেথ বেল - অ্যারন রামসে- জো অ্যালানরা চাইবে ১৯৫৮ বিশ্বকাপের পর ওয়েলসের আবারো বড় কোনো টুর্ণামেন্টে প্রত্যাবর্তনটা স্মরণীয় করে রাখতে। সুইডেনকে টপকে সরাসরি ইউরোতে খেলতে আসা রাশিয়া আগামী বিশ্বকাপের স্বাগতিক দেশ হওয়ায় বাড়তি নজর থাকবে তাদের উপরও।

    গ্রুপ সিঃ
    জার্মানি, ইউক্রেন, পোল্যান্ড, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড

    বিশ্বকাপ জয়ীদের পরের ইউরো জয়ের ‘ঐতিহ্য’টা ধরে রাখতে মুখিয়েই থাকবে জোয়াকিম লো-র শিষ্যরা। ১৯৯৬ সালের পর আবারো ইউরো ট্রফি ঘরে তোলার মিশনে জার্মান স্কোয়াডে রয়েছে নয়্যার-মুলার-ওজিল-শোয়েনস্টাইগার-রিউস-গোটশেদের মতো প্রতিভারা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দুই প্রতিপক্ষ জার্মানি-পোল্যান্ড ম্যাচটি ছড়াবে আলাদা উত্তাপ। বাছাই পর্বে ১৩ গোল করা বায়ার্ন স্ট্রাইকার রবার্ট লেভানডফস্কির উপরেই অনেকটা নির্ভর করবে পোলিশদের ভাগ্য। গত ইউরোর আয়োজক ইউক্রেনের সাথে এই গ্রুপে থাকছে প্রথমবারের মতো ইউরো খেলতে আসা নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড।

     

    গ্রুপ ডিঃ
    স্পেন, চেক প্রজাতন্ত্র, তুরস্ক, ক্রোয়েশিয়া

    গত বিশ্বকাপের ভরাডুবির প্রতিশোধ নিতে ইউরোতে ভালো কিছু করার বিকল্প নেই স্প্যানিশ কোচ ভিসেন্তে দেল বস্কের সামনে। কিন্তু টানা তৃতীয়বারের মতো ইউরো জয় মোটেই সহজ হবেনা লা রোজাদের জন্য। তবে গ্রুপ পর্বের বাধা সহজেই টপকে যাবার কথা ক্যাসিয়াস-রামোস-পিকে-আলবাদের। স্প্যানিশ মিডফিল্ডে আছেন ইনিয়েস্তা-ফ্যাব্রেগাস-বুসকেটস-মাতা-ক্যাজোরলা-থিয়াগোর মতো খেলোয়াড়েরাও। ২০০২ বিশ্বকাপ আর ২০০৮ ইউরো’র সেমিফাইনালিস্ট তুরস্ক হয়তো আবারো কোন চমক দেখাতে পারে এই গ্রুপে। তবে পারফরম্যান্সের বিচারে রাকিটিচ-মড্রিচদের ক্রোয়েশিয়াই এগিয়ে থাকবে তুর্কিদের থেকে। গ্রুপের অন্য দল চেক প্রজাতন্ত্রও মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে অন্যদের জন্য। সবমিলিয়ে এই গ্রুপ থেকে জমজমাট কিছু লড়াই-ই দেখতে পাবে ফুটবলপ্রেমীরা।

    গ্রুপ ইঃ
    বেলজিয়াম, ইতালি, আয়ারল্যান্ড, সুইডেন

    গ্রুপ অফ ডেথ? ৪ বার বিশ্বকাপ জয়ী ইতালি কি পারবে দ্বিতীয়বারের মতো ইউরো ঘরে তুলতে? গতবার শিরোপার খুব কাছাকাছি গিয়েও ফিরে আসতে হয়েছিলো খালি হাতে তাদের। এবারের কাজটাও বেশ কঠিনই হবে পরপর দুইবার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়া আজ্জুরিদের। গত বিশ্বকাপের অনেকেরই 'ডার্ক হর্স' বেলজিয়াম দল এবার আরো পরিপক্ক; কিন্তু হ্যাজার্ড-ফেলাইনিদের সাম্প্রতিক অফ-ফর্ম চিন্তার ভাঁজ ফেলবে মার্ক উইলমটসের কপালে। অবশ্য ভিনসেন্ট কোম্পানি- ডি ব্রুইন-কুর্তোয়ারা যেকোনোসময় বদলে দিতে পারবেন ম্যাচভাগ্য। অন্য দিকে ইব্রাহিমোভিচের সুইডেনও ছেড়ে কথা বলবে না কাউকে! আবার, আয়ারল্যান্ডের সাথেও পয়েন্ট খোয়াতে পারে যেকোনো দল। 

    গ্রুপ এফঃ
    পর্তুগাল, আইসল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরী

    তুলনামুলক সহজ গ্রুপেই পড়েছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। বাছাইপর্ব-সহ ইউরোতে সবচেয়ে বেশী (২৬) গোলের মালিক এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকার উপর ভর করেই পর্তুগীজরা টুর্ণামেন্টে যেতে চাইবে অনেক দূর। প্রথমবারের মতো ইউরো খেলতে আসা আইসল্যান্ড অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল হলেও অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরী চাইবে শেষ ষোলোর টিকেট কাটতে। 

     

    ****


    ফ্রান্সের ১০টি ভেন্যুতে হবে ইউরোর পঞ্চাদশ আসর। অন্যান্যবারের মতো ৩১টি ম্যাচের বদলে এবার টুর্ণামেন্টে ম্যাচসংখ্যা ৫১! ১০ জুলাই স্ত্যাদে ডি ফ্রান্সে-ই পর্দা নামবে ইউরো '১৬ আসর, ঠিক যেখান থেকে শুরু হয়েছিলো এক মাস আগে! তার মাঝের সময়টা শুধুই উত্তেজনায় ঠাসা। 
     

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন